১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মিসাইল হামলার ‘শঙ্কায়’ অবস্থান বদলাল ‘বাংলার জয়যাত্রা’

প্রায় এক মাস ধরে মিনা সাকারের অদূরে গভীর সমুদ্রে অবস্থানের পর জাহাজটি অবস্থান বদল করল।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 May 2026, 09:39 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:33 PM

ইরান যুদ্ধের বিরতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালি পার হতে না পারা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা‘ অবস্থান বদল করেছে।

আবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কায় সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বাঁচতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘মিনা সাকার‘ বন্দরের জলসীমা থেকে সরে গেছে। এখন দুবাই বন্দরের ২৩ নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে অবস্থান নিয়েছে।

মঙ্গলবার জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ইরানিয়ান সেফা নেভির কাছ থেকে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর জাহাজের অবস্থান পরিবর্তন করেছি। এখন হরমুজের ইরানিয়ান সীমানার ৪৩ নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করা হয়েছে।

“খাবার পানি সংগ্রহের জন্য মিনা সাকার বন্দরের জলসীমা থেকে শারজাহ বন্দরে গিয়েছিলাম। সতর্কবার্তার পর সোমবার দুপুরে জাহাজের অবস্থান বদল করা হয়।”

এমভি বাংলার জয়যাত্রা এখন দুবাই থেকে ২৩ নটিক্যাল মাইল এবং শারজাহ বন্দর থেকে ২১ নটিক্যাল মাইল দূরে পারস্য উপসাগরে নোঙর করে আছে। 

প্রায় এক মাস ধরে মিনা সাকারের অদূরে গভীর সমুদ্রে অবস্থানের পর মিসাইল হামলার শংকায় জাহাজটি অবস্থান বদল করল।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষের সতর্কতার পর জাহাজটি অবস্থান বদল করেছে। জাহাজে পর্যাপ্ত পানি, জ্বালানি তেল ও খাবার রয়েছে।

ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ৮ এপ্রিল সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে এমভি জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালি পার হতে রওনা দেয়। তবে ইরানের অনুমতি না মেলায় হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আটকে থাকা জাহাজটি।

পরে ১৮ এপ্রিল এমভি বাংলার জয়যাত্রা আবারও হরমুজ প্রণালি পার হতে মিনা সাকার থেকে রওনা দেয়। এবারও ইরানের নৌবাহিনী অনুমতি না দেওয়ায় হরমুজের কাছাকাছি গিয়েও জাহাজটি আগের অবস্থানে ফিরে যায়। 

বিএসসির মালিকানাধীন জাহাজটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। জাহাজটির ৩১ নাবিকের সবাই বাংলাদেশি। এটি হরমুজ প্রণালি পার হয়ে সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবানে যাবার কথা ছিল।

যুদ্ধবিরতির মধ্যে রোববার আরব আমিরাতের অন্যতম প্রধান তেল স্থাপনা ফুজাইরাহতে ইরানের ড্রোন হামলা হলে আবার অস্থিরতা তৈরি হয়। এর পরেই ইরানিয়ান নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করা জাহাজগুলোকে দূরে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।  

ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, আইআরজিসির অধীন ইরানিয়ান শেফা নেভি থেকে সরে যেতে বার্তা দেওয়া হয়। হরমুজ সীমানা থেকে ৭৪ নটিক্যাল মাইল দূরে রয়েছে এখন বাংলার জয়যাত্রা।

‘বাংলার জয়যাত্রা‘জাহাজটি পশ্চিম এশিয়ার জলসীমায় প্রবেশ করে গত ২৬ জানুয়ারি। এরপর সেখানকার কয়েকটি বন্দরে পণ্য নিয়ে যায় জাহাজটি।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের বহির্নোঙরে আসে এটি। পরদিন বন্দরের ১০ নম্বর টার্মিনালে ভেড়ে সেটি। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়। বন্দরে ভেড়ার একদিন পরেই জাহাজ থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে একটি তেল রিজার্ভারে মিসাইল হামলার পর আগুন ধরে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে জাহাজটির ৩১ বাংলাদেশি নাবিকের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর কয়েকদিনের মধ্যে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়। পণ্য খালাস শেষে জাহাজটির পুনরায় কাতারে ফেরার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতে সেটি বাতিল হয়।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত এখনও বন্ধ রয়েছে। জাহাজটিতে ৩৭ হাজার টন সার রয়েছে। 

আরও পড়ুন

এবারও হরমুজ পার হতে পারল না 'বাংলার জয়যাত্রা'

হরমুজের দিকে যাত্রা করেছে 'বাংলার জয়যাত্রা'