Published : 24 Dec 2023, 09:22 PM
ঠিকাদারদের জবাবদিহিতায় আনার ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, নিম্নমানের কাজ করা হলে বিল দেয়া হবে না।
রোববার নগরীর থিয়েটার ইন্সটিটিউটে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) ষষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদের ৩৫তম সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “কোনো ঠিকাদার কাজ নিয়ে কাজ ফেলে রাখতে পারবে না এবং নিম্নমানের কাজও করতে পারবে না। কেউ এধরনের কাজ করলে ফাইনাল বিল দেব না।
“কাজ করলে কাজের মালামাল এবং কাজ শেষে গুণগত মান পরীক্ষায় আমরা ল্যাব করে দিয়েছি। সেখান থেকে পরীক্ষা করে তারপর বিল দেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ক্ষমা নাই, কারো কোনো তদবিরও শুনব না।”
সভায় প্রকৌশল বিভাগের উদ্দেশে মেয়র বলেন, “শহরের সৌন্দর্য ও নিরাপত্তার স্বার্থে মিড আইল্যান্ডগুলো উচুঁ করে নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে মানুষ যত্রতত্র রাস্তা পারাপার করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় না পড়ে। প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দিচ্ছি ফেব্রুয়ারির মধ্যে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে জেব্রা ক্রসিং নির্মাণ করুন।
“আমাদের রাস্তাগুলো ১০ থেকে ১২ টনের উপযোগী করে বানানো। কিন্তু অনেকে অবৈধভাবে ৩০ থেকে ৪০ টন মাল লোড করে গাড়ি চালানোয় অনেক রাস্তা ভেঙে গেছে। এ ধরনের সড়ক দ্রুত সংস্কার করুন।”
মেয়র রেজাউল বলেন, “নির্বাহী প্রকৌশলীদের অধীনে সুপারভাইজাররা আছেন, সাব-এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়াররা আছেন। অথচ রাস্তায় গর্ত হয়ে থাকে, ফুটপাতের স্ল্যাব ভেঙে গেছে, এগুলো আমাকে জানতে হয় হোয়াটসঅ্যাপে নাগরিকদের মেসেজ দেখে। এসব বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়না কেন?
“বিদ্যুৎ বিভাগের সুপারভাইজাররা কে কোন এলাকায় দায়িত্বে আছেন তা কাউন্সিলরদের জানিয়ে দিবেন। মাসের পর মাস লাইট কেন বন্ধ থাকবে? দায়িত্ব পালনে কারো গাফিলতি সহ্য করা হবে না। কোনো প্রকল্পের কাজ যাতে নিম্নমানের না হয় সে বিষয়ে কাউন্সিলরদের নজর রাখতে হবে।”
নগরীর সৌন্দর্য রক্ষায় তারের জঞ্জাল অপসারণ করতে হবে মন্তব্য করে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব বাণিজ্যের কেন্দ্রে রূপান্তরে অনেকগুলো মেগা প্রকল্প নিয়েছেন। চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও তারের জঞ্জাল উন্নয়নের সৌন্দর্য বিনষ্ট করছে। অনেক সময় এ তারের জন্য দুর্ঘটনা ঘটছে।
“এজন্য আমি ডিশ-ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের সাথে সভায় দুটি প্রস্তাব দিয়েছি। হয় আপনারা পৃথক খুঁটি তৈরি করে ট্রে ব্যবহার করে গুছিয়ে তারগুলো নিন অথবা আমাদের ভূগর্ভস্থ নালা ব্যবহার করে তার নিন।”
সভায় নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) মো. কাজী হুমায়ুন রশীদ বলেন, হকারদের উঠিয়ে দিলেও তারা আবারও বসে যায়। এজন্য মেয়রের নেতৃত্বে সবগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে অভিযান পরিচালনা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নগরীর জিইসি মোড়ে সেন্ট্রাল প্লাজার সামনে ত্রিমুখী সড়কে নিয়মিত দুর্ঘটনা হচ্ছে, যা মোকাবিলায় একটি গোলচত্বর নির্মাণ করা জরুরি। পাশাপাশি নগরীতে পর্যাপ্ত পর্যাপ্ত জেব্রা ক্রসিং নির্মাণ করা জরুরি বলেও মত দেন তিনি।
সভায় সিটি করপোরেশনের সচিব খালেদ মাহমুদ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিব দাশ, সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর এবং বিভাগীয় ও শাখা প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।