Published : 18 May 2026, 01:54 AM
চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
রোববার রাতে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নগরীর টাইগার পাস-লালখান বাজার এলাকার পরিস্থিতি।
পরে মধ্যরাতে লালখান বাজার এলাকায় যান সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, নগরীর টাইগার পাসে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে থাকা পিলারে পোস্টার লাগানোর কারণে পুরনো গ্রাফিতি ঢাকা পড়ে যায়। নতুনভাবে পিলারে রঙ করার কাজ শেষে আবার গ্রাফিতি আঁকা হবে। তবে এবার গ্রাফিতি আঁকবে ছাত্রদল ও যুবদল।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে থাকা জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি সিটি করপোরেশনের নির্দেশে মুছে ফেলা হয়েছে এমন অভিযোগে রোববার সন্ধ্যার পর প্রতিবাদে নামেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।
বিপরীতে এনসিপির বিক্ষোভ থেকে মেয়র শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদে একই এলাকায় রাতে মিছিল করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
একপর্যায়ে রাত ১১টার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা টাইগার পাস এলাকায় এবং ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা লালখান বাজার মোড়ে অবস্থান নেয়।
এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নেতাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী নগর ভবনের প্রবেশপথ সংলগ্ন অংশে চারটি পিলারের গ্রাফিতির ওপর নতুন করে সাদা ও হলুদ রং করা হয়েছে।
এরকম কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষুদ্ধ এনসিপি নেতারা দাবি করেন, সিটি মেয়রের শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে এসব গ্রাফিতি মুছে ফেলেছে।
এ নিয়ে দুপুরে এনসিপির একাংশের কিছু নেতাকর্মী মেয়রের সঙ্গে দেখা করে তাদের আপত্তির কথা জানান। তখন মেয়র তাদের বলেন, ওই পিলারগুলোতে নতুন করে গ্রাফিতি করা হবে।
পরে বিকালে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব, সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নিজাম উদ্দিনেরর নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়।
এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন মেয়রের বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীরা সড়কে স্লোগান লেখেন এবং গ্রাফিতি মুছে দেওয়া পিলারগুলোতেও নতুন করে স্লোগান লেখেন।
বিক্ষোভ চলাকালে মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, "আমরা জানি বর্তমান মেয়র মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র। উনার মেয়াদ চলে গেছে। কিন্তু আমরা জানতাম না, উনার ব্রেইনেরও মেয়াদ চলে গেছে।
"গ্রাফিতি মুছে দেওয়ার পর সেখানে লিখে দিয়েছে, বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন। এটা নিশ্চিত সিটি করপোরেশন করেছে।"
অন্যদিকে রাত ৮টায় শাহাদাতের পক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, "মেয়রের নির্দেশে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত কোনো গ্রাফিতি মোছা হয়নি।”
মেয়রের এ বিবৃতির পরেও এনসিপির নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ চলে। একপর্যায়ে সিটি করপোরেশেনর আমবাগানমুখী প্রবেশপথের সামনে সড়কে রং দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান লিখে দেয় তারা। তাদের অবস্থান চলে রাত ১১টা পর্যন্ত।
রাত ১১টার দিকে মেয়র ও বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদে মাঠে নামে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
একপর্যায়ে পুলিশ এসে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। তখন এনসিপির নেতাকর্মীরা টাইগার পাসে এবং ছাত্রদল নেতাকর্মীরা লালখান বাজার মোড়ে অবস্থান নেয়।
পরে রাত ১২টার দিকে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন লালখান বাজার মোড়ে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
এসময় মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, "চব্বিশ এর আন্দোলনে আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শহীদ ওয়াসিম আকরাম আমার কর্মী। জুলাই-অগাস্টের সেন্টিমেন্ট আমার চেয়ে বেশি কেউ ধারণ করে না। মায়াকান্না যারা দেখাতে আসেন, আমার সঙ্গে দেখাবেন না।
"ওই দেয়ালে প্রচুর পোস্টার পড়েছিল। গ্রাফিতি মুছে গিয়েছিল। দুপুরে এনসিপির ছেলেরা এসেছিল, তাদের বলেছি, নতুন করে আর্ট কলেজের ছেলেদের দিয়ে গ্রাফিতি করে দিব। সিটি করপোরেশন অথবা আমি নিজে টাকা দিব। তারা হাসি মুখে চলে গেছে।"
তিনি বলেন, "এরপরও এনসিপির এক বিতর্কিত নেতা আরিফ মঈনুদ্দিন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কর্মসূচি দিয়েছে। ফায়দা লুটতে চায়।”
এরপর রাত পৌনে ১টায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেয়রের উদ্যোগে সোমবার সকাল ১০টায় টাইগার পাস থেকে লালখান বাজার মোড় পর্যন্ত সড়কের দেয়ালে গ্রাফিতি অংকন কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে।