১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

২৫ কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ ও পাচার’: সাবেক মন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ

জাবেদ ছাড়াও তার স্ত্রী ও ভাই-বোনসহ ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে এই মামলায়।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Jan 2026, 03:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:31 PM

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত।

বুধবার চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. হাসানুল ইসলাম অভিযোগপত্র গ্রহণ করে।

জাবেদ ছাড়াও তার স্ত্রী রুকমিলা জামান, ছোট ভাই আসিফুজ্জামান, বোন রোকসানা জামান এবং ইউসিবিএল ও আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে এই মামলায়।

দুদকের আইনজীবী রেজাউল করিম রনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, "আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে পলাতক ৩৪ জন আসামির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছেন। দুজন আসামি কারাগারে আছেন।"

এর আগে সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এই মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান।

সাবেক মন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে এটা দুদকের দেওয়া ‘প্রথম’ অভিযোগপত্র এটি।

জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গত ২৪ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মশিউর বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি করেছিলেন।

এজাহারে থাকা ৩১ আসামির মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল আওয়াল এবং জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কাজী মো. দিলদার মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে সুপারিশ করেছেন। এছাড়া আরও তদন্তে নাম আসায় অভিযোগপত্রে আসামি হিসেবে আরও সাতজনকে যুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে ইউসিবিএল ব্যাংক ও জাবেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

বাকি ২৯ জনের সঙ্গে তদন্তে পাওয়া ৭ জনসহ মোট ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে দুদক। অভিযোগপত্রে ইউসিবিএল ব্যাংক ও জাবেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে মিথ্যা তথ্যে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। সেটি দিয়ে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ইউসিবিএল ব্যাংকের চট্টগ্রামের পোর্ট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়।

পরের বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা বলে ১৮০ দিনের জন্য ‘টাইম লোনের’ আবেদন করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রস্তাবটি নেতিবাচক হওয়ার পরও ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই না করে ঋণ অনুমোদন করে। ঋণের টাকাগুলো ‘নাম সর্বস্ব’ চারটি প্রতিষ্ঠান আলফা ট্রেডার্স, ক্লাসিক ট্রেডার্স, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের অ্যাকাউন্টে পে অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। পরে যা নগদে উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়।

অভিযোগপত্রে অভিযোগ করা হয়, পরে এসব টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি ক্রয় এবং জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্টে ও আরামিট থাই অ্যালমুনিয়াম লিমিটেডের হিসাবে জমা করে দায় সমন্বয় করা হয়।

২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ৪(২) ও ৪ (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।