Published : 25 Aug 2026, 07:22 PM
চট্টগ্রামে সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের নির্বাচন ঘিরে দুই পক্ষের উত্তেজনা, ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকালে হালিশহর ঈদগাঁ এলাকায় সংঘর্ষের পর অলঙ্কার, একে খান মোড় ও কদমতলী এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকরা বলছেন, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে হালিশহর ঈদগাঁও এলাকায় দুলহান কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ আন্তঃজিলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন শুরু হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে এক প্রার্থী নির্বাচনে ‘কারচুপি ও জালভোটের অভিযোগ’ তোলেন।
এসময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা হলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে। দুই পক্ষের ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুলিশ ও শ্রমিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
এরপর শ্রমিকরা কদমতলী বাস টার্মিনাল, অলঙ্কার, একে খান মোড়ে অবরোধ করে রাখেন। তাতে চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন জেলার বাস ও সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অবরোধ করেন শ্রমিকরা।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সকাল থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও ভোট গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় দুপুরের পরে ভোটারদের লম্বা লাইন হয়ে যায়। এসময় শ্রমিকদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।
“দুই পক্ষকে পুলিশ শান্ত করার চেষ্টা করলে তারা পুলিশকেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরবর্তীতে ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়।”
সংঘর্ষে হালিশহর থানার ওসি সুলতান মো. আহসান উদ্দিনসহ চার থেকে পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ আন্ত জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা সভাপতি মৃণাল চৌধুরী বলেন, কে কার আগে ভোট দেবে, এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দুপুরের পর ভোটররা নিজেদের মধ্যে এবং পরে পুলিশের সঙ্গেও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়।
২০১৭ সালে সংগঠনটির সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার ভোট গ্রহণের উদ্যোগ নিলেও একটি পক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় ভোটগ্রহণ কয়েকবার পিছিয়ে যায়। সবশেষ মঙ্গলবার ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।