রমিজের ১৯৯২ বিশ্বকাপের গল্পে ‘অনুপ্রাণিত’ বাবররা

পাকিস্তান দলকে মাঠে নেমে স্রেফ খেলাটা উপভোগ করতে বলেছেন বোর্ড চেয়ারম্যান।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Nov 2022, 11:40 AM
Updated : 12 Nov 2022, 11:40 AM

ইমরান খানের স্লোয়ার ডেলিভারি হাওয়ায় ভাসিয়ে দিলেন রিচার্ড ইলিংওর্থ। মিড-অফ থেকে খানিক দৌড়ে ক্যাচ নিলেন রমিজ রাজা। শিরোপা জয়ের উল্লাসে ফেটে পড়ল পাকিস্তান। রমিজ এখন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান। আরেকটি ফাইনালের আগে নিজের সেই অভিজ্ঞতা শুনিয়ে দলকে উজ্জীবিত করলেন সাবেক এই ব্যাটসম্যান। 

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রোববার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় শুরু হবে খেলা। 

বিশ্বকাপে পাকিস্তানের এবারের যাত্রার সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে ১৯৯২ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের। দুই আসরেই শুরুতে বেশ ধুঁকেছে পাকিস্তান। ত্রিশ বছর আগের বিশ্বকাপে রাউন্ড রবিন লিগে পাঁচ ম্যাচে স্রেফ একটি জিতেছিল তারা। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছিল দলটি। সেখানে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় ইমরান খানের দল।

এবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের পর জিম্বাবুয়ের কাছেও হেরেছিল পাকিস্তান। সুপার টুয়েলভ থেকে তাদের বাদ পড়া স্রেফ সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। পরের তিন ম্যাচ জেতে তারা, অন্যান্য ম্যাচের ফলও আসে তাদের পক্ষে। যার সৌজন্যে বাবর-রিজওয়ানরা উঠে যান সেমি-ফাইনালে। নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে এবারও ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। 

শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নামার আগে ড্রেসিংরুমে গিয়ে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেছেন রমিজ। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়ে অধিনায়ক বাবর বলেন, বোর্ড চেয়ারম্যানের এমন কথা তাদের দলে বাড়তি অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। 

“যখন বোর্ডের চেয়ারম্যান আসেন এবং দলকে বিশ্বাস যোগান, আমাদের আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়। চেয়ারম্যান এসে তার ১৯৯২ বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা যেভাবে আমাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন এবং যেভাবে ভরসা যুগিয়েছেন… তিনি বলেছেন যে, ‘বিশ্বাস রাখো ও নির্ভার থাকো। নিজের ক্রিকেট খেলো।’ তার কথায় আমাদের বিশ্বাস বেড়ে গেছে।” 

আইসিসি ডিজিটালের এক ভিডিওতে ড্রেসিংরুমে গিয়ে বাবরদের সঙ্গে কী কথা হয়েছে তা জানিয়েছেন রমিজ। দলের খেলোয়াড়দের মাঠে নেমে উপভোগ করতে বলেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান। 

“আমার এখনও মনে আছে (১৯৯২ সালের) ফাইনালের দিন একদম সংক্ষিপ্ত টিম মিটিং হয়েছিল আমাদের। সেখানে এমন কথা হয়েছিল যে, হোঁচট খেয়ে ঘুরে দাঁড়ানো এবং ৯০ হাজার মানুষের সামনে খেলার সুযোগ হয়তো ক্যারিয়ারে আমরা আর পাবো না। তাই সবাইকে বলা হচ্ছিল, মুহূর্তটা উপভোগ করে ম্যাচটি জিততে। আমি ড্রেসিংরুমে বাবরদের ঠিক এ কথাগুলো বলছিলাম। কখনও কখনও বড় ম্যাচের কথা বেশি না ভেবে মাঠে গিয়ে উপভোগ করা গুরুত্বপূর্ণ।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক