Published : 15 Jul 2025, 10:13 PM
নিজস্ব নীতিমালা করে নগরীর বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠান থেকে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহের কাজ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি)।
এ খাতে সিসিসি রাজস্ব আদায় করবে। বাসাবাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহের জন্য প্রতি পরিবারকে দিতে হবে ন্যূনতম ৫০টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ টাকা।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন সিসিসির প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখন নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড থেকে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যে আবর্জনা সংগ্রহ করে, সেটা কীভাবে চালু হয়েছে, তা তাদের জানা নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সিসিসির কোনো চুক্তিও নেই। ফলে এ কাজে এখন কোনো রাজস্ব পায় না সিসিসি।
ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “সিটি করপোরেশনের ধারা অনুসারে জনগণ হোল্ডিং ট্যাক্স দিচ্ছে, তার বিপরীতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আমরা আবর্জনা নিয়ে আসব। বাসাবাড়ি থেকে নয়।
“সেজন্য আমরা এলাকায় এলাকায় বিন দিয়েছি। কিন্তু একেক জনের বাসা থেকে বিনের দূরত্ব একেক রকম। কেউ দূরে যেতে চান না। সবাই ন্যূনতম মাসিক টাকা দিয়ে বাসার ময়লাটা ওই সব সংগ্রহকারীকে দেয়। তারা সিটি করপোরেশন নির্ধারিত স্থানে ময়লা রেখে দেয়। আমরা সেখান থেকে কালেক্ট করে ল্যান্ডফিলে নিয়ে যাই।
“মেয়র মহোদয় এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ একেক জনের কাছ থেকে একেক রকম টাকা নেওয়া হচ্ছে। এগুলোর অনুমোদন আগে দিয়েছে। কীভাবে হয়েছে জানা নেই। মেয়র মহোদয় এটাকে একটা নিয়মে আনতে চেয়েছেন।”
তিনি বলেন, “এর আগে কারা কীভাবে তারা কাজ পেয়েছে, আমরা জানি না। শুধু কিছু চুক্তিপত্র পেয়েছি। কিন্তু প্রচুর ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান চলমান। এভাবে কোনো রাজস্ব আদায় ছাড়া একটা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে শহরে।
“আমরা একটা নীতিমালা করেছি আমাদের আইন বিভাগকে দিয়ে। ওই নীতিমালার আলোকে টেন্ডার কল করেছি। ৪১টি ওয়ার্ডের জন্য ১৯২টি শিডিউল বিক্রি হয়েছে। চার-পাঁচটি ওয়ার্ডে সিঙ্গেল বিডার। একজনই শিডিউল কিনেছে। যাচাই-বাছাই শেষে অভিজ্ঞ ও সক্ষম প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত হারে ময়লা সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
এসব কাজ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংগঠন পাচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “যারা শিডিউল কিনেছে, এর বাইরে যাব না। যাওয়ার এখতিয়ার নেই।
“কিছু বড় ওয়ার্ড হয়ত তারা একা পারবে না। সেক্ষেত্রে তারা বলেছে আমরা সমমনা। সমমনারা নিজেদের মধ্যে চুক্তি করবে। সেই চুক্তি আমাদের কাছে জমা দিতে বলেছি।”
তিনি বলেন, “দলীয় বা নির্দলীয়, যারা শিডিউল কিনেছে তাদের সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। কি পরিমাণ ভ্যান, বেতন, টাকা উত্তোলন করতে পারবে, তা কমিটির মাধ্যমে যাচাই চলছে।
ইতিমধ্যে ১৯টি ওয়ার্ডের কাজ ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলোর বিষয়ে যাচাই বাছাই চলছে।
আবর্জনা সংগ্রহ বাবদ এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে মাসিক ন্যূনতম ৫০টাকা ও ঊর্ধ্বে ৭০টাকা প্রতি পরিবারের দিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “এর ঊর্ধ্বে কেউ গেলে নীতিমালার মাধ্যমে তার কন্ট্রাক আমরা বাতিল করে দিব। দিনে দেড় দুই টাকা তো আমরা ফকিরকেও দিই। ময়লা ব্যবস্থাপনা সোজা রাস্তায় এলে নগরবাসী স্বস্তি পাবে।
“আমি প্রতিদিন ৩০-৪০টি কল পাই, যেখানে বাসা থেকে ময়লা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়। মানুষ বলছে—টাকা দিচ্ছি, ময়লা নিচ্ছে না। তাই আমরা সঠিক প্রক্রিয়ায় এই সমস্যার সমাধান করতে চাই।”
অতীতে সিসিসি প্রায় দুই হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ‘ডোর-টু-ডোর’ প্রকল্পের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছিল।
সেই কর্মীরা থাকার পরও কেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেই লোকবলও অপ্রতুল। বেশ কিছু শ্রমিক, তাদের নাম আছে। তারা তিন মাস ধরে আসছে না। তাদের আমরা বাদ দিয়েছি। এটা মেয়র আ জ ম নাছিরের সময় হয়েছিল। সেটা শুধু বাসাবাড়ির আবর্জনা নেয়ার জন্য নয়, আমাদের নিয়মিত এলাকার নালা নর্দমা পরিষ্কার রাখতে হয়।
“কাজের জন্য নিয়োগ পেলেও যারা তিন মাস ধরে অনেকে কাজে আসছেন না, আমরা ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ নীতিতে তাদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং নতুন শ্রমিক নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিসিসি’র সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি ও উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা।