Published : 10 Dec 2025, 07:38 PM
চট্টগ্রাম বন্দরে দিনে দুই কোটি টাকার যে চাঁদাবাজির কথা নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেছেন, সেই চাঁদাবাজ কারা, তা উপদেষ্টার কাছে জানতে চেয়েছেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।
বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) জনসংযোগ শাখার হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে দেওয়া ভিডিও বক্তব্যে মেয়র এ বিষয়ে কথা বলেন।
সিসিসির জনসংযোগ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ভিডিও বার্তাটি মেয়রের সম্মতিতে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
ভিডিও বক্তব্যে মেয়র বলেন, “নৌ পরিবহন উপদেষ্টা সাহেব সম্প্রতি একটা কথা বলেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে আমি বলছি। যেহেতু ওই কথাতে সেদিন ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে এ ধরনের এসেছে যে, মেয়রদের চোখ সব সময় বন্দরের দিকে। রক্ষক সবসময় ভক্ষক হয়ে যায়।
“তো সেই প্রেক্ষাপটে আমি নৌ পরিবহন উপদেষ্টাকে ফোন করেছিলাম। উনি বলেছেন যে, বিগত মেয়রদের কথা উনি বলেছেন; বর্তমান মেয়রের কথা উনি বলেননি।”
মেয়র শাহাদাত বলেন, “তবে উনার আরেকটি কথা, যেখানে চট্টগ্রামবাসীর জিজ্ঞাস্য এবং মেয়র হিসেবে অবশ্যই আমি সেটা জিজ্ঞাসা করতে পারি। উনি দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার একটা চাঁদার কথা বলেছেন। দৈনিক বন্দর থেকে কারা নাকি চাঁদাবাজি করছে। আমরা স্পষ্ট জানতে চাই, কারা সেখানে চাঁদাবাজি করছে।”
মেয়র বলেন, “এখানে দুই কোটি টাকাও যদি চাঁদাবাজি হয় প্রতিদিন, তাহলে মাসে হবে ৬০ কোটি টাকা; বছরে হবে ৭২০ কোটি টাকা। কাজেই কারা এই চাঁদাবাজি করছে? উনি (নৌ পরিবহন উপদেষ্টা) নাম দিক।
“আমি মেয়র হিসেবে ঘোষণা করছি, আমরা চট্টগ্রামবাসীকে নিয়ে সেসব চাঁদাবাজকে প্রতিহত করব।”
কী বলেছিলেন উপদেষ্টা
সোমবার ঢাকায় সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমি আশ্চর্য হই যখন এগুলো আপনারা পেপারে দেন। একবারও জিজ্ঞেস করেন নাই যে, চিটাগং পোর্ট থেকে প্রতিদিন কত ইললিগ্যাল টাকা ওঠে। আমি একটা রাফ ফিগার দিতে পারি। বাট দিলে হয়ত অনেকে কনট্রাস্ট করবে। মিনিমাম কত টাকা উঠে।
“আনুমানিক দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা প্রত্যেকটা দিন। আপনি বন্দরে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, তারা হয়ত আরও বেশি বলবে।”
সেদিন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা বলেন, “প্রত্যেকটি জায়গায় চাঁদাবাজি। গাড়ির স্ট্যান্ড আমি বের করে দিয়েছি, ভিতরে কী? ভিতরে দিনের পর দিন ট্রাক দাঁড়ানো। যেটা জায়গা না। কেউ না কেউ চাঁদা নিয়ে যাচ্ছে তাদের কাছ থেকে। ওখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
“বাইরে গেছে, সেখানেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। আপনারা নিজেরাই বলেন।”
নৌ উপদেষ্টা বলেন, “চিটাগং পোর্টটা হয়েছে একটা সোনার ডিম পাড়া মুরগির মত। তাড়াতাড়ি জবাই কর, সবগুলো বের করে খেয়ে ফেল।
“প্রথমে বলল যে, অমুক চলে গেলে তো ভাই বন্দর ডাউন হয়ে যাবে। আমি নিজে ভয় পেয়ে গেলাম, এখন কী করব। মিটিং করলাম, বলল যে ঠিক আছে ৫ শতাংশ কম হোক সেটাও রাজি। এখন এটা প্লাস। যেখানে বন্দরে দিনের পর দিন লাগত, সেখানে একদিন-দেড় দিন এবং তারও কম সময় লাগছে। এফিসিয়েন্সি বাড়ছে। আপনি বিজনেসম্যানদের জিজ্ঞেস করেন না কেন।”