Published : 28 Feb 2026, 09:32 PM
অফ স্টাম্পের বাইরের স্লোয়ার বল লং-অফে খেলেই ছুট দিলেন সাহিবজাদা ফারহান। সিঙ্গল পূর্ণ করতেই শূন্যে লাফিয়ে মুষ্টিবদ্ধ হাত বাতাসে ছুঁড়ে হুঙ্কার দিলেন তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি বলে কথা! আসরে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করে রেকর্ডের এমন এক পাতায় নাম লেখালেন পাকিস্তানি ওপেনার, যেখানে পা পড়েনি আর কারো।
পাল্লেকেলেতে শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে চমৎকার ইনিংসটি উপহার দেন সাহিবজাদা। ওপেনিংয়ে নেমে ঠিক ১০০ রান করে শেষ ওভারে আউট হন তিনি। ৬০ বলের ইনিংসটি সাজান পাঁচটি ছক্কা ও নয়টি চারে।
চলতি বিশ্বকাপে আরেকটি সেঞ্চুরি করেন সাহিবজাদা গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে, নামিবিয়ার বিপক্ষে। ওই ম্যাচে চারটি ছক্কা ও ১১টি চারে ৫৮ বলে ঠিক ১০০ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে দুটি সেঞ্চুরি করতে পারেননি কেউ। এই প্রতিযোগিতায় সব মিলিয়ে দুটি সেঞ্চুরিই করতে পেরেছেন আর কেবল একজন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ গ্রেট ক্রিস গেইল।
সাহিবজাদার সেঞ্চুরির পাশাপাশি চমৎকার এক ইনিংস খেলেন ফাখার জামান। তাদের রেকর্ড গড়া জুটিতে ২১২ রান করে পাকিস্তান।
আসরে নিজের প্রথম ফিফটিতে চারটি ছক্কা ও নয়টি চারে ৪২ বলে ৮৪ রান করেন ফাখার। সাহিবজাদার সঙ্গে তার শুরুর যুগলবন্দিতে আসে ১৭৬ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যেকোনো উইকেটে যা সর্বোচ্চ। তারা ভাঙেন চলতি আসরেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে গড়া নিউ জিল্যান্ডের টিম সাইফার্ট ও ফিন অ্যালেনের অবিচ্ছিন্ন ১৭৫ রানের জুটির রেকর্ড।
টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের তৃতীয় সেরা জুটি এটি। এই সংস্করণে দুইশ ছোঁয়া জুটি আছে তাদের। ২০২২ সালে করাচিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৩ রানে অবিচ্ছিন্ন ছিলেন বাবর আজম ও মোহাম্মাদ রিজওয়ান।
বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলতে হলে লঙ্কানদের হারাতেই হবে পাকিস্তানকে। সঙ্গে মেলাতে হবে রান রেটের কঠিন সমীকরণ। ম্যাচটি ৬৫ রানের বেশি ব্যবধানে জিততে হবে সালমান-সাহিবজাদাদের। অর্থাৎ, ১৪৭ রানের মধ্যে শ্রীলঙ্কাকে আটকে রাখতে হবে তাদের।
মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রথমভাগটা ভালোই কেটেছে পাকিস্তানের। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দল সাহিবজাদা ও ফাখারের ব্যাটে পায় উড়ন্ত সূচনা। পাওয়ার প্লেতেই এই দুজন পাকিস্তানকে এনে দেন ৬৪ রান।
এরপরও চলতে থাকে তাদের আগ্রাসী ব্যাটিং। প্রথম ১০ ওভারের প্রতিটিতেই বাউন্ডারি পায় পাকিস্তান। ১০ ওভার শেষে তাদের রান দাঁড়ায় ১০২।
এই সময়েই ৩২ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন সাহিবজাদা। আর পঞ্চাশ ছোঁয়ার পথেই ভিরাট কোহলিকে ছাড়িয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড গড়েন তিনি। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ২০১৪ আসরে ছয় ইনিংসে ৩১৯ রান করেছিলেন ভারতীয় ব্যাটিং গ্রেট কোহলি।
ফাখারের ফিফটি আসে দ্বাদশ ওভারে, দুনিথ ওয়েলালাগেকে চার মেরে, ২৭ বলে। পরের ডেলিভারিই ছক্কায় ওড়ান বাঁহাতি ওপেনার। পঞ্চদশ ওভারে লং-অনে সাহিবজাদার ক্যাচ ছাড়েন ওয়েলালাগে। তখন ৭৫ রানে খেলছিলেন সাহিবজাদা।
পরের ওভারেই ভাঙে পাকিস্তানের শুরুর জুটি। দুশমান্থা চামিরার অফ স্টাম্পের বাইরের বল স্টাম্পে টেনে আনেন ফাখার। পরে দ্রুত আরও কয়েকটি উইকেট হারায় পাকিস্তান।
সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে রানের চাকা সচল রাখেন সাহিবজাদা। ১৯তম ওভারে এসে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কের ঠিকানায় পা রাখেন তিনি। পাকিস্তানের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে তার চেয়ে বেশি শতক আছে কেবল বাবরের, তিনটি।
ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে এক্সট্রা কাভারে ধরা পড়েন সাহিবজাদা। ওই ওভারে আরও দুটি উইকেট হারায় পাকিস্তান।