চবিতে ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুই মামলা

মামলা দুটিতে সাতজন করে আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Feb 2024, 10:30 AM
Updated : 10 Feb 2024, 10:30 AM

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের সময় গাছের ধাক্কায় পড়ে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর ক্যাম্পাসে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কেএম নুর আহমেদ এবং প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে শনিবার হাটহাজারী থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন বলে জেলা পু্লিশের অতিরিক্ত সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান। 

তিনি বলেন, মামলা দুটিতে সাতজনের করে নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

এর আগে শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিরীণ আখতার বলেছিলেন, হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় তিনটি মামলা হবে। হামলাকারীদের বিষয়ে কোনো তথ্য তিনি ওই সংবাদ সম্মেলনে দেননি। 

বৃহস্পতিবার রাতে নগরী থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেন চৌধুরীহাট স্টেশনের কাছে পৌঁছালে সেখানে একটি ভেঙে পড়া গাছের সাথে ধাক্কা খায় ট্রেনের ছাদে থাকা শিক্ষার্থীরা। তাতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। তাদের ৯ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহতদের মধ্যে তিনজন আছেন আইসিইউতে, যাদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান। 

সহপাঠীরা আহত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত ২টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালেয়ের মূল ফটকে তালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ উপাচার্যের বাসভবনে গিয়ে সেখানে ভাংচুর চালায়। সেসময় বাসভবনে ছিলেন না উপাচার্য শিরীণ আখতার। 

তার পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরে গিয়ে সেখানে থাকা শিক্ষকদের বেশ কয়েকটি বাস ভাংচুর করে। এসময় সেখানে থাকা ২৪টি বাস, ১৫টি মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার ও একটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়।

এরপর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাবেও হামলা চালায়। সেখানে আসবাবপত্র ভাংচুর করে। সেখানে থাকা শিক্ষকরা একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। 

সেই রাতে বিক্ষোভ ও ভাংচুরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রলীগের বিভিন্ন পক্ষের নেতাকর্মীরাও ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

সবশেষ সেদিন রাত একটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক আটকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ দেখায়। এরপর ছাত্রলীগের কয়েকটি পক্ষের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে বিরোধে জড়ালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ওই এলাকা ছেড়ে যায়। পরে রাত ২টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। 

সেদিন রাত ২টায় ক্যাম্পাসে পরিদর্শনে যান উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার। শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলন তিনি বলেছিলেন, রোববার থেকে স্বাভাবিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলবে। 

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)