Published : 29 Sep 2025, 07:55 PM
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে ‘জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক লেনদেনের’ অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে দুদক।
সোমবার চট্টগ্রামের মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে এ আবেদন করা হয় বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. কবির হোসাইন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো.আবদুর রহমান আবেদনটি গ্রহণ করে শুনানির জন্য আগামী ৫ অক্টোবর দিন রেখেছেন।
এর আগে ১৩ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে ফজলে করিম চৌধুরীর প্রায় ৬ কোটি টাকার ‘জ্ঞাত আয়বর্হিভূত’ সম্পদ এবং ১২টি ব্যাংক হিসাবে ১০৮ কোটি টাকার ‘অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক’ লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা বলেছে দুদক।
মামলায় চট্টগ্রাম-৬ আসনের ছয়বারের এমপি ফজলে করিমের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সেদিন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিমের বিরুদ্ধে তদন্তে ‘জ্ঞাত আয় বহির্ভূত’ সম্পদ ও ব্যাংকে ‘সন্দেহজনক ও অস্বাভাবিক’ লেনদের প্রমাণ মিলেছে।
দুদকের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, ফজলে করিম চৌধুরীর অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধান করতে গিয়ে তার ২৪ কোটি ৮ লাখ ৩০ হাজার ২৩২ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়।
এর মধ্যে ১১ কোটি ৯৫ লাখ ২২ হাজার ৬০৭ টাকার স্থাবর এবং ১২ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৬২৫ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পায় দুদক। এসব সম্পদের বিপরীতে ফজলে করিমের কোনো ঋণ কিংবা দায় দেনার তথ্য মেলেনি।
তার আয়কর নথি পর্যালোচনায় বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ১৮ কোটি ১৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪৬০ টাকার।
আয়কর বিবরণীর চেয়ে ৫ কোটি ৯৪ লাখ ৯২ হাজার ৭৭২ টাকার বেশি সম্পদ ফজলে করিম অবৈধভাবে অর্জন এবং ভোগদখল করছেন বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ১২টি ব্যাংক হিসাবে ১০৮ কোটি ৬৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯০ টাকা ‘অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক’ লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথাও বলেছে দুদক।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ‘দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে অর্জিত এসব অবৈধ অর্থ গোপন ও আড়াল’ করার উদ্দেশ্যে ১২টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৫৪ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার ৭২ টাকা জমা এবং ৫৪ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৭১৮ টাকা উত্তোলন করেছেন ফজলে করিম।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া সালাহউদ্দিন কাদের বিএনপিতে যোগ দেওয়ার আগে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি নামে যে রাজনীতির দল গঠন করেছিলেন তার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন ফজলে করিম চৌধুরী।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকার মনোনয়ন পান। ওইবার আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও নির্বাচনে জিততে পারেননি তিনি।
২০০১ সালে চট্টগ্রামের রাউজান আসনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফজলে করিম চৌধুরী। এর পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি।
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত এলাকা থেকে ফজলে করিম চৌধুরীকে আটকের কথা জানায় বিজিবি।
হত্যা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো, অস্ত্রের মুখে জমি লিখিয়ে নেওয়া, ভাঙচুর, দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে এখন পর্যন্ত ফজলে করিমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় ১০টি মামলা হয়েছে বলে খবর এসেছে।
আগের খবর: