১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ইয়াবাসহ পুলিশ সদস্যকে ছেড়ে দেওয়া’: বিচারকের স্বপ্রণোদিত মামলা

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনারকে (দক্ষিণ) তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

‘ইয়াবাসহ পুলিশ সদস্যকে ছেড়ে দেওয়া’: বিচারকের স্বপ্রণোদিত মামলা
ফাইল ছবি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Dec 2025, 12:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:23 PM

চট্টগ্রাম নগরীর কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু এলাকায় বাসে তল্লাশী চালিয়ে ইয়াবাসহ এক পুলিশ সদস্যকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে স্বপ্রণোদিত হয়ে এ বিষয়ে মামলা করেন এবং অভিযোগের তদন্তের আদেশ দেন।

এ বিষয়ে তদন্ত করে ১২ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনারকে (দক্ষিণ) নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির আবুল কালাম আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মিডিয়ায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেখে বিচারক নিজে মামলা করেছেন। তারপর তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি অনলাইন পোর্টাল ও একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে ১৮৯৮ সালের ফোজদারি কার্যবিধির ১৯০(১) (সি) ধারা মোতাবেক মামলাটি করেন ওই বিচারক।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে মামলায় বলা হয়, বাকলিয়া থানার কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু এলাকার চেকপোস্টে ৮ ডিসেম্বর রাত ২টার দিকে ঢাকাগামী একটি বাসে তল্লাশী চালানো হয়। এতে ইমতিয়াজ হোসেন নামের এক পুলিশ সদস্যকে ইয়াবাসহ আটকের পরেও ছেড়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার কাছ থেকে জব্দ করা ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা গায়েবের অভিযোগ করা হয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদন দুটিতে ইমতিয়াজ হোসেনের পরিচয় দেওয়া হয় কক্সবাজার জেলা আদালতের এক বিচারকের গানম্যান হিসেবে।

ইমতিয়াজ কক্সবাজার থেকে ৮ ডিসেম্বর রাতে ছেড়ে আসা বাসটির যাত্রী ছিলেন এবং তার কাছ থেকে জব্দ করা ইয়াবার বাজার মূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

এ অভিযোগের তদন্তে কোন কোন বিষয়ে অনুসন্ধান করতে হবে তদন্ত কর্মকর্তাকে সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে আদেশে।

আদেশে বলা হয়, "ঘটনাস্থলে ওই তারিখে চেকপোস্ট ডিউটিতে কোন কোন পুলিশ সদস্য কর্মরত ছিলেন তাদের নাম, ডিউটি রেজিস্ট্রার ও সিসি কপি সংগ্রহ করতে হবে।"

"ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কোন বাসে তল্লাশী করা হয়, তল্লাশীকালে পুলিশ পরিচয়দানকারী ইমতিয়াজ হোসেনের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা আটক হয়েছিল কিনা এবং উক্ত ব্যক্তিকে মাদকসহ আটকের পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে কিনা?", তাও তদন্ত করতে বলা হয়েছে আদালতের আদেশে।  

তদন্তকারীকে 'স্বাধীন তদন্ত' করার নির্দেশনা দিয়ে আদেশে বলা হয়- "প্রতিবেদনকারী সাংবাদিকদের, বাস চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারের সাক্ষ্যগ্রহণ করতে হবে। ঘটনার কোন প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া গেলে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে হবে।"

ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের কার কা ভূমিকা ছিল এবং বাকলিয়া থানার ওসি কেন আলামত উদ্ধার হওয়ার পরও মামলা রেকর্ড করেন নাই তার কারণ অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে আদেশে।

পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বর্ণিত ইয়াবার জব্দ তালিকাকা প্রস্তুত না করার কারণ এবং আলামত গোপনে অন্যত্র হস্তান্তর করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কোন ধরণের বেআইনী সুবিধা প্রদান করা হয়েছে কিনা তাও তদন্ত করতে বলা হয়েছে আদালতের আদেশে।

এছাড়া ইয়াবাগুলো বর্তমান অবস্থান কোথায়, কার নির্দেশে ও কার হেফাজতে আছে তা যাচাই করতে তদন্ত কর্মকর্তাকে আদেশ দিয়েছে আদালত।

ওই ঘটনায় দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যরা কোন গুরুতর অবহেলা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে কিনা তা তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইমতিয়াজ হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

বাকলিয়া থানার ওসি আফতাব উদ্দিনকে বুধবার সকালে ফোন করা হলে তিনিও সাড়া দেননি।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারি কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদের কাছে মামলা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিডিনিজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মামলার বিষয়টি আপনার কাছ থেকে জানলাম। খোঁজ খবর নিব। দেখছি।"