‘একটি না-বলা গল্প’ প্রথম দেখানো হল চট্টগ্রামে

“এ ছবির কাহিনী চট্টগ্রামের একটি পরিবারকে ঘিরে। তাই উদ্বোধনী প্রদর্শনীটি চট্টগ্রামেই,” বলেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক পঙ্কজ পালিত।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 August 2022, 06:46 PM
Updated : 5 August 2022, 06:46 PM

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পটভূমিতে তৈরি সরকারি অনুদানের ছবি ‘একটি না-বলা গল্প’ এর উদ্বোধনী শো হয়ে গেল চট্টগ্রামে।

শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে ছবিটির প্রথম প্রদর্শনী হয়।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মানুষকে বেশি উদ্বুদ্ধ করা যায়। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি নারকীয় হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল।

“এত মানুষকে কিভাবে হত্যা করা হতে পারে তা মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছিল। এ ঘটনাই গল্পে রূপ দিয়েছেন বিশ্বজিৎ চৌধুরী। গুলিবিদ্ধ এক ছাত্রের পিতা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা।

“তিনি ৭১’র ঘটনা প্রবাহকে এনেছেন ’৮৮ সালে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালক সেই ঘটনাপ্রবাহকে চিত্রায়িত করেছেন। আশা করি তা মানুষের হৃদয়কে নাড়া দেবে।”

ইতিহাসকে ধারণ করতে এ ধরনের চলচ্চিত্র প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মেয়র বলেন, “একাত্তরের ইতিহাসকে এভাবে তুলে ধরুন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অনেকে রক্তাক্ত হয়েছেন, ৩০ লাখ শহীদ হয়েছেন।

“নতুন প্রজন্ম সেসব ইতিহাস জানলে মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ মাথা চাড়া দিতে পারবে না। চলচ্চিত্রই পারে প্রজন্মকে এমন ইতিহাস সচেতন করতে। সৃষ্টিই মহত্ব। সৃজনশীলতা দিয়ে পরিচালক নতুন কিছু সৃষ্টি করেছেন।”

অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম বলেন, “৫০ বছর আগের ইতিহাস ছবিতে তুলে আনা অত্যন্ত কঠিন কাজ। আমাদের ২৩ বছরের সে সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে শত ছবি হতে পারে।

“৯ মাসের প্রতিটি দিন নিয়ে এক একটি মহাকাব্য লেখা যাবে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক বই লেখা হয়েছে। অনেক মিথ্যা তথ্যও এসেছে। স্বাধীনতার পরপর কিছু চলচ্চিত্র হয়েছিল। কিন্তু এখন আর তেমন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি হয় না। 'জীবন থেকে নেয়া' জহির রায়হানের এ ছবি স্বাধীনতা সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করেছে।”

এম এ সালাম বলেন, “এখনকার জেনারেশন তো বই পড়তেই চায় না। তাই একটা বড় সুযোগ চলচ্চিত্র। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অর্জন, ত্যাগ নতুন প্রজন্মকে জানানোর মধ্য দিয়েই কেবল দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা যাবে। দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠী ছাড়া উন্নত দেশ, উন্নত জাতি গঠন সম্ভব না।”

চলচ্চিত্রটির পরিচালক পঙ্কজ পালিত বলেন, “বিশ্বজিৎ চৌধুরীর ‘মৃত্যু যেভাবে বাঁচায়’ গল্পটি একদিন চায়ের টেবিলে পড়ি। তখনও যোগাযোগ ছিল না। পরে ওনার সাথে আলাপ হয়।

“এ ছবির কাহিনী চট্টগ্রামের একটি পরিবারকে ঘিরে। তাই উদ্বোধনী প্রদর্শনীটি চট্টগ্রামেই। বাণিজ্যিক ধারার ছবি নির্মাণে আমি কখনই যাব না। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের ভূমিকা কেমন ছিল তা অনেকেই জানেন না।”

গল্পকার বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, “অনেক আগে এ গল্পটি লেখা। মুক্তিযুদ্ধকে দেখেছি একেবারে শৈশবে। তাই গল্পটি লেখার সময়ে গণআন্দোলনের সময়ের ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারিকে সামনে রেখে ফ্ল্যাশব্যাকে ১৯৭১ এর ঘটনাবলি বর্ণনা করতে চেয়েছি। আমরা সবাই মিলে তখন রাজপথে ছিলাম।

“সেদিন বলুয়ার দিঘীর শ্মশানে কোনো ধর্ম পরিচয় না জেনে সেদিন অনেককে দাহ করা হয়েছে। এ নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশ করি ‘চট্টগ্রাম গণহত্যা’ নামে। একটি ৫ পাতার গল্পকে সিনেমায় রূপ দেওয়া কঠিন কাজ। পরিচালক অত্যন্ত দক্ষতায় তা সম্পন্ন করেছেন।”

অভিনেতা সুনীল ধরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিনেমাটির দুই অভিনেতা আরিফ হক ও রাকিব হোসেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক