Published : 28 Feb 2026, 08:16 AM
কথায় কোনো রাখঢাক নেই, অল্পতে রেগে যান, আবেগ দিয়ে কাজ করেন- গৌতাম গাম্ভিরের এমন স্বভাব প্রায় সবারই জানা। স্টিভ হার্মিসনের চোখে ভারত কোচের আরও একটা বড় ঘাটতি আছে; ভুল স্বীকার করে শুধরানোর মানসিকতা নেই। ইংলিশ সাবেক পেসারের মনে হচ্ছে, চলতি বিশ্বকাপ না জিততে পারলে দায়িত্ব হারাবেন ‘খিটখিটে স্বভাবের’ গাম্ভির।
গাম্ভিরের কোচিংয়ে ভারতের পারফরম্যান্স ভালো-খারাপ মিলিয়ে। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জেতে ভারত তার দায়িত্বে। কিন্তু তার সময়েই ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে পরাজয়ের তেতো স্বাদ পায় দলটি। নিজেদের আঙিনায় দক্ষিণ আফ্রিকার কাছেও টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হয় তারা।
গত বছর ইংল্যান্ডের মাঠে টেস্ট সিরিজ ড্র করতে পারলেও, এর আগে হেরেছে অস্ট্রেলিয়ায় বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে। গত অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় তারা হেরেছে ওয়ানডে সিরিজেও।
কেবল টি-টোয়েন্টিতেই গাম্ভিরের কোচিংয়ে কোনো সিরিজ হারেনি ভারত। এখন তাদের সামনে চ্যালেঞ্জ দেশের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখা। কিন্তু সেখানেও খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের দল।
অপরাজিত থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করে শুরুটা ভালো করলেও, সুপার এইটে এসে ধাক্কা খায় ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরে যায় তারা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতে সেমি-ফাইনালে খেলার আশা অবশ্য বাঁচিয়ে রেখেছে দলটি। শেষ চারে খেলতে হলে ‘বাঁচা-মরার’ ম্যাচে হারাতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
ইউটিউব চ্যানেল ‘টকস্পোর্ট ক্রিকেট’ এ হার্মিসন গাম্ভিরের কিছু দিকের প্রশংসা করলেও, তার স্বভাবের দিকে আঙুল তুলেছেন।
“গাম্ভিরকে পছন্দ করা কঠিন…সে খুবই রূঢ় স্বভাবের, আর ড্রেসিং রুমে সে কেমন আমি নিশ্চিত নই। ভারতীয় কোচ হিসেবে খুব কম অহংবোধ থাকলে, সফল হওয়ার সুযোগ থাকে। এই বিশ্বকাপ জিততে না পারলে সে দায়িত্ব হারাবে। তবে কোচিংয়ে সে যেভাবে এগিয়েছে, আমি তার প্রশংসা করি। খেলোয়াড় হিসেবে সে ছিল খিটখিটে মেজাজের ও একগুঁয়ে স্বভাবের।”
এরপর গাম্ভিরের আত্মসমালোচনা করতে না পারার দিকটি তুলে ধরেন হার্মিসন। ২২৬ টেস্ট উইকেট নেওয়া এই পেসারের মতে, ভালো কোচ হওয়ার সবচেয়ে বড় গুণ এটাই, যা গাম্ভিরের মধ্যে আছে কিনা সন্দেহ আছে তার।
“ভারতীয় গ্রেটদের নিজেদের সঙ্গে কোচিংয়ে সে রাখেনি। বরং, মর্নে মর্কেল ও রায়ান টেন ডেসকাটকে নিয়েছে, যারা তার চোখে তার কোচিংয়ের ধরনে দল পরিচালনার জন্য সেরা কোচ। সে যাদের পাশে চায়, তাদের প্রতি অনুগত, আর তার এই গুণের প্রশংসা করি।”
“ভালো কোচের লক্ষণ হলো, ভুল করলে স্বীকার করা এবং সেটা শুধরানোর চেষ্টা করা। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বলা যে, এভাবে কাজ হবে না, আমার ধরন পরিবর্তন করা দরকার। আমার মনে হয় না, গাম্ভির এই জায়গায় শক্তিশালী।”
কোয়ার্টার-ফাইনালে রূপ নেওয়া ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচটি মাঠে গড়াবে আগামী রোববার, কলকাতায়।