০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অস্ট্রেলিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব মেনেই ঐতিহাসিক সিরিজে ভালো কিছুর আশায় বাংলাদেশ

প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে নিগার সুলতানার দল, প্রথম ম্যাচ শুক্রবার ব্রিজবেনে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 03:19 PM

Updated : 08 Oct 2026, 03:19 PM

শক্তি-সামর্থ্য, ইতিহাস-পরিসংখ্যান কিংবা সাম্প্রতিক ফর্ম- সব কিছুতে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে বাংলাদেশ। তবে এবারের উপলক্ষটা বিশেষ। প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাঠে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে নিগার সুলতানার দল। সব পারিপার্শ্বিকতা ভুলে দলের কাছে তাই ইতিবাচক ক্রিকেট দেখার প্রত্যাশা প্রধান কোচ ডেভিড হেম্পের।

ঐতিহাসিক সফরে তিনটি ওয়ানডে খেলতে বাংলাদেশ দল এখন অস্ট্রেলিয়ায়। নারী ক্রিকেটে যে কোনো সংস্করণে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে এটিই তাদের প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফর। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে শুধু ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাদের।

প্রায় অর্ধযুগ পর এবার ওয়ানডে সিরিজ খেলতে গিয়ে বাস্তবতা এড়িয়ে যাচ্ছেন না নতুন দায়িত্ব পাওয়া হেম্প। সার্বিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্য মেনে নিয়ে নিজ দলের কাছে খুব বেশি কিছুর আশা করছেন না এই সিরিজ দিয়ে কাজ শুরু করা প্রধান কোচ।

ব্রিজবেনে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে শুরু হবে প্রথম ওয়ানডে। ম্যাচের আগের দিন বিসিবির ভিডিওবার্তায় দলের কাছে নিজের প্রত্যাশার কথা জানান হেম্প।

“দলের কাছে প্রত্যাশা যদি বলেন... এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, বিশ্বের সেরা দলের মুখোমুখি হচ্ছি। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি; উভয় সংস্করণেই তারা র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে। তাই এই বাধা টপকানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

“দারুণ সব ক্রিকেটারে গড়া চমৎকার দল তারা। তবে আমার প্রত্যাশা, মাঠে কীভাবে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে পারি আমরা। এমনটা চাই না যে, দেশে ফিরে আফসোস করতে হয়, ‘ইশ! যদি এভাবে খেলতাম বা ওই অ্যাপ্রোচটা থাকত!’ খেলার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে মাঠে নামার মানসিকতা- সব কিছুতে শতভাগ ইতিবাচক থাকতে হবে। যদি এটি করতে পারি, তবেই সামনে এগিয়ে যাব।”

এশিয়ান গেমসের ব্যর্থতার পর দেশে ফিরে অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য কিছু দিন অনুশীলন করার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সিরিজ শুরুর সপ্তাহখানেক আগেই অস্ট্রেলিয়ায় চলে যায় তারা।

নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার ফাঁকে মঙ্গলবার কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে নিগারের দল। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বোলাররা তেমন সুবিধা করতে পারেননি। তবে শারমিন আক্তার ৬৭ বলে ৬৮ ও সোবহানা মোস্তারি ৫৪ বলে ৪৯ রানের ইনিংসে সাম্প্রতিক ছন্দের ছাপ রেখেছেন।

“এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলছি আমরা। প্রস্তুতি বেশ ভালো হয়েছে। আমরা ভাগ্যবান যে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি। পাশাপাশি অনুশীলনের উইকেটগুলোও ছিল দারুণ। তবে ক্রিকেটারদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। এখানকার উইকেটে কিছুটা বাড়তি গতি ও বাউন্স রয়েছে। যা তাদের চেনা উইকেটের চেয়ে ভিন্ন।

“তবে তারা দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছে এবং কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। এর বেশি তো আর চাওয়ার কিছু থাকে না। কারণ এই কন্ডিশনগুলো আমাদের জন্য নতুন ও ভিন্ন। তবে সব মিলিয়ে প্রস্তুতির প্রথম চার-পাঁচ দিন ভীষণ ভালো কেটেছে।”

গত সাড়ে তিন বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে নানা দায়িত্বে দেখা গেছে হেম্পকে। শুরুতে হাই পারফরম্যন্স (এইচপি) ইউনিটের জন্য আনা হলেও, দ্রুতই জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। এর ফাঁকে নারী ক্রিকেট দলেও কাজ করেছেন ব্যাটিং কোচ হিসেবে।

এশিয়া কাপ ও পরে এশিয়ান গেমসে প্রত্যাশানুরুপ ফল না পাওয়ায় অভিজ্ঞ সরওয়ার ইমরানের জায়গায় এবার নিগারদের প্রধান কোচ হিসেবেই বেছে নেওয়া হয়েছে হেম্পকে। এই দফায় তিনি দায়িত্ব পেয়েছেন দুই বছরের মেয়াদে।

নতুন দায়িত্বে সরাসরি ব্রিসবেনে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন হেম্প। পরিচয়টা নতুন হলেও সোবহানা, নিগার, শারমিনদের সঙ্গে আগেও কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় সামনের পথচলা সহজ হবে মনে করেন ৫৫ বছর বয়সী কোচ।

“দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছি এক সপ্তাহ হলো। তবে সৌভাগ্যবশত, এর আগে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বা দেড় বছর আগেও এই দলের সঙ্গে কাজ করেছি। তাই সেটআপটা আমার জন্য নতুন হলেও, দলের সঙ্গে আগেও কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার আছে। সব মিলিয়ে দারুণ।

“ক্রিকেটারদের আমি ভালোভাবেই চিনি। তারা দারুণ পরিশ্রম করছে এবং আমরা মাঠে কীভাবে খেলতে চাই- সেটা নিয়ে বেশ ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। যেহেতু গ্রুপটার সঙ্গে আমার আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে, তাই এই পালাবদলটা আমার জন্য বেশ সহজ হয়েছে।”