২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে নিজ দেশের উইকেট নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন শানাকা

ব্যাটিং সহায়ক উইকেট চেয়েও না পাওয়ায় হতাশ শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকা।

বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে নিজ দেশের উইকেট নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন শানাকা
হতাশ লঙ্কান দলপতি দাসুন শানাকা। ছবি: আইসিসি।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Feb 2026, 09:58 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:02 PM

ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় দাসুন শানাকা নিজে থেকেই বললেন, “আগের বোলিং করার ব্যাপারটি ছিল সম্মিলিত সিদ্ধান্ত…।” তাকে বলতেই হতো, কারণ ততক্ষণে যে বুঝে গেছেন, সিদ্ধান্তটি ছিল চরম ভুল! শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক অকপটেই বললেন, উইকেট পড়তে ভুল করেছেন তারা। আসরজুড়েই প্রত্যাশামতো উইকেট না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশও করলেন তিনি।

নিউ জিল্যান্ডের কাছে সুপার এইটের ম্যাচে হেরে বুধবার নিশ্চিত হয়েছে শ্রীলঙ্কার বিদায়। সেমি-ফাইনাল সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে জিততেই হতো লঙ্কানদের। কিন্তু হেরে গেছেন তারা ৬১ রানে। 

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ঠাসা গ্যালারির সামনে ম্যাচের এক পর্যায়ে শ্রীলঙ্কাকেই মনে হচ্ছিল যেন সফরকারী দল। উইকেটে বল টার্ন ও গ্রিপ করছিল বেশ। কিউই স্পিনারদের সামনে খাবি খাচ্ছিলেন লঙ্কান ব্যাটাররা।

ম্যাচের প্রথম ভাগের একটি সময় পর্যন্ত দাপট ছিল লঙ্কানদেরই। টস জিতে বোলিং নিয়ে নিউ জিল্যান্ডকে এক পর্যায়ে প্রবল চাপে ফেলে দেন তারা ৮৪ রানে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে। কিন্তু সপ্তম উইকেটে মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাককনকির ৪৭ বলে ৮৪ রানের অসাধারণ জুটি তাদেরকে নিয়ে যায় ১৬৮ রানে। সেই রান তাড়ায় কিউই স্পিনের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে লঙ্কান ব্যাটিং। পার্ট টাইমার রাচিন রাভিন্দ্রা উইকেট নেন ৪টি। নিউ জিল্যান্ডের ২০ ওভারের ১৭টিই করেন স্পিনাররা!

শানাকা অকপটেই বললেন, নিজেদের দেশের পিচ বুঝতে ভুল করেছেন তারা। বিশ্বকাপজুড়েই প্রত্যাশামতো উইকেট না পাওয়ার হতাশার কথাও বললেন তিনি।

“আগে বোলিংয়ের ব্যাপারটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ছিল। আমরা ধারণা করতে পারিনি, বল এতটা টার্ন করবে পরে। যেহেতু নতুন পিচ, আমরা ভেবেছিলাম সময়ের সঙ্গে আরও থিতু হবে উইকেট।”

“টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বলেছিলাম যে, উইকেটগুলো ব্যাটিং সহায়ক হবে বলে আশা করছি। শ্রীলঙ্কার সেরা ব্যাটাররা এখানে খেলছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে যাদের সামর্থ্য ও স্ট্রাইক রেট ভালো, তাদেরকে দলে নিয়েছি আমরা। জোর করে কাউকে আনা হয়নি। কিন্তু কখনও কখনও প্রত্যাশামতো কন্ডিশন আমরা পাই না ও অপ্রত্যাশিতভাবে ম্যাচ হেরে যাই। যা হয়েছে, তা নিয়ে আমরা খুবই হতাশ।”

শুধু এই ম্যাচেই নয়, আগের ম্যাচে পাল্লেকেলেও টস জিতে একইরকম অভিজ্ঞতা হয় শ্রীলঙ্কার। ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় তারা। ইংলিশদের ১৪৬ রানে আটকে রেখেও লঙ্কান ইনিংস গুটিয়ে যায় স্রেফ ৯৫ রানে। আবার উল্টো অভিজ্ঞতাও আছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্রেমাদাসাকে আগে ব্যাট করে ১৭৮ রান তুলেও হেরে যায় তারা ৭ উইকেটে। 

শ্রীলঙ্কা ভুগেছে চোটের কারণেও। টুর্নামেন্ট চলার সময় চোটের কারণে তারা হারিয়েছে বোলিং আক্রমণের সেরা অস্ত্র ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও গুরুত্বপূর্ণ পেসার মাথিশা পাথিরানাকে। ফিটনেসকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বললেন শানাকা।

“ফিটনেসের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না। যে পরিমাণ চোট সমস্যা আমাদের আছে, এরপর ভালো ফল পাওয়া কঠিন। আমাদের জন্য ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা এত গুরুত্বপূর্ণ একজন ক্রিকেটার, এমনকি আমরা জানি মাথিশা পাথিরানাও দলের জন্য কতটা জরুরি… ইশান মালিঙ্গাও চোটের কারণে বাইরে।”

“ফিটনেসের সমস্যাই চোট বয়ে আনে। কিছু ক্রিকেটার ফিটনেসের সমস্যার কারণে দলেই আসতে পারছে না। বেশ কটি বিশ্বকাপ ধরেই আমরা এসব বলে আসছি।”

বাদ পড়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কা শেষ ম্যাচটি খেলবে পাকিস্তানের বিপক্ষে শনিবার। এর আগে শুক্রবার যদি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে যায় নিউ জিল্যান্ড, তাহলে পাকিস্তানের জন্যও ম্যাচটি হবে স্রেফ নিয়ম রক্ষার।