ফেইসবুক পোস্ট নিয়ে সংঘাত: হাটহাজারীতে ‘শান্তি শৃঙ্খলা’ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি
হাটহাজারী বাস স্ট্যান্ড থেকে র্যাব কার্যালয় পর্যন্ত সড়কে মাইক, বাদ্য বাজনা বাজানো থেকে সবাই বিরত থাকার আশ্বাস দিয়েছেন, বলেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও সুন্নী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর উভয়পক্ষের তরফে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় থাকার আশ্বাস পাওয়ার কথা বলেছে স্থানীয় প্রশাসন।
রোববার বিকালে হাটহাজারী নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, আহলে সুন্নত ওয়ালে জামাআত, স্থানীয় রাজনীতিবিদসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এ বৈঠক হয়।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সব পক্ষের উপস্থিতিতে ফলপ্রসু বৈঠক হয়েছে। সেখানে উভয় পক্ষ তাদের দাবি উপস্থাপন করেছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে শনিবার রাতে সংঘর্ষে আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণও দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে এবং মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ যাতে ব্যহত না হয় সেজন্য পরবর্তী যেকোন অনুষ্ঠানের আগে উভয়পক্ষ বসে করণীয় ঠিক করবেন।
পাশাপাশি দুই পক্ষ স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেবে, যারা পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবে এবং হাটহাজারী বাস স্ট্যান্ড থেকে র্যাব কার্যালয় পর্যন্ত সড়কে কোনো ধরনের মাইক, বাদ্য বাজনা বাজানো থেকে সবাই বিরত থাকার আশ্বাস দিয়েছেন, যোগ করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী বড় মাদ্রসাকে ইঙ্গিত করে ফেইসবুকে ‘অবমাননাকর’ পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুন্নী সমর্থকদের সংঘর্ষ ঘটে। এরপর রাত ১০টা থেকে রোববার বিকাল ৩টা পর্যন্ত হাটহাজারী সদর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।
এসময় চট্টগ্রামের সঙ্গে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি জেলা এবং ফটিকছড়ি ও রাউজান উপজেলার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সড়কে কয়েকটি যানবাহন ভাংচুরেরও ঘটনা ঘটে।
এ নিয়ে রোববার অনুষ্ঠিত বৈঠকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন, সেনা বাহিনীর প্রতিনিধি, হাটাহাজারী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আগের দিন শনিবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে বলা হয়, দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় রাতে অন্তত ৮০ জন হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আরও খবর-
