১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘রাজনৈতিক দলগুলোর অন্তঃকোন্দলে কালুরঘাট সেতু নির্মাণে বিলম্ব’

“দলগুলোর অন্তঃকোন্দলের কারণে একজন এগিয়ে গেলে আরেকজন পেছনে টানে,” বলেন জামায়াতের নাসের।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Dec 2025, 05:05 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:24 PM

রাজনৈতিক দলগুলোর ‘অন্তঃকোন্দলের’ কারণে চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুর নির্মাণ কাজ বিলম্বিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের জামায়াত প্রার্থী আবু নাসের। 

শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেছেন, দ্রুত সময়ে এর কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদী।

চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম নগরীর সঙ্গে বোয়ালখালী ও পটিয়া উপজেলার একাংশের যোগাযোগের মাধ্যম শতবর্ষী এ কালুরঘাট সেতু। পাশাপাশি বন্দর নগরীর সঙ্গে কক্সবাজারের রেল যোগাযোগেরও অন্যতম সংযোগ।

আবু নাসের বলেন, “কালুরঘাট সেতু নিয়ে কথা বলতে বলতে রাজনৈতিক নেতারা হাসির পাত্র হয়ে গেছেন। দলগুলোর অন্তঃকোন্দলের কারণে একজন এগিয়ে গেলে আরেকজন পেছনে টানে।” 

গত ১৪ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউস থেকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্থরের স্মারক ফলক উম্মোচন করেন। ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনের সাত মাস পেরোলেও এখনও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। 

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে অন্তঃকোন্দল থাকলেও নিজেদের দলে নেই দাবি করে জামায়াত ইসলামীর এ প্রার্থী বলেন, “কালুরঘাট সেতু ইমার্জেন্সি ইস্যু হয়ে গেছে। এটা নিয়ে কথা বলতে বলতে রাজনীতিবিদরা প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেছে। 

“রাজনীতিবিদদের বাদ দিলে তো দেশ চলবে না। এটা থেকে বাঁচার জন্য হলেও কাজটা শুরু করতে হবে।”

কালুরঘাট সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করতে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে ধরনা দিয়েছেন দাবি করে নাসের বলেন, “এটা পদ্মা সেতুর মতো বড় কোনো কাজ না। মাত্র ১৪ হাজার কোটি টাকার একটা প্রকল্প। প্রকল্প পরিচালকও নির্ধারণ হয়ে গেছে।” 

১৯৩০ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হয় ৭০০ গজ দীর্ঘ কালুরঘাট রেল সেতু। ১৯৫৮ সালে এ সেতুটি সব ধরনের যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। সেতুটি নগরী লাগোয়া বোয়ালখালী উপজেলার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৫০ হাজার লোক পারাপার হয়।  

এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী রুটে চলাচল করে দুই জোড়া ট্রেন। দোহাজারী বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফার্নেস ওয়েল আনা-নেওয়ার জন্যও ট্রেন চলে এই সেতু দিয়ে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ চালু হলে তারও পথ হবে এই সেতু।

চট্টগ্রামের যে এলাকায় কালুরঘাট সেতুর অবস্থান, সেটি চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে পড়েছে। এ আসনের টানা তিন বারের সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক জাসদের নেতা প্রয়াত মইনুদ্দীন খান বাদল। 

২০১৯ সালের ২৬ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রবীণ এ সাংসদ সেতুর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পদত্যাগেরও হুমকি দিয়েছিলেন। 

বোয়ালখালী উপজেলা, নগরীর চান্দগাঁও থানা, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৮ আসন। এ আসনে জামায়াত ইসলামী ডা. আবু নাসেরকে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেন। আর বিএনপি ঘোষণা করেছেন চট্টগ্রাম নগর বিএনপি’র আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহকে। 

কালুরঘাট নতুন সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, কষ্টের অবসানের আশা

চট্টগ্রাম-৮: আলোচনার কেন্দ্রে একটি সেতু

'বার্ধক্যের ভার' বইতে পারছে না কালুরঘাট সেতু