শাটল ট্রেনে দুর্ঘটনা: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলকালাম

শাটল ট্রেন, দুর্ঘটনা,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ভাঙচুর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Feb 2024, 04:30 AM
Updated : 11 Feb 2024, 04:30 AM

শাটল ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের সময় গাছের ডালের ধাক্কায় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হওয়ার পর তুলকালাম হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবন, শিক্ষক ক্লাব, শিক্ষকদের পরিবহন ও পুলিশ বক্সের আসবাব ভাঙচুর করেছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮ টায় বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনটি চৌধুরীহাট এলাকায় এলে একটি গাছের ডালের ধাক্কায় ছাদে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিটকে নিচে পড়ে যান।

আহতদের মধ্যে তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিঢ় পরিচর্যা কেন্দ্র-আইসিইউতে এবং তিনজনকে নিউরো সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে আমজাদ হোসেন নামে একজনের মাথায় আঘাত গুরুতর।

শিক্ষার্থীরা ছাদে কেন: বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. শাকিব বলেন, “এত ভিড় হয় যে বগির ভেতরে বসার জায়গা থাকে না।

“বগির ভেতরে থাকা পাখাগুলোও চলে না। ভিড় ও গরমের কারণে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে ছাদে উঠে।”

এস এম শাহারিয়ার বলেন, “শাটলে ৯টি করে বগি থাকলেও বেশিরভাগই জায়গা ভাঙাচোরা। প্রতিবার যাত্রী থাকে কমপক্ষে দেড় হাজার। মাঝেমধ্যে দেখি ছাদেও বসার জায়গা নেই।”

তিনি জানান, কোভিড মহামারীর সময় শহর থেকে ক্যাম্পাসে চলাচলকারী ২ জোড়া ডেমু ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে শাটলে ভিড় বেড়েছে আরও।

দুর্ঘটনার রাতে কী ঘটেছিল: চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে ক্যাম্পাসের পথে বৃহস্পতিবার রাতের ট্রেনে ভিড় ছিল অন্যদিনের তুলনায় বেশি।

রাত সাড়ে ৮টার পর চৌধুরীহাট স্টেশনের কাছে একটি গাছের ভাঙা ডালের ধাক্কায় ছাদে থাকা শিক্ষার্থীরা আহত হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা চালক ও সহকারীকে লাঞ্চিত করলে তারা সেখানেই ট্রেন রেখে চলে যান।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “রেললাইনে যে গাছ পড়ে আছে, এটা তো আমাদের কেউ জানায়নি।”

ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ: শিক্ষার্থীরা শুরুতে ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট এলাকার পুলিশ বক্সে ভাঙচুর চালায়। এরপর ভাঙচুর চলে উপাচার্য শিরীণ আখতারের বাসভবনে। তিনি তখন সেখানে ছিলেন না।

এরপর পরিবহন দপ্তরে শিক্ষকদের ২৪টি বাস, ১৫টি মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার এবং একটি মোটর সাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে হামলা হয় শিক্ষক ক্লাবে।

রাত একটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। রাত দুইটার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

তখন ক্যাম্পাসে আসেন উপাচার্য। সঙ্গে ছিলেন শিক্ষক সমিতির নেতারা।

প্রক্টর নুরুল আজিম সিকদার বলেন, “ট্রেনের বগি বাড়ানোর বিষয়ে দ্রুতই রেলওয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)