Published : 05 Jan 2026, 06:11 PM
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজন মারা গেছে।
উদ্ধারের নয় দিন পর সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে ১৪ মাসের মোরশেদ মারা গেছে বলে আনোয়ারার ইউএনও তাহমিনা আক্তার জানিয়েছেন।
গত ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম চমেক হাসপাতালের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়।
ইউএনও তাহমিনা বলেন, “রোববার থেকে শিশুটির দাদি তার সঙ্গে ছিল। দাদির কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।”
গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের আনোয়ারার বারখাইন ইউনিয়নের মাজার গেট এলাকায় সড়কের পাশ থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন স্থানীয় অটোরিকশাচালক মহিম উদ্দিন। এর মধ্যে আয়েশা বয়স সাড়ে তিন বছর। তার ছোট ভাই মোরশেদের বয়স ১৪ মাস।
সেদিন রাতে শিশু দুটি অটোরিকশারচালক মহিম উদ্দিনের বাসাতেই ছিল। পরদিন স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিশু দুটির প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আবার মহিম উদ্দিনের পরিবারের কাছে রাখা হয়। আয়েশা এখনো মহিমের পরিবারের জিম্মায়।
সোমবার মারা যাওয়া শিশু মোরশেদের কিছু ‘জন্মগত রোগের’ পাশাপাশি শরীরের ঘায়ের দাগ ছিল। উদ্ধারকারী মহিম উদ্দিন বলেছিলেন, সড়কের পাশে বসে শিশু দুটিকে শীতে কাঁপতে দেখে তিনি কাছে যান। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ৩০ ডিসেম্বর শিশু দুটির দায়িত্ব নেন। সেই রাতেই বাঁশখালী থেকে শিশু দুটির বাবা খোরশেদ আলমকে আটক করে পুলিশ।
খোরশেদের বাড়ি খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায়। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালীর মিয়ারবাজার এলাকায় রিকশা চালাতেন।
আটকের পর খোরশেদ পুলিশের কাছে দাবি করে, তার স্ত্রী ঝিনুক আকতারের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। ছয় মাস আগে তার স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান। এরপর আর ঘরে ফেরেনি।
ইউএনও তাহমিনা আক্তার বলেন, দুই শিশুকে সড়কের পাশে ফেলে যাবার ঘটনায় হওয়া মামলায় বর্তমানে খোরশেদ আলম কারাগারে রয়েছেন।
শিশু দুটি সড়কের পাশে বসে শীতে কাঁপছিল