Published : 01 Sep 2025, 08:02 PM
গ্রামবাসীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহন, তদন্ত কমিটি গঠন ও মামলা করাসহ একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার সন্ধ্যায় এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সভা শেষে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক কামাল উদ্দিন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “গতরাতে গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটি বিকালে সভা করে বিভিন্ন পক্ষের মতামত জেনেছে।
“সভা শেষে বিশ্ববিদ্যলয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয়ভার বহনসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
সভা শেষে উপ উপাচার্য কামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের সভার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত জানান।
তিনি বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন ও মামলা করার সিদ্ধান্ত এবং মঙ্গলবার বিকালে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়েছে বলেও জানান উপ উপাচার্য কামাল উদ্দিন।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি নিরসনে জোবরা গ্রামের বাড়িওয়ালাদের সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মডেল থানা ও বিশ্ববিদ্যালয় রেল ক্রসিং এলাকায় পুলিশ বক্স স্থাপনের অনুরোধ জানানো ও হটলাইন চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনা করে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রত্যাহার না করার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান অধ্যাপক কামাল।
শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইট সংলগ্ন একটি ভবনের ভাড়াটিয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর বিতণ্ডার জেরে শনিবার মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাতে শুরু হওয়া ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া আর সংঘর্ষ পরদিন রোববারও চলেছে দফায় দফায়।
তাতে শিক্ষার্থী, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, উপউপাচার্যসহ কয়েকশ ব্যক্তি আহত হন। সংঘাতের মধ্যে রোববার দুপুর ২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ক্যাম্পাস ও আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। দ্বিতীয়দিনের মত সোমবার ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে।
সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়, গ্রামবাসীদের সংঘর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে তিন শতাধিক, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৪ জন, নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ৩০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদের মধ্যে সোমবার বেসরকারি পার্ক ভিউ হাসপাতালে দুই জন লাইফ সাপোর্টে এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১জন ভর্তি আছেন।
এছাড়া এক শিক্ষার্থীর রক্তনালী ছিঁড়ে যাওয়ার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা এনআইসিবিডি’তে (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাসকুলার) পাঠানো হয়েছে বলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন।
১৪৪ ধারা বহাল
সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারার আরও একদিন বলবৎ থাকবে।
সোমবার সন্ধ্যায় হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন এ আদেশ দেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় মঙ্গলবার রাত ১২ পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে।
মঙ্গলবার থেকে ক্লাস
সন্ধ্যায় চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মঙ্গলবার থেকে ক্লাস হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করেছে।
“যদি কোনো বিভাগ মনে করে পরীক্ষা নেবে, সেক্ষেত্রে শতভাগ উপস্থিতিতে পরীক্ষা নিতে পারবে।”