Published : 03 Sep 2026, 02:17 PM
চট্টগ্রামে বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ ধারণা করছে, তিনি ‘আত্মহত্যা’ করে থাকতে পারেন।
তবে তা বিশ্বাস করা ‘কঠিন’ হচ্ছে তার সহকর্মীদের। তাদের ভাষ্য, নিহত ছায়েদুর বেশ হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যাতেও তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে দাপ্তরিক সভায় ছিলেন। সন্তানদের সফলতা নিয়ে তিনি বেশ সন্তুষ্ট ছিলেন।
বুধবার রাতে নগরীর হালিশহর থানার উত্তর আগ্রাবাদ রমনা আবাসিক এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ৫৫ বছর বয়সি মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক পদে চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান তিন কন্যা সন্তানের জনক। তাদের মধ্যে দুজন ডাক্তার ও একজন প্রকৌশলী।
বুধবার রাতে মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান বাসায় একা ছিলেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী নাতিকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন।
হালিশহর থানার ওসি জয়নাল আবেদিন মণ্ডল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাসায় উনি একা ছিলেন। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষ থেকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় উনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
“এখন পর্যন্ত যতটুকু বুঝা যাচ্ছে, উনি আত্মহত্যা করেছেন। কী কারণে, সেটা এখনো আমরা জানতে পারিনি। জানার চেষ্টা করছি।”
নিহতের এক সহকর্মী বলেন, “মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান বেশ হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। উনার সাথে সবার সম্পর্ক ভালো। গতকালও সন্ধ্যা পর্যন্ত উনি ব্যাংকে সবার সাথে একটা মিটিংয়ে ছিলেন।
“উনার দুই মেয়ে ডাক্তার, আরেক মেয়ে ইঞ্জিনিয়ার। তাদের দুজন ঢাকায় থাকেন। একজন চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্র্যাকটিস করেন। এ নিয়ে উনি বেশ প্রাউড ফিল করতেন। যতটুকু জেনেছি, রাতে উনি স্ত্রীকে ফোন করে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে বলেছিলেন। এরপর উনার স্ত্রী বাসায় ফিরে উনাকে এ অবস্থায় দেখতে পান।”
রমনা আবাসিক এলাকার যে বাড়িটি থেকে মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, সেই বাড়িটি তার নিজের। তিন বছর পর তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং) ইমরান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উনার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কেন সেটা, অনুসন্ধান করে দেখা হবে।”
এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।