১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা দপ্তর ‘যৌক্তিক স্থানে’ স্থাপনের দাবিতে হরতাল চলছে

“দাবি আদায় না হলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা দপ্তর ‘যৌক্তিক স্থানে’ স্থাপনের দাবিতে হরতাল চলছে
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে ‘ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ’ এর ডাকে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Jul 2026, 02:35 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:40 PM

চট্টগ্রামে নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে তিন ইউনিয়নে ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। 

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলছে ‘ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ’র ব্যানারে। 

এদিন সকাল থেকে ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ফটিকছড়ি-হেয়াঁকো সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। 

বুধবার পরিষদ সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলার দাঁতমারা, বাগানবাজার ও নারায়ণহাট ইউনিয়নে হরতাল পালনের ঘোষণা দিয়েছিল। 

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাক রেখে ও গাছ ফেলে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে।

হরতালের কারণে উপজেলার নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার ইউনিয়নে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। 

অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, ফার্মেসি, ক্লিনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা আছে। হরতালের আওতামুক্ত আছে জরুরী সেবার সকল যানবাহান, বিদেশগামী যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের বহনকারী গাড়ি। 

হরতাল চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

ভূজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকাল থেকে সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আমাদের টিম মোতায়েন আছে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ আছে। হরতাল আহ্বানকারীদের সাথে কথা হয়েছে। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছুক্ষণ পর হেয়াঁকো বাজারে এসে জড়ো হবেন। তারপর তাদের কর্মসূচি শেষ করবেন বলে জেনেছি।”

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল আমিন আজাদ বলেন, “আমরা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছি। উপজেলার মানুষ আমাদের সাথে আছে। দাবি আদায় না হলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”

ফটিকছড়িকে দুটি উপজেলায় ভাগ করার দাবি দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালে এজন্য গণশুনানির আয়োজন করেছিল জেলা প্রশাসন। গণশুনানির পর তৎকালীন ইউএনও মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠান। নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থান জুজখোলা মৌজায় উত্তর উপজেলার দপ্তর স্থাপনে সেই সময় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল।

তবে নবগঠিত উপজেলার সদর দপ্তরের জন্য ভূজপুরকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর বিরোধিতা করে আন্দোলনকারীরা বলছেন, নারায়ণহাট ও দাঁতমারা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে তারা উপজেলার সদর দপ্তর চান।

ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়ন- বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল নিয়ে সম্প্রতি গঠিত হয়েছে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা।

রিলেটেড লিংক- 

ফটিকছড়ির ৩ ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক

প্রস্তাবিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার কার্যালয় ‘যৌক্তিক স্থানে’ স্থাপনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ