১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ অবিলম্বে সংস্কারের আশ্বাস অর্থমন্ত্রীর

১৯৮১ সালের ৩ জুন সেসময়ের মন্ত্রিসভা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজকে ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে’ রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Mar 2026, 03:08 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:12 PM

ভূমিকম্পে ফাটল ধরা ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ অবিলম্বে সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জাদুঘরটিকে ‘হেরিটেজ’ ঘোষণার উদ্যোগ নিতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। 

শুক্রবার বেলা ১২টার পর চট্টগ্রামের পুরাতন সার্কিট হাউজের ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ পরিদর্শন করেন অর্থমন্ত্রী। 

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এটা প্রথমত একটা হেরিটেজ প্রপার্টি। অনেক পুরনো ও দৃষ্টিনন্দন একটি ঐতিহাসিক প্রপার্টি। অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলছি, এটার মেনটেইনেন্সের অভাবে স্ট্রাকচারাল অনেকগুলো ইস্যু রয়ে গেছে- আমি যেটা দেখলাম। 

“স্ট্রাকচারাল ইস্যুগুলো ইমিডেয়েট অ্যাড্রেস করা দরকার। কারণ এটা না করে রেনোভেশনের কোন সুযোগ নেই। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষকের এখানে মৃত্যু হয়েছে। তার জাদুঘর এখানে। তার স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা হয়েছে এখানে। তার জন্য এটার গুরুত্ব আরো বেশি।”

তিনি বলেন, “দেশে খুব বেশি হেরিটেজ প্রপার্টি নেই। যেগুলো আছে সেগুলো আমদের মেনটেইন করে ধরে রাখা দরকার। বাংলাদেশের মানুষের আবেগের একটা ব্যপার আছে এখানে। 

“এটার স্ট্রাকচারাল ইস্যুটা অনেক দেরি হয়ে গেছে। ইমিডিয়েটলি করা দরকার। সেটার পর বাকি পরিবর্তনগুলো এখানে নিতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং দায়িত্বে যারা আছেন তাদের সাথে কথা বলব। এটার জরুরি পদক্ষেপ নেয়া দরকার। জাদুঘরের বিষয়গুলো সঠিকভাবে প্রতিস্থাপন করতে হবে।” 

দেশের ইতিহাসে এই জাদুঘরের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, “এটার স্ট্রাকচারাল অবস্থা এত খারাপ যে ভিজিটর আসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যে কোনো সময় যদি একটা ভূমিকম্প হয় এটার একটা থ্রেট রয়ে গেছে। বাংলাদেশের মানুষের জন্য আগামীর ইতিহাসের জন্য এটা ধরে রাখতে হবে। 

“সংস্কৃতি মন্ত্রী এই মাসের শেষে এখানে আসবেন। এটার একটা দ্রুত প্রতিকার আমাদের করতে হবে। এই জায়গাটা যথেষ্ট জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ। অবিলম্বে সংস্কার করে ধরে রাখতে হবে এবং জাদুঘরকে পরিপূর্ণতা দিতে হবে। দুটো কাজই আমরা একসাথে করতে পারি।” 

জাদুঘরটির এমন জরাজীর্ণ দশা কেন জানতে চাইলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “অতীতে এটার প্রতি কোন গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। যেভাবে স্বাধীনতার অনেক কিছু এবং অনেকের তো মূল্যায়ন হয়নি। আমাদের সকলকে মূল্যায়ন করতে হবে।” 

গেল বছরের ডিসেম্বরের ২ তারিখে ভূমিকম্পে জাদুঘর ভবনে ফাটল দেখা দেয় এবং কয়েকটি জায়গায় পলেস্তারার কিছু অংশও খসে পড়ে। এরপর জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।

শুক্রবার অর্থমন্ত্রী পরিদর্শনে এলে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা অর্পিতা দাশ পুপ্তা বলেন, সংস্কার কাজ চলাকালে গত ডিসেম্বরে ভূমিকম্পে জাদুঘরের নিচতলার তিন নম্বর গ্যালারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

সিঁড়ির উপর পলেস্তারা খসে পড়ে ও কয়েকটি দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

“এরপর বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল গত ৩০ জানুয়ারি পরিদর্শন করেছেন। উনারা ৯ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন। আমাদের মন্ত্রী মহোদয় ২৪ মার্চ পরিদর্শনে আসবেন।”

এসময় উপস্থিত বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে অর্থমন্ত্রী জানতে চান জিয়া স্মৃতি জাদুঘরটি ‘হেরিটেজ’ হিসেবে সংরক্ষিত কী না। 

তারা নেতিবাচক জবাব দিলে অর্থমন্ত্রী তাদের জাদুঘরটিকে ‘হেরিটেজ’ ঘোষণার উদ্যোগ নিতে বলেন। পাশাপাশি ভবনের সামনের খোলা জায়গায় বৃক্ষরোপনের পরামর্শ দেন। 

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, ব্রিটিশ আমলে ১৯১৩ সালে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ইংরেজ গর্ভনরের বাসভবন হিসেবে তখন এটি ব্যবহৃত হত। নাম ছিল ‘লাল সাহেবের কুঠি’। পাকিস্তান আমলে ভবনটি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

১৯৮১ সালের ৩ জুন সেসময়ের মন্ত্রিসভা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজকে ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে’ রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।

১৯৯৩ সালের ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ভবনটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের জন্য তখন ভবনটির দায়িত্ব গণপূর্ত অধিদপ্তরকে দেয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এটি পরিচালনা করে। এখানে ৯০২টি স্মারক সংরক্ষিত আছে।

এই স্মারক জাদুঘরটিতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন নিদর্শন রয়েছে। এটি ১২টি গ্যালারি নিয়ে ১৯৯৩ সালে যাত্রা শুরু করে।

১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করেন। ৩ দশমিক ১৭ একর জায়গা নিয়ে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরটির অবস্থান।

আরও পড়ুন-

ভূমিকম্পে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে ফাটল: 'অতি দ্রুত' মেরামতের আশ্বাস

৫-১০ বছরের করণীয় ঠিক করা হচ্ছে: সংস্কৃতি উপদেষ্টা

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের মাঠে 'গ্রিন পার্ক' করতে চান মেয়র

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ মাঠকে 'মুক্তাঙ্গন' ঘোষণার দাবি

বন্ধ হল 'চিটাগাং শিশু পার্ক'

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের পাশে বাণিজ্যিক পার্ক অপসারণের দাবি