১৫ অগাস্ট হত্যাকাণ্ডের ‘প্রধান কুশীলব’ জিয়া: হাছান মাহমুদ

অগাস্ট মাস এলেই বিএনপি ‘নানামুখী ষড়যন্ত্রে সরব হয়’ বলে মন্তব্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছানের।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 August 2022, 04:50 PM
Updated : 1 August 2022, 04:50 PM

জিয়াউর রহমান ১৫ অগাস্ট হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কুশীলব বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম নতুন রেল স্টেশনে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘরের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “যে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক শক্তি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচারণ করেছিল সেই দুই শক্তি একীভূত হয়ে ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে। আর সেই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কুশীলব ছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান।

“বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর জিয়াউর রহমানকেই সেনাবাহিনীর প্রধান নিয়োগ করেছিল খোন্দকার মোশতাক আহমেদ। এতে কী প্রমাণিত হয়? এতে প্রমাণিত হয় জিয়াউর রহমানই বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কুশীলব।”

তিনি বলেন, “১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড শুধুমাত্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড নয়, সেদিন প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে হত্যা করার লক্ষ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। সেই আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় শক্তি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিল, মদদ দিয়েছিল।

“যখন বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের খবর জিয়াউর রহমানের কাছে পৌঁছায় তখন মাত্র ফজরের আজান হয়েছে। তিনি তখন সুটেড-বুটেড অবস্থায় ছিলেন। তিনি ছিলেন তখন সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান। ফজরের আজানের সময় সেনাবাহিনীর কেউ সুটেড-বুটেড থাকে? সুটেড-বুটেড অবস্থায় তিনি তখন শেভ করছিলেন।”

হাছান বলেন, “জিয়াউর রহমানের কাছে যখন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে খবর দেওয়া হল, রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা হয়েছে, তখন তার জবাব ছিল ‘সো হোয়াট, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার’। আর তিনি কাপড় চোপড় পরে তৈরি হয়ে বসেছিলেন বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার জন্য।”

অগাস্ট মাস এলেই বিএনপি ‘নানামুখী ষড়যন্ত্রে সরব হয়’ বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, “এই অগাস্ট মাসেই তারেক জিয়ার নেতৃত্বে এবং বেগম জিয়ার জ্ঞাতসারে প্রকাশ্য দিবালোকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।”

নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে কমিশন গঠন করে জিয়াউর রহমানসহ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের অন্য ‘কুশীলবদের’ মুখোশ উম্মোচন হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “ইনশাল্লাহ সেটি হবে। এটি যদি আমরা না করি, আজ থেকে পঞ্চাশ বছর পরের প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানবে না।”

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ‘প্রসিডিংস’ রেলওয়ের ভ্রাম্যমাণ যাদুঘরে রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “সেখানে যারা জবানবন্দি দিয়েছেন, তারা জিয়াউর রহমান কোন অবস্থায় ছিল, খোন্দকার মোস্তাক কি অবস্থায় ছিল এগুলো বিস্তারিত বলেছেন।”

ভোলায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে একজন নিহতের ঘটনার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, সরকার ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন ঠেকানোর চেষ্টা’ চালাচ্ছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, “তদন্তে বেরিয়ে আসবে আসলে তিনি কীভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন।… অগাস্ট মাস সামনে রেখে বিএনপি সারাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, এটি আমরা জানি। দেশকে উত্তপ্ত করার সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভোলায় তারা গণ্ডগোল করেছে।”

বিএনপিকে ‘সেই সুযোগ দেওয়া হবে না’ মন্তব্য করে এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের দল, উনারা তো এখন একা মিটিং মিছিল করছে, আমরা তো এখনো শুরু করি নাই। মোকাবেলা করার মানসিকতা নিয়ে আমরা মাঠে নামলে তাহলে বিএনপি কোথায় পালায় সেটি হচ্ছে প্রশ্ন।”

বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুকুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক