Published : 19 Jan 2026, 07:52 PM
চট্টগ্রামের ৩৩০ ব্যক্তিকে ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে মহানগর পুলিশের (সিএমপি) দেওয়া গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি।
সোমবার বিকালে ষোলশহর বিপ্লব উদ্যানে সংবাদ সম্মেলন করে গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি জানায় তারা।
সংবাদ সম্মেলনে দলটির চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ এরফানুল হক বলেন, “চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের এ ধরনের বিবৃতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কোনো দায়িত্বশীল বিবৃতি নয়। এ বিবৃতির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “যদি সিএমপির কাছে সন্ত্রাসীদের নাম পরিচয় জানা থাকে, তাহলে তারা কেন এখন গ্রেপ্তার হচ্ছেন না।”
দলের আরেক যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, “প্রশাসনের উচিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা। অপরাধীরা জেলে থাকবে, তারা চট্টগ্রামে না থেকে অন্য জেলায় থাকবে, এটা কীভাবে হয়। নাম ঠিকানা প্রকাশ করেছে, প্রয়োজনে ছবি প্রচার করবে, তাদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এ তালিকায় জুলাই আন্দোলনের অনেক হত্যাকারীর নাম আছে। এ অবস্থায় পুলিশ প্রশাসন তাদের গ্রেপ্তার না করে চট্টগ্রাম ছাড়তে বলেছে।”
গত শনিবার ৩৩০ ব্যক্তিকে ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদেরকে নগরীতে প্রবেশ ও অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা আরোপের গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সিএমপি।
এ তালিকায় সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নগর আওয়ামীলীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজার নাম রয়েছে।
নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৮-এর ৪০, ৪১ ও ৪৩ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দুষ্কৃতকারীদের বহিষ্কার এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত দুষ্কৃতিকারী দলের সদস্যদের চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় প্রবেশ এবং অবস্থান নিষিদ্ধ করা হলো।”
শনিবার বিকালে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর রাতে তালিকা থেকে বিএনপি নেতা শওকত আজম খাজার নাম বাদ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন