Published : 30 Aug 2026, 03:41 PM
জাল নথিপত্র ব্যবহার করে দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা ও প্রতারণা মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৫ কোটি টাকার নির্মাণ কাজ পাওয়ার অভিযোগে দুদকের মামলায় জি কে শামীমের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমানের আদালত এই আদেশ দেয়।
এই মামলার একমাত্র আসামি হলেন জি কে শামীম।
দুদকের পিপি মো. রেজাউল করিম রনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মামলায় অভিযোগ গঠন করে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন দিয়েছে আদালত।
তিনি বলেন, “আসামি মো. গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম এই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।”
জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ষষ্ঠ একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি নেওয়ার অভিযোগে জি কে শামীমসহ দুজনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নভেম্বরে মামলাটি করেছিলেন দুদকের সেসময়ের সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম।
তখন জি কে বি এন্ড কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কিবরিয়া (জি কে) শামীম মামলায় আরেক আসামি ছিলেন দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল করিম চৌধুরী।
তদন্তে ফজলুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির প্রমাণ না পাওয়ায় ২০২৫ সালে দেওয়া অভিযোগপত্র থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
৭৫ কোটি টাকার ওই প্রকল্পের কাজ নিতে দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স- জি কে বি এল (জেভি) ‘প্রতারণা ও জালিয়াতির’ আশ্রয় নিয়েছিল বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে।
মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম তখন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ পেতে দরপত্রের সাথে যে কাগজপত্র দিয়েছিল সেখানে জালিয়াতি করা হয়েছে। কোম্পানি সংক্রান্ত তথ্যও পাল্টানো হয়েছে।
সর্বনিম্ন দরদাতা হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ষষ্ঠ একাডেমিক ভবনের (দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ) নির্মাণকাজ পায় দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স- জি কে বি এল (জেভি)।
দুদকের করা মামলায় বলা হয়- প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে কোম্পানির প্রকৃত নিবন্ধিত নামের সাথে একক মালিকানাধীন ফার্মের নাম যুক্ত করে রেজিস্ট্রেশন দেখিয়ে এবং নিবন্ধিত শেয়ারের চেয়ে বেশি সংখ্যার শেয়ার দেখিয়ে দরপত্র জমা দেয়া হয়।
কাজ পেতে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা, বিগত পাঁচ বছরের বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শেষের সনদ এবং অতীতের টার্নওভারের যে শর্ত দেয়া হয়েছিল সেগুলোর ক্ষেত্রেও বানানো কাগজপত্র জমা দেওয়া হয় বলে দুদকের মামলায় উল্লেখ করা হয়।
চবির ষষ্ঠ একাডেমিক ভবনের দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০১৬ সালের ২৮ অগাস্ট।
জি কে বি এন্ড কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড লিড ফার্ম হিসেবে এবং দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েটস লি. পার্টনার ইনচার্জ হিসেবে দরপত্রে অংশ নেয়।
ওই কাজের জন্য প্রথম নিম্ন দরদাতা হয় দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স- জি কে বি এল (জেভি)। ৭৫ কোটি টাকার এই কাজের চুক্তি হয় ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর।
ওই সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের একাংশ এই কাজের দরপত্র সংগ্রহে অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো বাধাও দিয়েছিল। এ নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে।।
মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান তখন দরপত্র জমা দিয়েছিল।
ওই ঠিকাদারি কাজের বিরোধের জেরে ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী ‘খুন হন’ বলেও তখন অভিযোগ করেছিল তার অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মী এবং দিয়াজের পরিবার।
চবির ভবন নির্মাণ: জি কে শামীমের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা দুদকের