চবির শেখ হাসিনা হলের নতুন অংশ চালুর দাবিতে বিক্ষোভ

সাত দফা দাবিতে ছাত্রীরা হলের অফিস কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে সরে যায় শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 August 2022, 02:14 PM
Updated : 4 August 2022, 02:14 PM

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা’ হলের নতুন করে বাড়ানো দুটি তলা চালু করার পাশাপাশি খাবারসহ বিভিন্ন সেবার মান বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সাত দফা দাবি জানিয়ে ছাত্রীরা হলের অফিস কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়। প্রায় এক ঘন্টা পর হল প্রভোস্ট দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা তালা খুলে দেয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আফরিন লিমু সাংবাদিকদের বলেন, “হলের সার্বিক অবস্থা খুবই খারাপ। পর্যাপ্ত সংখ্যক পরিচ্ছন্নকর্মী নিয়োগ না দেওয়ায় হলের ভেতরে সব সময় ময়লা আবর্জনায় সয়লাব থাকে।

“তাছাড়া খাবার পানির সমস্যা এবং খাবারেরও সমস্যা আছে। হলের এক্সটেনশন খুলে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা হলের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের দাবিতে অফিস কক্ষের সামনে অবস্থান নিই।”

এ বিষয়ে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ.কে. এম রেজাউর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হলের ছাত্রীরা আমাদের সন্তানের মত। তাদের যৌক্তিক এই দাবিগুলোর সাথে আমিও একমত।

“আমি নিজেই তাদের সমস্যা তদারকি করেছি। কিন্তু আমাদের তো সময় দিতে হবে। এ বিষয়ে উপাচার্য ম্যামের সাথে কথা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে মেয়েদের সব দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।”

তিনি জানান, হলের আবাসিক ছাত্রীদের এ বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলে তারা অফিস কক্ষের তালা খুলে দেয়।

ছাত্রীদের সাত দফা দাবিগুলো হল- হলের এক্সটেনশন (বর্ধিত অংশ) দুই কার্যদিবসের মধ্যে খুলে দেওয়া, পর্যাপ্ত কর্মচারী নিয়োগ, হলের লাইব্রেরি চালু করা, ওয়াশরুম পরিষ্কার রাখা, ক্যান্টিনের খাবার সমস্যার সমাধান ও রাতের ডাইনিং চালু করা, হলের চতুর্থ ও ষষ্ঠ তলার পানি সমস্যার সমাধান ও বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন এবং আবাসিক হলের কর্মীদের ড্রেসকোড নিশ্চিত করা।

২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর ছাত্রীদের জন্য ৫০০ আসনের প্রায় ৯৮ হাজার ৫০০ বর্গফুটের ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা’ হলের চারতলা ভবন উদ্বোধন করা হয়। হলটিতে দুটি লিফট, দুই হাজার বর্গফুটের পাঠাগার, কমন রুম, লন্ড্রি, ইনডোর গেমসের সুবিধা, ছাত্রীদের জন্য রান্নাঘর ও প্রার্থনা কক্ষসহ বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়।

তবে ওইসময় ছাত্রীদের আসন বরাদ্দ না দিয়ে দেড় বছর পর ২০১৭ সালের মে থেকে হলের আরও দুটি তলা বাড়ানোর কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। চারতলা হলটিকে ৭৫০ আসনের ছয়তলা ভবনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়।

‘জননেত্রী শেখ হাসিনা’ হলের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে এ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর কাজ শেষ হয় ২০২১ সালে ডিসেম্বরে, কিন্তু এখনো এ বর্ধিত অংশ চালু হয়নি। আন্দোলনের মুখে ২০১৯ সালের নভেম্বরে এ হলের চারটি তলায় ছাত্রীদের আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক