‘কিশোর গ্যাংয়ের সিনিয়র-জুনিয়র’ দ্বন্দ্বে সবজি বিক্রেতা হৃদয় খুন: পুলিশ
পুলিশের দাবি, কিশোর গ্যাং সেভেন স্টার গ্রুপের হামলায় হৃদয় নিহত হয়।
চট্টগ্রামে সবজি বিক্রেতা মো হৃদয় (১৬) খুনের ঘটনায় ৮ জনকে আটকের তথ্য দিয়ে পুলিশ বলেছে, ‘কিশোর গ্যাংয়ের সিনিয়র-জুনিয়র’ বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
খুলশী থানার পাহাড়তলী ওয়্যারলেস কলোনি ৪ নম্বর লেইনের তালতলা এলাকায় মঙ্গলবার রাতে ওই হত্যাকাণ্ডের বুধবার দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ওই ৮ জনকে আটক করে পুলিশ।
পাহাড়তলী ওয়্যারলেস কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিম। আটককৃতদের মধ্যে ৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক বলেও জানান তিনি।
ওসি আবদুর রহিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হত্যার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আটককৃতদের বিষয়ে যাচাই বাছাই শেষে তাদের আসামি করা হবে।”
পাহাড়তলীর ওয়্যারলেস কলোনি ৪ নম্বর লেইনের তালতলা এলাকায় মঙ্গলবার রাতে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে খুন করা হয় কিশোর হৃদয়কে। হৃদয় ফুটপাতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবার সঙ্গে সবজি বিক্রি করতেন। স্থানীয় একটি ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ।
ওসি আবদুর রহিম বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে ওই এলাকায় ফাইভ স্টার ও সেভেন স্টার নামে কিশোর গ্যাংয়ের দুটি গ্রুপ আছে। এই দুই গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী। নিহত হৃদয় ফাইভ স্টার গ্রুপের সদস্য। দুই পক্ষের সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধের জেরে সেভেন স্টার গ্রুপের হামলায় সে নিহত হয়।”
নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাতে পুলিশ বলছে, মঙ্গলবার রাতে বাসায় ভাত খাওয়ার সময় কামরুল নামে এক যুবক হৃদয়কে বাসা থেকে ডেকে নেন স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় এক নেতার কাছে। ওই নেতা এলাকায় বিভিন্ন কিশোর গ্যাংসহ চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রক। তার কার্যালয় থেকে বাসায় ফেরার পথে হৃদয়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ এরইমধ্যে কামরুলকে আটক করেছে।
তবে অনুসন্ধানে যে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার নাম আসছে তার নাম এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ।
ওসি আবদুর রহিম বলেন, “অটোরিকশা করে বাসায় ফেরার পথে পথরোধ করে হৃদয়কে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে জখম করা হয়। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল থেকে তথ্য পেয়ে খুলশী থানা পুলিশ লাশ হেফাজতে নেয়।
