দিনেশ কার্তিকের ‘স্বপ্ন হলো সত্যি’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার জন্য নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়েছিলেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান। অবশেষে তিনি জায়গা পেয়েছেন ভারতের বিশ্বকাপ দলে।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Sept 2022, 05:12 AM
Updated : 13 Sept 2022, 05:12 AM

‘ড্রিমস ডু কাম ট্রু’… চার শব্দের ছোট্ট একটি বাক্য। তবে এতেই মিশে আছে প্রতিজ্ঞা, পরিশ্রম, নিবেদন আর জয়ের গল্প। যে স্বপ্নের ছবি মনে এঁকে নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়েছিলেন দিনেশ কার্তিক, যে লক্ষ্য পূরণের পণ পুষেছিলেন হৃদয়ে, সেটিই সত্যি হতে চলেছে। স্বপ্ন পূরণের বার্তা পাওয়ার পর ভারতের কিপার-ব্যাটসম্যান ওই চারটি শব্দেই প্রকাশ করেছেন তার ভালো লাগার অনুভূতি।

 কার্তিকের স্বপ্নটি ছিল ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার। এমন নয় যে আগে খেলেননি। তবে সেই অনুভূতির দেয়াল এত পুরনো যে, তাতে শ্যাওলা পড়ে মলিন হয়ে গিয়েছে। সেই ২০০৭ আর ২০১০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পদচারণা পড়েছিল তার। এরপর আর সুযোগ হয়নি।

কার্তিক ঠিক করেছিলেন, সেই অনুভূতির তরতাজা স্বাদ নেবেন আবার। সেই লক্ষ্যেই ঘষেমেজে তৈরি করেন নিজেকে। একটি সুনির্দিষ্ট জায়গায় চোখ পড়ে তার, ‘ফিনিশার।’ জাতীয় দলে এই জায়গায় কিছুটা সুযোগ আছে বলে মনে হয় তার। ব্যস, এরপর থেকেই অভিযান শুরু নিজেকে ‘ফিনিশার’ হিসেবে গড়ে তোলার।

ওই ভূমিকার দাবি মেটানোর জন্য নিজেকে উপযোগী করে তুলতে লড়াই শুরু হয় তার নিজের সঙ্গে। ফিটনেসের উন্নতি, পেশির জোর বাড়ানো, স্কিল আরও সমৃদ্ধ ও শাণিত করা, বড় শটের সঙ্গে উদ্ভাবনী নানা শট যোগ করা আর সাহসিকতা ও মানসিকতা, সব কিছু মিলিয়েই তৈরি হয়ে ওঠেন তিনি।

এরপর মাঠে সেই ভূমিকায় নিজেকে মেলে ধরার পালা। গত আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ২২ গজে ঝড় তুলে তা করে দেখান তিনি। নিজেকে নতুনভাবে মেলে ধরে তিনি চমকে দেন অনেককেই।

গত আইপিএলে ৩৩০ রান করেন তিনি। রান সংগ্রহের তালিকায় তার ওপরে ছিল ২৫ জন। তবে তার যে ভূমিকা, সেখানে রান সংখ্যার চেয়েও অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ রান করার ধরন। সেখানে কার্তিক ছিলেন সবার ওপরে।

১৮৩.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ওই রান করেন কার্তিক। টুর্নামেন্টে অন্তত ২০০ রান করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার স্ট্রাইক রেট ছিল সর্বোচ্চ। ধারাবাহিকতাও যে ছিল, সেটির প্রমাণ তার ব্যাটিং গড়, ৫৫!

আইপিএল চলার সময়ই সংবাদমাধ্যমকে নিজের স্বপ্নের কথা শোনান কার্তিক।

“…আরও বড় লক্ষ্য হলো দেশের হয়ে খেলা। জানি যে, বিশ্বকাপ আছে সামনেই। ওই বিশ্বকাপের অংশ হতে আমি মরিয়া এবং প্রবলভাবে চাই ভারতকে সীমানা পার করিয়ে নিতে।”

“বহুজাতিক কোনো টুর্নামেন্টে ভারতের জয়ের অনেক দিন হয়ে গেছে। আবার দলকে সেই সাফল্য এনে দেওয়ায় সহায়তা করতে চাই আমি। সেটির জন্য প্রয়োজন ভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি, অনেক কিছু নিয়ে সচেতনতা এবং এমন একটি জায়গায় নিজেকে নিয়ে যাওয়া, যেন লোকে বলতে বাধ্য্য হয়, ‘এই ছেলে তো স্পেশাল কিছু করছে।’ আমি সেরকম কিছুই চাই।”

আইপিএলের সাফল্য দিয়েই কার্তিক প্রায় সাড়ে তিন বছর পর ফেরেন ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে। প্রথম সিরিজেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৭ বলে ৫৫, ২১ বলে অপরাজিত ৩০ রানের দুটি ইনিংস খেলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আরেকটি ম্যাচে করেন ১৯ বলে অপরাজিত ৪১। সেই ধারাবাহিকতায় আসে স্বপ্ন পূরণের পালা।

আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের জন্য ভারতের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয় সোমবার। সেখানে ঠাঁই হয় কার্তিকের। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছোট্ট কথায় তার বিশাল আবেগের প্রতিক্রিয়া, “স্বপ্ন আসলেই সত্যি হয়।”

তবে তার স্বপ্নের একটি অংশই কেবল সত্যি হচ্ছে এখন। বিশ্বকাপ দলে জায়গা তো পেলেন। এবার বাকিটুকু পূরণের পালা, ভারতকে শিরোপা জিততে সহায়তা করা!

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক