Published : 30 Aug 2026, 12:08 AM
চট্টগ্রামের লালদিয়ার চরে কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে রোববার। বিদেশি বিনিয়োগে হতে যাওয়া বন্দরের প্রথম টার্মিনাল এটি।
বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা এ টার্মিনাল নির্মাণকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। এতে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুত ও কম খরচে পণ্য খালাস এবং বড় আকারের কন্টেইনার জাহাজ চলাচলের পথ সুগম হবে বলে মত তাদের।
অন্যদিকে বন্দর রক্ষার দাবিতে আন্দোলনকারীরা মনে করেন, বন্দরের একের পর এক টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে বন্দর ব্যবস্থাপনায় সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমে যাবে।
এতে দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতির ক্ষতির পাশাপাশি দেশের কৌশলগত সক্ষমতাও হ্রাস পাবে, এমন দাবি করে জনস্বার্থে এধরনের চুক্তি পুনর্বিবেচনার কথা বলছেন তারা।
কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে লালদিয়ার চরে টার্মিনাল নির্মাণের জন্য অর্ন্তবর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি সই করে ডেনমার্কের মেয়ার্স্ক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস।
চুক্তির শর্ত অনুসারে চলতি বছরের ২২ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এপিএম টার্মিনালসকে প্রকল্পের জন্য জমি হস্তান্তর করেছে।
নির্মাণ সময় তিন বছর ধরে হওয়া এ চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণের পর ৩০ বছর টার্মিনালটি পরিচালনা করবে। আর চুক্তির শর্ত পূরণ ও পালন করলে এ মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়বে। সব মিলে টার্মিনালটি তাদের হাতে থাকতে পারে ৪৮ বছর।
এ টার্মিনাল নির্মিত হলে সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফটের (জাহাজের পানিতে থাকা অংশের গভীরতা) এবং ৬ হাজার টিইইউএস (কুড়ি ফুট দৈর্ঘ্যের কন্টেইনারকে একক ধরে) ধারণক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারবে সেখানে।
রোববার লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
ওই অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমও উপস্থিত থাকবেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর ইতোমধ্যে হয়েছে। বর্তমানে ভূমি পরীক্ষার কাজ চলছে। নকশা প্রণয়ন করছে এপিএম টার্মিনালস। সেটার ভেটিং হবে পরে।
“চুক্তি অনুসারে ২০২৯ সালের শেষ দিকে টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা।”
নতুন টার্মিনাল কেমন হবে?
চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান টার্মিনালগুলো থেকে ৯ কিলোমিটার ভাটিতে (মোহনার কাছে) কর্ণফুলীর নদীর গুপ্তবাঁকের আগেই লালদিয়ার চরের অবস্থান।
চরের পর গুপ্তবাঁক পেরিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)। টার্মিনালটি পরিচালনা করছে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)।
এরপর আরও উজানে চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি টার্মিনাল-নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি)।
এনসিটিতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের আালোচনা মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শুরু হয়েছে। আন্দোলনের মুখে তখন দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার। তবে তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি সরকার।
সাগর মোহনা থেকে কর্ণফলী নদীতে প্রবেশের পর নদীর বাঁক পেরিয়ে এসব টার্মিনালে জাহাজ ভেড়াতে হয়। সবগুলো টার্মিনালের মধ্যে মোহনার সবচেয়ে কাছে অবস্থান প্রস্তাবিত লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালের।
নদীতে কোনো বাঁক পেরেনো ছাড়াই সবচেয়ে কম সময়ে, দ্রুত গতিতে এবং বড় আকারের জাহাজ ভিড়তে পারবে এখানে।
লালদিয়া টার্মিনালের মূল টার্মিনাল অংশ হবে ৩২ একর জুড়ে। এরপর ৭ দশমিক ১৫ একরের কন্টেইনার ইয়ার্ড এবং ১০ একরের ট্রাক পার্কিং ও প্রি-গেট সুবিধিা (টার্মিনালে ট্রাক বা বাহন নিয়ন্ত্রণের ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা) মিলিয়ে পুরো টার্মিনালটি হবে ৪৯ দশমিক ১৫ একর জমিতে।
এর আগে বন্দরের যতগুলো টার্মিনাল হয়েছে সবই নিজেরা নির্মাণের পর বন্দর নিজে অথবা দেশি-বিদেশি অপারেটরদের পরিচালনা করতে দেওয়া হয়।
লালদিয়া টার্মিনালটি এই প্রথম বন্দরের কোনো ‘গ্রিনফিল্ড টার্মিনাল’, যাতে খালি জমি থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত রূপান্তরে সব অবকাঠামো নির্মাণ কাজ করবে বিদেশি বিনিয়োগকারী।
এ টার্মিনালের নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ, অর্থায়ন, পরিচালনা ও হস্তান্তর (ডিবিএফওটি)-এ কয়টি ধাপে কাজ বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করা হবে।
টার্মিনালের ৬১৬ মিটার দীর্ঘ জেটিতে বছরে ৮ লাখ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্পটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) বিনিয়োগ, যাতে মোট ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ হবে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়।
সুফল কী?
এ টার্মিনাল কী সুফল দেবে দেশকে? জবাবে কয়েকটি সুফলের কথা বলেছেন বন্দর কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রকল্পটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, কর্ণফুলী টানেল ও মেরিন ড্রাইভের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় দেশের প্রধান শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রসমূহের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করবে।
“পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের ক্রমবর্ধমান কন্টেইনার হ্যান্ডলিং চাহিদা পূরণ এবং বড় জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। জাহাজের অব্স্থানের সময় ও আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট লজিস্টিক ব্যয় কমবে। এতে বন্দরের সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।”
শিল্পাঞ্চলগুলোর কাছাকাছি হওয়ায় এবং কর্ণফুলী নদী চ্যানেলের সরাসরি সংযোগের সুযোগ থাকায় এই টার্মিনাল দেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
লালদিয়া টার্মিনালের বিষয়ে জানতে চাইলে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটি হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের একমাত্র রিয়েল টার্মিনাল। কারণ এটি গ্রিনফিল্ড থেকে টার্মিনালে রূপান্তর করা হবে। এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময় উপযোগী হয়েছে।
“এটার পাশাপাশি আমাদের বে টার্মিনালও করা দরকার। কর্ণফুলী নদী বাংলাদেশে একটাই। নদীর দুই তীরেই টার্মিনাল হতে পারত। কিন্তু অপর পাড়ে গভীরতা নেই বলে হচ্ছে না। তাই লালদিয়ার টার্মিনাল খুবই ইতিবাচক উদ্যোগ।”
লালদিয়া টার্মিনাল নিয়ে প্রায় কাছাকাছি মত হলেও বে টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করেন চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সদস্য মো. জাফর আলম।
লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণকে সব দিক বিবেচনায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ উল্লেখ করে মো. জাফর আলম বলেন, “এখন পর্যন্ত যত সমীক্ষা হয়েছে সবগুলোতেই লালদিয়ার চরে টার্মিনাল করা ইতিবাচক হিসেবে এসেছে। সেখানে তুলনামূলক বড় জাহাজ ভিড়তে পারবে। সময় ও খরচ দুটোই কমবে। ফলে বন্দরের সক্ষমতা অনেক বাড়বে।”
তবে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে আগামী ২০-২৫ বছরে কেমন প্রবৃদ্ধি হবে তা বিবেচনা করে বে টার্মিনালের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার কথা বলছেন তিনি।
জাফর আলম বলেন, “লালদিয়ার কাছাকাছি সময়ে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরের কাজও শেষ হবে। অতীতে যখন বে টার্মিনালের কথা বলা হয়েছিল তখন পিসিটি, মাতারবাড়ী ও লালদিয়া ছিল না।
“আমাদের বাণিজ্য এবং কার্গো কত বাড়ছে সেটা হিসেব করলে হয়ত দেখা যাবে, বে টার্মিনাল পরে করলেও সমস্যা নেই। সবদিক বিবেচনায় লালদিয়া খুবই ভালো পছন্দ। এখানে দেশের বিনিয়োগ করতে হবে না। যারা বিনিয়োগ করছে তাদের নিজস্ব শিপিং লাইনও আছে। এ কাজে তারা অভিজ্ঞ।”
গেল বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চুক্তির মধ্য দিয়ে লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
বিদেশি অপারেটরে উদ্বেগ
চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালসহ যে কোনো স্থাপনা দেশি-বিদেশি বেসরকারি অপারেটরদের না দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছে ‘বন্দর রক্ষা কমিটি’।
সংগঠনটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “লালদিয়া টার্মিনালসহ অর্ন্তর্বতী সরকারের সময় বেশকিছু চুক্তি হয়েছে অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে। তখন তাড়াহুড়োর করা এসব চুক্তিতে জাতীয় ও অর্থনৈতিক স্বার্থ কম বিবেচনা করা হয়েছে। বেশিরভাগ চুক্তি হয়েছে ‘লুটেরা’ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য।
“পুঁজিবাদী সংস্থাগুলো যখন বাংলাদেশের মতো দেশে বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আসে তখন তারা ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’ টার্মিনালগুলোই নিতে চায়।”
তিনি বলেন, “বর্তমানে বন্দরের ৪০ শতাংশ পণ্য এনসিটিতেই হ্যান্ডলিং হয়। বিদেশিরা আমাদের এনসিটি-পিসিটিও নিতে চায়। এভাবে তারা আমাদের সক্ষমতা ‘ছিনিয়ে’ বা ‘ম্যানেজ’ করে নিয়ে যাচ্ছে।
লালদিয়ার চর মোহনার সবচেয়ে কাছে হওয়ায় সেখানে বড় জাহাজ হ্যান্ডলিং এর সুবিধাটা সবচেয়ে বেশি তুলে ধরে দেলোয়ার মজুমদার বলেন, “এতে করে চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান অন্য টার্মিনালগুলো পিছিয়ে পড়বে। এভাবে ধীরে ধীরে বন্দর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকারের সক্ষমতা হাত ছাড়া হয়ে যাবে।
“এতে আমাদের বন্দর হলেও আমরা তখন আর সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। জাতীয় অর্থনীতিতেও চাপ বাড়বে। যা কৌশলগতভাবেও আমাদের পিছিয়ে দেবে।”
লালদিয়ার চরে কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে আসছে ‘বন্দর রক্ষা কমিটি’।
তবে তার এ বক্তব্যের বিপরীতে যুক্তি তুলে ধরে বন্দরের সাবেক সদস্য জাফর আলম বলেন, “আমেরিকা এমনকি ভারতেও অনেক বেসরকারি বন্দর আছে। ভারতে বেসরকারি অপারেটরই ৬০ শতাংশ। সেগুলোই কার্যকরভাবে চলছে। সরকারি বন্দরগুলো তুলনামূলক কম কাজ পাচ্ছে। সেখানেও শুরুতে বিরোধিতা হয়েছিল।
“আমরা এক ধরনের ব্যবস্থায় অভ্যস্ত। কিন্তু সময়ের দাবি আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগ। এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় যদি বাংলাদেশি অপরারেটররা অংশ নিতে পারেন, তাহলে তারা প্রতিযোগিতা করে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার কাজ নিক।”
বর্তমানে বন্দরের টার্মিনালগুলোতে যেসব দেশীয় বেসরকারি অপারেটর কাজ করছেন তাদের কোনো প্রতিযোগী নেই দাবি করে তিনি বলেন, “যারা করছেন তারাই ঘুরেফিরে করছেন বহু বছর ধরে। তারা কতটা ভালো করছেন, সেটা বুঝা যাবে আন্তর্জাতিক মানের অপারেটরদের সাথে প্রতিযোগিতা হলে।”
বিদেশি অপারেটর শুধু পণ্য ওঠা-নামানোর কাজ করবে এবং রাজস্ব আদায়ের সব কাজ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ করবে তুলে ধরে জাফর আলম বলেন, “আন্তর্জাতিক অপারেটর না দিলে বিশ্বের তুলনায় আমার পিছিয়ে পড়ব।”
মোহনার কাছে হওয়ায় লালদিয়া টার্মিনালের অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিকে ‘জুজুর ভয় দেখানো’ বলেন মন্তব্য করেন চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
তিনি বলেন, “এগুলো একসময় মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ পুরোনো রাজনীতিবিদরা বলতেন। জুজুর ভয় দেখাতেন। এখনো যে টার্মিনালটি সবচেয়ে ভেতরে, সেটি কি খালি থাকে নাকি?
“জাহাজ ভিড়বে কিনা সেটা নির্ভর করছে সেবাদানের সক্ষমতার ওপর।”
তবে জনস্বার্থে লালদিয়া টার্মিনালের চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক দেলোয়ার মজুমদার বলেন, “বর্তমান নির্বাচিত সরকারের উচিত যতটুকু সম্ভব এসব চুক্তি আবার পর্যালোচনা করে সংশোধন করা। বন্দরের মতো বিষয়ে সরকারের নিজস্ব সক্ষমতা না থাকলে এক সময় জাতীয় অর্থনীতি জিম্মি হয়ে পড়তে পারে।
“জনস্বার্থে চুক্তিটির পুনর্বিবেচনা করতে সরকারকে অনুরোধ করছি।”
পিপিপি মডেলে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সাথে ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সাক্ষর হয়েছিল ২০২১ সালের জুনে।
পরে মেয়ার্স্কের এপিএম টার্মিনালস লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে ২০২৩ সালের ২১ মে তাদের প্রস্তাব দেয়।
প্রস্তাবটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দেয় ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর।
২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ-ডেনমার্ক এর পিপিপি জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলে ডেনমার্ক সরকারের পক্ষে এপিএম টার্মিনালস প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই লালদিয়ার চরে বসতি স্থাপনকারীদের উচ্ছেদও করা হয়।
এরপর অর্ন্তবর্তী সরকার প্রকল্পটি এগিয়ে নেয়। তাদের মেয়াদের শেষদিকে চুক্তি সই। এখন মাঠে গড়াচ্ছে সম্পূর্ণ বিদেশি বিনিয়োগে দেশের প্রথম গ্রিনফিল্ড টার্মিনালের কাজ।
পুরোনো খবর:
লালদিয়া টার্মিনালে বিদেশি কোম্পানি: লাভ কী, সমালোচনা কেন?
লালদিয়ায় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে চুক্তি
লালদিয়া বন্দর নির্মাণ-পরিচালনার কাজ পাচ্ছে ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস
বন্দর টার্মিনাল ইজারায় 'তাড়াহুড়ো ও গোপনীয়তা' কেন, প্রশ্ন বাম জোটের