চট্টগ্রামের সাবেক ৩ এমপিসহ ১০ জনকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামের চতুর্থ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফার আদালত এ আদেশ দেয়।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে চান্দগাঁও থানার হত্যা মামলায় তিন সংসদ সদস্যসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আদালত।
পুলিশের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার চট্টগ্রামের চতুর্থ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফার আদালত এ আদেশ দেয়।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পিপি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।
সহকারী পিপি ওয়াজেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “১৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছিল। তবে আজ যে ১০ জনকে হাজির করা হয় তাদের বিষয়ে শুনানি হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে শুনানি পরে হবে।”
গ্রেপ্তার দেখানো আসামিদের মধ্যে সাবেক সাংসদ আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন উদ্দিন ও এম আবদুল লতিফসহ ৯ জনকে সকালে আদালতে হাজির করা হয়।
অপর আসামি সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী কাশিমপুর কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেন বলে সহকারী পিপি ওয়াজেদ চৌধুরী জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার দেখানো অন্যরা হলেন- নগরীর এনায়েত বাজার ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সলিমুল্লাহ বাচ্চু, সাবেক কাউন্সিলর রেখা আলম চৌধুরী, উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক জিনাত সোহানা চৌধুরী, উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আকবর আলী, ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. রেজাউল হাসান সবুজ, পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা আবুল বশর ও চান্দগাঁও এলাকার মো. এমরান।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, “ঘটনার সাথে মামলার তদন্তে এই আসামিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। “
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, সরকার পতনের আন্দোরনে গত বছরের ৩ অগাস্ট রাতে নগরীর কদমতলী এলাকার কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে চান্দগাঁও থানার বহদ্দারবাড়ি শাহী জামে মসজিদের সামনে গুলিবিদ্ধ হন দোকানকর্মী মো. শহিদুল ইসলাম শহীদ (৩৭)।
পরে নগরীর বেসরকারি পার্ক ভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় গত বছরের ১৯ অগাস্ট রাতে নিহত শহিদুলের বড় ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নগরীর চান্দগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন।
ওই মামলায় চান্দগাঁও থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন ফরহাদ, সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি মো. তাহসিন, যুবলীগকর্মী জাফরসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছিল।
