Published : 29 Sep 2025, 10:07 PM
চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় চাঁদার দাবিতে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি চালিয়ে এবং শ্রমিকদের মারধর করে ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার উত্তরা হাউজিং সোসাইটি এলাকায় শনিবার সকালে এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন জমি মালিকদের একজন।
যারা চাঁদা দাবি করেছেন, তারা কয়েক মাস আগে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের সহযোগী ইমনের অনুসারী বলে পরিচয় দিয়েছেন।
জমির মালিক জহিরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দিন ১৫ আগেও অটোরিকশা নিয়ে এসে কিছু সন্ত্রাসী ফাঁকা গুলি ছুড়ে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রাখতে বলেছিল।
“এরপর ইমন পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি আমার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন করে তাদের কাছ থেকে নির্মাণ সামগ্রী কেনার কথা বলেন। নির্মাণ সামগ্রী কিনে ফেলা হয়েছে বলায় সে ১৫ লাখ টাকা দাবি করে।
“এরপর শনিবার সকালে একদল সন্ত্রাসী এসে সেখানে ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং শ্রমিকদের মারধর করে। পরে রাতেও তারা শ্রমিকদের সাইট ছেড়ে চলে যেতে হুমকি ধামকি দেয়। শ্রমিকরা আতঙ্কে চলে যাওয়ায় দুই দিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে।”
নির্মাণাধীন ভবনের সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, ১০/১২ জন যুবক চট্টগ্রামের ভাষায় গালিগালাজ করে শ্রমিকদের বের হয়ে যেতে বলছে। তাদের সঙ্গে থাকা কালো প্যান্ট, টি শার্ট, মাথায় কালো টুপি ও মাস্ক পরিহিত একজন হাতে থাকা পিস্তল উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি করছেন।
সন্ত্রাসীরা যখন শ্রমিকদের মারধর করে বের করে দিচ্ছিল, তখন চট্টগ্রামের ভাষায় তাদের একজনকে বলতে শোনা যায়, “সাজ্জাদ ভাই ও ইমন ভাইয়ের সাথে কথা বলবি।”

এ সময় তাদের মধ্যে একজনকে তেল দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার কথা বলতে শোনা যায় এবং কয়েকজনকে তেল জাতীয় কিছু ছিটাতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাদের প্রায় সবার মুখে মাস্ক দেখা যায়।
বায়েজিদ বোস্তামী থানায় করা মামলায় জহিরুল ইসলাম বলেছেন, অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের উত্তরা হাউজিং এলাকার ৩ নম্বর প্লটে গতবছর তারা ২৪ জন মিলে ছয় কাটা জমি কেনেন। চলতি মাসের ৫ তারিখ থেকে সেখানে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
কাজ শুরুর পর সাইট প্রকৌশলীর মোবাইলে সোহেল ও হাসান নামে দুইজন ফোন করে গালমন্দ করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে বলে, মালিকরা যেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা যোগাযোগ না করায় ১০/১২ দিন আগে পাঁচ জন যুবক গিয়ে শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।
শনিবার সন্ত্রাসীরা আবারও সেখানে গিয়ে শ্রমিকদের থাকার ঘরে ভাংচুর করে মোবাইল নিয়ে যায় এবং স্টোর রুম ও পাইলিং মেশিন ভাংচুর করে আগুন দেয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা সিসিটিভি ভিডিও সংগ্রহ করেছি। সন্ত্রাসীরা মাস্ক পড়া ছিল। তাদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছি আমরা।”
দুই যুগ আগে চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতুর সংযোগ সড়কে দিনের বেলায় আড়াআড়ি বাস রেখে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মাইক্রোবাস আটকে গুলি চালিয়ে আটজনকে হত্যার আসামি ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন। তার অনুসারী হিসেবে তার পক্ষে বায়েজিদ ও চান্দগাঁও এলাকায় চাঁদাবাজি করেন ছোট সাজ্জাদ। গ্রেপ্তার সাজ্জাদের হয়ে এখন বায়েজিদ এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন তার অনুসারী ইমন।
গত বছরের ২১ অক্টোবর বিকালে চান্দগাঁও থানার অদুরপাড়া এলাকায় দোকানে বসে চা পানের সময় কালো রংয়ের একটি গাড়িতে করে গিয়ে তাহসিন নামে এক যুবককে গুলি করে খুনের ঘটনায় অন্যতম আসামি ছোট সাজ্জাদ।
এরপর ৪ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন এলাকায় পুলিশ অভিযানে গেলে সাজ্জাদ তাদের দিকে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান। এ সময় তার গুলিতে দুইজন সাধারণ মানুষ আহত হন।
এ বছর ২৮ জানুয়ারি ফেইসবুক লাইভে এসে প্রকাশ্যে বায়েজিদ থানার তৎকালীন ওসি আরিফ হোসেনকে পেটানোর হুমকি দিয়েছিল ছোট সাজ্জাদ। পরে তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার।
১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা শপিং সিটি থেকে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এরপর ৩০ এপ্রিল ভোর রাতে নগরীর চকবাজার চন্দনপুরা এলাকায় ধাওয়া করে প্রাইভেট কারে গুলি করে বখতেয়ার হোসেন মানিক ও মো. আব্দুল্লাহ নামে দুই জনকে খুন করা হয়।
ওই ঘটনায় নিহতদের একজনের মায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, ছোট সাজ্জাদ ও তোর স্ত্রীর পরিকল্পনায় এ জোড়া খুন হয়েছে
পুরানো খবর:
চট্টগ্রামে পুলিশকে গুলি করে পালানো 'ছোট সাজ্জাদ' ঢাকায় গ্রেপ্তার
বড় সাজ্জাদের প্রশ্রয়ে অপরাধ কর্মে ছোট সাজ্জাদ: পুলিশ
'ছোট সাজ্জাদ ও স্ত্রীর পরিকল্পনায়' গাড়িতে জোড়া খুন: নিহতের মা