১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে একীভূত ৫ ব্যাংকের সামনে আমানতকারীদের বিক্ষোভ

“সরকার বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের স্বার্থে বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বললেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই। শাখাগুলোতে অর্থ তুলতে গেলেও তাদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে,” বলেন একজন আমানতকারী।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 May 2026, 02:39 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:35 PM

লেনদেন স্বাভাবিক করা, আমানতের টাকা ফেরত দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে চট্টগ্রামে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আমানতকারীরা।

সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর জুবিলী রোডে পাঁচটি ব্যাংকের শাখাগুলোর সামনে অবস্থান করে তারা বিক্ষোভ দেখান।

কয়েকশ আমানতকারী শুরুতে নগরীর এনায়েত বাজার মোড়ে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের সামনে অবিস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। 

পরে তারা একে একে জুবিলী রোডের এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এসআইবিএলের সামনেও বিক্ষোভ করেন। 

গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চকবাজার এলাকার বাসিন্দা আজম উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গত এক থেকে দেড় বছর ধরে এসব ব্যাংকের গ্রাহকেরা তাদের জমা টাকা তুলতে পারছেন না; ব্যাংকে রাখা এফডিআর বা অর্থের কোনো সুদও পাচ্ছেন না। 

“সরকার বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের স্বার্থে বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বললেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই। শাখাগুলোতে অর্থ তুলতে গেলেও তাদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।” 

আজম উদ্দিন বলেন, গ্রাহকরা তাদের জমা রাখা অর্থ তুলতে চাইছে। কিন্তু ব্যাংক দিচ্ছে না। জমা রাখা অর্থের সুদও তারা পাচ্ছেন না। 

সংকটে থাকা বেসরকারি শরীয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়।

এরপরই গত দুই অর্থবছরের জন্য আমানতের বিপরীতে কোনো মুনাফা না দেওয়ার ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। হেয়ার কাট পদ্ধতিতে তা বাতিল করা হয়। পরে আন্দোলনের মুখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আমনতকারীদের আন্দোলন যৌক্তিক। কিন্তু বাস্তবতা হল, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের তারল্য সংকট রয়েছে। সব টাকা দিয়ে দিলে ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

সব টাকা দিতেও দেড় লাখ কোটি টাকা লাগবে, যা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মূলধন মাত্র ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সরকার যেহেতু ব্যাংকের দায়িত্ব নিয়েছে, সেহেতু আমনতকারীদের ধৈর্য ধরতে অনুরোধ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।