নালায় পড়া বৃদ্ধের সন্ধান মেলেনি দুই দিনেও

চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতার মধ্যে নালায় পড়ে নিখোঁজ বৃদ্ধের সন্ধান দুই দিনেও মেলেনি।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 August 2021, 03:30 PM
Updated : 26 August 2021, 03:30 PM

বুধবার সকালে নগরীর মুরাদপুর এলাকায় ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বড় নালায় পড়ে পানির স্রোতে তলিয়ে যান সালেহ আহমদ (৫৫)।

মঙ্গলবার রাতভর বৃষ্টিতে পানি জমে নালা ও রাস্তা একাকার হয়ে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনায় পড়েন ওই ব্যক্তি।

বর্জ্যে ভরা ওই নালায় তারপর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করা চালালেও বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার শফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আমাদের মোট ১২ জনের দুটি দল উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।

“মুরাদপুর মোড় থেকে বড় নালাটি ধরে বহদ্দারহাট ও খতিবেরহাট এলাকায়ও সন্ধান চালানো হয়। কিন্তু উনাকে পাওয়া যায়নি। কাল আবার উদ্ধার কাজ পরিচালনা করা হবে।”

অনুসন্ধান চলাকালে নিখোঁজ সালেহ আহমদের স্বজনরাও সেখানে ছিলেন।

সালেহ আহমদ চট্টগ্রামের পটিয়া উপহেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের মনসা এলাকার বাসিন্দা। তিনি নগরীর চকবাজারে সবজি বিক্রি করতেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

বুধবার সকালে নগরী থেকে ফটিকছড়ি উপজেলার মাইজভান্ডার দরবার শরিফ যেতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি।

সালেহ আহমদের ভাতিজা নূর মোহাম্মদ রিপন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ৫ ভাইয়ের মধ্যে সালেহ আহমদ সবার বড়। তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। ছয় বছর আগে দেশে ফেরেন। পরে চকবাজারে সবজির ব্যবসা করতেন।

সালেহর দোকানে দরবার শরিফের একটি দানবাক্স ছিল। সেখানে যে টাকা-পয়সা জমেছে, তা দিতে তিনি মাইজভান্ডার শরিফে যাচ্ছিলেন।

রিপন বলেন, “উনি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে উনার মা নূর জাহান বেগম ছেলের জন্য কান্নাকাটি করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।”

সালেহ আহমদের ছেলে উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে এবং মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী।

রিপন বলেন, “উনিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দু’দিনেও ফায়ার সার্ভিস উনার কোনো খোঁজ পেল না। পরিবারের সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।”

বুধবার দিনভর নগরীর মুরাদপুর এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা নিখোঁজ সালেহ আহমদকে উদ্ধারে অভিযান চালায়। সেসময় স্রোতের কারণে তাদের উদ্ধার অভিযানে ব্যাঘাত ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছিল।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক