Published : 13 Jul 2025, 05:19 PM
জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
চট্টগ্রাম-৬ আসনের ছয়বারের এমপি ফজলে করিমের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানান দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিমের বিরুদ্ধে তদন্তে ‘জ্ঞাত আয় বহির্ভূত’ সম্পদ ও ব্যাংকে ‘সন্দেহজনক ও অস্বাভাবিক’ লেনদের প্রমাণ মেলেছে তদন্তে।
দুদকের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধান করতে গিয়ে তার ২৪ কোটি ৮ লাখ ৩০ হাজার ২৩২ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়।
তদন্তে ফজলে করিমের ১১ কোটি ৯৫ লাখ ২২ হাজার ৬০৭ টাকার স্থাবর এবং ১২ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৬২৫ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছে। এসব সম্পদের বিপরীতে ফজলে করিমের কোনো ঋণ কিংবা দায় দেনার তথ্য পায়নি দুদক।
মামলায় বলা হয়েছে, ফজলে করিমের নামে ২৪ কোটি টাকার বেশি সম্পদ তদন্তে পাওয়া গেলেও তার আয়কর নথি পর্যালোচনায় বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ১৮ কোটি ১৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪৬০ টাকার।
আয়কর বিবরণীর চেয়ে ৫ কোটি ৯৪ লাখ ৯২ হাজার ৭৭২ টাকার বেশি সম্পদ ফজলে করিম অবৈধভাবে অর্জন এবং ভোগদখল করছেন বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাবেক এ সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ১২টি ব্যাংক হিসাবে ১০৮ কোটি ৬৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯০ টাকা ‘অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক’ লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছে দুদক।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে অর্জিত এসব অবৈধ অর্থ গোপন ও আড়াল করার উদ্দেশ্যে ১২টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৫৪ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার ৭২ টাকা জমা এবং ৫৪ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৭১৮ টাকা উত্তোলন করেছেন ফজলে করিম।
একসময় এনডিপি’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকা এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকার মনোনয়ন পান। ওইবার আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও নির্বাচনে জিততে পারেননি তিনি।
২০০১ সালে চট্টগ্রামের রাউজান আসনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। এর পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি।
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত এলাকা থেকে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে আটকের কথা জানায় বিজিবি। সেদিন বিজিবি জানায় ‘অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টার’ সময় তাকে আটক করা হয়।
আটকের পর ফজলে করিমকে আখাউড়া থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে। সবশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর হেলিকপ্টার যোগে তাকে সেখান থেকে চট্টগ্রামে আনা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।
হত্যা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো, অস্ত্রের মুখে জমি লিখিয়ে নেয়া, ভাংচুর, দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে এখন পর্যন্ত ফজলে করিমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় ১০টি মামলা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ পেয়েছে। বিভিন্ন মামলায় একাধিক বার তাকে রিমান্ডও দিয়েছে আদালত।