Published : 01 Mar 2026, 06:44 PM
চট্টগ্রামের সাগরিকা বিটাক এলাকায় আকাশ দাশ নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, পাওনা টাকা বিরোধে জড়িয়ে সহকর্মীকে ছাড়াতে গিয়ে খুন হয়েছিলেন তিনি।
তিন দিন আগের ওই ঘটনায় মো. সৈকত (২২), নাজমুল হুদা ওরফে রিয়াজ (২১), মো. মহসিন (২১) ও রেদুয়ান হোসেন বিজয় (২১) নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে বিজয় ছাড়া অন্যরা এজাহারভুক্ত আসামি।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ কমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আকাশ খুন হন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। ‘পাওনা টাকার জন্য’ মাইকেল নামে আকাশের এক সহকর্মীকে এসটেক ফ্যাক্টরির গেইট থেকে টেনে নিয়ে যান নাজমুল ও তার সহযোগী রিয়াদ ও রায়হান। সেটা দেখে আকাশ ও আরো কয়েকজন সহকর্মী সেখানে ছুটে যান।
তখন আকাশের সঙ্গে নাজমুল, রিয়াদ ও রায়হানের কথাকাটাকাটি থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। আকাশকে ছুরিকাঘাত করে রায়হান দৌঁড়ে চলে যান। এসময় আকাশ ও তার সঙ্গে থাকা সহকর্মীরা নাজমুল ও রিয়াদকে টেনে কারখানার গেইটে নিয়ে আসেন। এরপর রায়হান ফোন করে সৈকত ও বিজয়কে আসতে বলেন। তাদের মধ্যে হাতাতিতে আকাশকে ছুরিকাঘাত ও কিল-ঘুষি মারা হয়।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (পাহাড়তলী) রুহুল আমিন লাবু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সৈকত, বিজয় ও আরো কয়েকজন মোটর সাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এবং সৈকত হেলমেট দিয়ে আকাশের মাথায় আঘাত করেন। আকাশ মাটিতে পড়ে গেলে মহসিন ও বিজয়সহ অন্যরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। রায়হান ফিরে এসে পুনরায় ছুরিকাঘাত করেন।”
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আকাশের বাবা বাবুল দাশ ছয়জনের নামে পাহাড়তলী থানায় মামলা করেন। এর পরই অভিযান শুরু করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, “টানা অভিযান চালিয়ে নাজমুল হুদা রিয়াজকে র্যাবের সহযোগিতায় গাইবান্ধা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সৈকতকে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়ন থেকে, বিজয়কে পাহাড়তলী থানার বাইন্যাপাড়া ও মহসিনকে হালিশহর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজয়কে ‘সন্ধিগ্ধ হিসেবে’ গ্রেপ্তারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও বিভিন্ন বিষয়ে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
আরও পড়ুন-