১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ম্যাচ-সেরার পুরস্কার বিদায়ী কোচকে উৎসর্গ করলেন ইব্রাহিম

"আজকেই আমাদের সঙ্গে তার শেষ দিন এবং আমরা তাকে সত্যিই মিস করব", জোনাথান ট্রটকে নিয়ে বললেন এই আফগান ওপেনার।

ম্যাচ-সেরার পুরস্কার বিদায়ী কোচকে উৎসর্গ করলেন ইব্রাহিম
ম্যাচ-সেরার পুরস্কার কোচের হাতে তুলে দিচ্ছেন ইব্রাহিম জাদরান। ছবি: আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ফেইসবুক

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Feb 2026, 09:44 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:59 PM

প্রথম পাঁচ বলে কেবল দুটি সিঙ্গল নিতে পারেন ইব্রাহিম জাদরান। চতুর্থ ওভারে টানা দুই বলে বাউন্ডারি মেরে হাত খোলেন তিনি। এরপর আর থামাথামি নেই। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে দলকে দেন শক্ত ভিত। দিনশেষে ম্যাচ-সেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে কোচের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এই আফগান ওপেনার।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে আগেই। তবে টানা দুই জয়ে আসরের শেষটা তাদের বেশ ভালো হয়েছে। 

সবশেষ বৃহস্পতিবার ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে কানাডাকে ৮২ রানে হারায় গতবারের সেমি-ফাইনালিস্টরা। তাদের ২০০ রানের জবাবে ১১৮ রানে আটকে যায় কানাডা।

আফগানদের এই দাপুটে জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান ইব্রাহিমের। সাত চার ও পাঁচ ছক্কায় ৫৬ বলে অপরাজিত ৯৫ রানের ইনিংস খেলে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ তিনি।

চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ব্যাটের কানায় লেগে থার্ড ম্যান দিয়ে চার রান পান ইব্রাহিম। পরের বলে এক্সট্রা কাভার দিয়ে বাউন্ডারি মারেন তিনি। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খায় আফগানিস্তান। 

তবে দলকে পথ হারাতে দেননি ইব্রাহিম। অষ্টম ওভারের প্রথম বলে সাদ বিন জাফারকে প্রথম ছক্কাটা মারেন তিনি। ইনিংসে কখনোই সেভাবে বিধ্বংসী হয়ে ওঠেননি; তবে নিজের কাজটা ঠিকঠাকই করেন। 

দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে আগেও তিনবার ম্যাচ-সেরা হয়েছেন ইব্রাহিম, কিন্তু বিশ্বকাপে এবারই প্রথম। আগের ম্যাচেও পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলেন তিনি।

শেষ ম্যাচে এসে নিজেকে ফিরে পেয়েই বেশি খুশি ইব্রাহিম, ম্যাচ-সেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে তাই বললেন।

“আমি উপভোগ করেছি, প্রথম দুই ইনিংসে ভালো ক্রিকেট খেলিনি (নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১২), যেমনটা প্রত্যাশা করেছিলাম। চাপ ছিল, সবসময়ই থাকে। আমি নিজেকে চাপের পরিস্থিতিতে ফেলতে চাই এবং এটা উপভোগও করি।” 

“ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে, স্ট্রাইক বদল করতে এবং খারাপ বলকে শাস্তি দিতে ও জুটি গড়তে চেয়েছিলাম, যা আমি করেছি।”

এ দিন ভাগ্যও তার পক্ষে ছিল; ব্যক্তিগত ৫৪ রানে একবার জীবন পান তিনি, পঞ্চদশ ওভারের প্রথম বলে সীমানার কাছে তার ক্যাচ ছাড়েন কালিম সানা। তবে এরপর আর কোনো ভুল করেননি ইব্রাহিম।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার আগের সেরা ছিল ৮৭; গত মাসে দুবাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওই ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন তিনি। সেঞ্চুরি ছুঁতে শেষ ওভারে তার ১৪ রানের দরকার ছিল। শেষ দুই বলে চার মেরে ৯৫ পর্যন্তই যেতে পারেন তিনি। 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইব্রাহিমের এই ৯৫ আফগানিস্তানের ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ। আগের সর্বোচ্চ ছিল রাহমানউল্লাহ গুরবাজের ৮৪; এই আসরেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করেছিলেন তিনি।

শুধু এই প্রতিযোগিতাতেই নয়, আইসিসির আরও দুই টুর্নামেন্টে আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ স্কোরার ইব্রাহিম। ওয়ানডে বিশ্বকাপে অপরাজিত ১২৯, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০২৩ আসরে করেছিলেন তিনি। আর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ১১৭, খেলেছিলেন ২০২৫ আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

এবার তিন অঙ্কের কাছে গিয়েও মিলল না, হতাশা থাকতেই পারে। তবে ছন্দে ফিরতে পেরেই খুশি ইব্রাহিম। বিদায়ী কোচ জোনাথন ট্রটকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাকে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি উৎসর্গ করলেন তিনি।

“ম্যান অব দা ম্যাচ পুরস্কার আমাদের কোচকে উৎসর্গ করতে চাই। তার কাছ থেকে এত কিছু শিখেছি! আমাকে অনেক প্রেরণা জুগিয়েছেন তিনি এবং পাশে থেকেছেন। শুধু আমাকে নয়, গোটা দলেরই। তার তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ও আইসিসি ইভেন্টে অনেক কিছু অর্জন করেছি আমরা। আজকেই আমাদের সঙ্গে তার শেষ দিন এবং আমরা তাকে সত্যিই মিস করব। ভবিষ্যতের জন্য তাকে শুভ কামনা জানাই আমরা।"

আগের দিন আফগানিস্তান অধিনায়ক রাশিদ খানের কথায়ও ছিল একই সুর। গত সাড়ে তিন বছরে আফগানদের উন্নতির পেছনে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ট্রটকেই দেন রাশিদ।