Published : 16 Dec 2024, 01:27 AM
সাত বছরে চট্টগ্রাম নগরীতে ৬৮৪টি সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণায়; এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫৬৯ জনের।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহযোগিতায় ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
রোববার বিকালে সিটি করপোরেশনে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলা হয়, বন্দরনগরীতে ৮০ শতাংশ দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটছে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হচ্ছে পথচারীদের।
২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীতে মোট ৬৮৪টি সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য এসেছে এ প্রতিবেদনে। যার মধ্যে ৩৬২টি, বা অর্ধেকের বেশি হয়েছে ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সাত বছরে বন্দরনগরীতে যত দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে ৫২৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
এই সময়ে এক হাজার ২৮ জন দুর্ঘটনায় হতাহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪০৯ জন মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আর ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিন বছরে ৩৬২টি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২৯৩ জনের।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ অনু বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর ১৬টি থানায় সড়ক দুর্ঘটনায় হওয়া মামলার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭-২০২৩ সালে দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৮ শতাংশই পথচারী। আর মোটরসাইকেল আরোহী ১৭ শতাংশ।
এছাড়া ১০ শতাংশ থ্রি হুইলার, ৮ শতাংশ ফোর হুইলার এবং ৭ শতাংশ বাইসাইকেল আরোহী।
মৃত্যু হওয়া পথচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী। এরপর রয়েছে ৪১ থেকে ৬০ বছর বয়সীরা।
মোটরসাইকেল আরোহীদের মধ্যে মৃত্যু হওয়া অধিকাংশের বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে সিটি করপোরেশন খুব উদ্বিগ্ন। এ রিকশাগুলোকে কীভাবে শৃঙ্খলায় আনা যায় তা নিয়ে ১৮ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক হবে।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নগরীতে জেব্রা ক্রসিং, ফুটপাত ও ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের কথা বলেন মেয়র।
অনুষ্ঠানে ‘নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন’ এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, “পুলিশের মামলা নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন তৈরি করলে তা কখনও পূর্ণাঙ্গ হয় না। দুর্ঘটনার বড় একটা অংশ প্রতিবেদনের বাইরে থেকে যায়।
“ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা যে হারে বাড়ছে সেগেুলোর বিষয়ে এখন ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করা যাবে না। এজন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।”
বাংলাদেশে রিকশার নিবন্ধন থাকলেও চালকদের নিবন্ধন না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, “চালক যদি আইন না জানে, তাহলে সে কীভাবে রিকশা চালাবে। চালকরা কিছু শেখে না। কেউ তাদের কিছু বলে না। যে যার যার মত করে সড়কে নেমে যায়।”
রিকশা চালকদেরকে সিটি করপোরেশনের পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যদি রিকশাচালকদের নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা যাবে।
ফুটওভার ব্রিজের পরিবর্তে আন্ডারপাস নির্মাণের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “গাড়ির উচ্চতার ওপর নির্ভর করে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হয়। যে কারণে উঁচু দেখে অনেকে সেখানে উঠতে চান না।”
টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশেনের সম্মেলনে কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন বিআইজিআরএস এর চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী লাবিব তাজওয়ান উৎসব।
অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আসফিকুজ্জামান আক্তার, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিআরটিএ এর উপ পরিচালক সৈয়দ আইনুল হুদা ও ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের কারিগরি পরামর্শক আমিনুল ইসলাম বক্তব্য দেন।