Published : 16 Feb 2026, 03:14 PM
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অভিষেক আসরটা একদমই ভালো কাটছে না আভিশেক শার্মার। এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচ খেলে রানের খাতাই খুলতে পারেননি র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর ব্যাটসম্যান। ছন্দের খোঁজে থাকা বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানকে আপন চেহারায় ফেরার পথ বাতলে দিলেন ভারতের সাবেক কোচ ও সাবেক অলরাউন্ডার রাভি শাস্ত্রি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা আভিশেক এই সংস্করণে হয়ে উঠেছেন বোলারদের আতঙ্ক। ভারতের হয়ে ৪০ টি-টোয়েন্টিতে দুই সেঞ্চুরি ও আট ফিফটিতে তার রান ১ হাজার ২৯৭, স্ট্রাইক রেট ১৯৩.২৯। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতেও আভিশেকের পরিসংখ্যান উজ্জ্বল। ১৭৫ ম্যাচে ৫ হাজার ১০০ রান করেছেন ১৭৩.২৯ স্ট্রাইক রেটে। নামের পাশে আটটি সেঞ্চুরির সঙ্গে ফিফটি ৩০টি।
দীর্ঘ দিন ধরেই টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটা ধরে রেখেছেন আভিশেক। এই সংস্করণের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রেটিং পয়েন্টের রেকর্ডটিও তার। বিশ্বকাপে তাকে ঘিরে ভারতীয়দের প্রত্যাশা অনেক। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই করতে পারেননি বাঁহাতি ওপেনার।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিষেকে গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ পান ২৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। পেটের সমস্যায় পরের ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ফিরে ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙতে পারেনি। প্রথম ওভারেই বিদায় নেন মিড অনে ক্যাচ দিয়ে।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে আলোচনায় ছিলেন আভিশেকও। তিনি যেন ম্যাচটি খেলেন, চেয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা। আর সেই সালমানই আউট করেন তাকে প্রথম ওভারে।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিদের সঙ্গে চার বলে খেলে রানের খাতা খুলতে না পারা আভিশেককে ক্রিজে গিয়ে নিজেকে আরেকটু বেশি সময় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শাস্ত্রি।
“আমার মনে হয়, সে ছন্দে ফেরার অপেক্ষায় আছে, তবে তার নিজেকে আরও কিছুটা সময় দিতে হবে।”
“এমনটা হতেই পারে এবং মাঝে মধ্যে ফর্ম হারিয়ে যেতে পারে। কিন্তু তাকে ছন্দে ফেরার জন্য (ক্রিজে) নিজেকে আরেকটু বেশি সময় দিতে হবে। কারণ পরে চার ও ছক্কায় ডট বলগুলোকে পুষিয়ে দেওয়া তার জন্য কঠিন নয়।”
আভিশেকের উল্টো চেহারায় আছেন ইশান কিষান। কলম্বোর মন্থর ও স্পিন সহায়ক উইকেটে যেখানে ভুগেছেন দুই দলের প্রায় সব ব্যাটসম্যান, সেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল কিষান। ম্যাচের প্রথম ওভারে আভিশেককে হারানো পর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন তিনি।
বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে তিনটি ছক্কা ও ১০ চারে ৭৭ রান করে যখন মাঠ ছাড়েন কিষান, ভারতের রান তখন ৮৮। পরে বাকিদের টুকটাক অবদানে ১৭৫ রান পর্যন্ত করতে পারে ভারত। রান তাড়ায় মুখ থুবড়ে পড়ে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
৬১ রানে জয়ী ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন কিষান। তার ব্যাটিং মন জয় করে নিয়েছে শাস্ত্রি।
“এই মুহূর্তে সে স্বপ্নের মতো ব্যাটিং করছে। ওই উইকেটে দুইশর কাছাকাসছি স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করা অবিশ্বাস্য।”
“ভারতীয় হোক কিংবা পাকিস্তানি, কোনো ব্যাটসম্যানই এতটা সহজে ব্যাটিং করতে পারেনি, কারণ বল থেমে আসছিল। সে সেভাবে ব্যাটিং করেছে তা ছিল দারুণ, আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে সে অনেক দ্রুত কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে।”
পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামী বুধবার নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে তারা।