২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

শিশুখাদ্যে বিধিভঙ্গ: ভারতে নেসলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা

মান নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বলছে, পণ্য দুটির প্রচারে এমন কিছু দাবি করা হয়েছে, যা ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় পাওয়া যায়নি।

শিশুখাদ্যে বিধিভঙ্গ: ভারতে নেসলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা

ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 20 Sep 2026, 10:21 AM

Updated : 20 Sep 2026, 11:30 AM

ভারতে শিশুখাদ্য পণ্য ন্যান এক্সেলা প্রো স্টেজ-১ ও ল্যাকটোজেন প্রো-১–এ পরীক্ষায় বিভিন্ন অসঙ্গতি পাওয়ার পর নেসলে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ।

ভারতের বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ জানায়, খাদ্য নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন বিধি না মানার অভিযোগে নেসলে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও পোস্টে সতর্ক করা হয়েছে।

মান নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বলছে, পণ্য দুটির প্রচারে এমন কিছু দাবি করা হয়েছে, যা ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিজ্ঞাপনে বায়োটিনের যে পরিমাণ বলা হয়েছে, বাস্তবে তা মেলেনি।

তবে নেসলে ইন্ডিয়া বলেছে, তাদের পণ্যগুলো প্রযোজ্য সব বিধিবিধান মেনে তৈরি ও বাজারজাত করা হয়।

এক বিবৃতিতে এ কোম্পানি বলেছে, ন্যান এক্সেলা প্রো ও ল্যাকটোজেন প্রো এবং এসব পণ্যের মোড়কের তথ্য খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের বিশেষজ্ঞ কমিটির অনুমোদিত। কর্তৃপক্ষের নোটিসের জবাবে মোড়কে থাকা বক্তব্যগুলো নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। এসব বক্তব্য তথ্যভিত্তিক এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে সমর্থিত বলে দাবি করেছে নেসলে।

এ কোম্পানি আরও বলেছে, প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী সব বিধিবিধান ও মোড়কের তথ্যসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেছে। ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়াতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথাও বলেছে তারা।

শিশুখাদ্যের বিজ্ঞাপনের দাবি নিয়ে আপত্তি

খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বলছে, ন্যান এক্সেলা প্রো স্টেজ-১ ও ল্যাকটোজেন প্রো-১–এর পাশাপাশি বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্মে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন তারা পরীক্ষা করে দেখেছে।

ন্যান এক্সেলা প্রো স্টেজ-১-এর ক্ষেত্রে ‘৫ ধরনের মানবদুগ্ধ-শর্করা’ এবং ‘ছানার দুধের আমিষ’–সংক্রান্ত দাবি খতিয়ে দেখা হয়। আর ল্যাকটোজেন প্রো-১-এর ক্ষেত্রে ‘ছানার দুধের আমিষ সহজে হজম হয়’—এমন দাবির বিষয়ে পরীক্ষা চালানো হয়।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এসব দাবি ২০২০ সালের শিশুপুষ্টিবিষয়ক খাদ্যসংক্রান্ত খাদ্য নিরাপত্তা ও মান বিধিমালার একটি নির্দিষ্ট বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওই বিধিতে শিশুখাদ্যের বিক্রি বাড়াতে পারে এমন প্রচারমূলক দাবি বা উপকরণের ব্যবহার সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৯৯২ সালের শিশুর দুধের বিকল্প, বোতল ও শিশুখাদ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বিতরণ নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি ধারার কথাও বলেছে কর্তৃপক্ষ। ওই আইনে শিশুখাদ্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচাররে ‘মায়ের দুধের বিকল্প’ হিসেবে দেখানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে নেসলে ইন্ডিয়ার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার কথাও বলেছে মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। অনিয়মের অভিযোগে নেসলের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

বি-৭-এর পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন

নেসলে ইন্ডিয়ার তৈরি একটি দুধের গুঁড়ার নমুনা পরীক্ষা করে খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বলছে, সেখানে জীবনীসত্তা বায়োটিন বা বি-৭-এর পরিমাণ নির্ধারিত মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, পরে নমুনাটি পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। পুনঃপরীক্ষার জন্য নির্ধারিত পরীক্ষাগারেও দেখা যায়, নমুনাটিতে ২০২০ সালের শিশুপুষ্টিবিষয়ক খাদ্যসংক্রান্ত খাদ্য নিরাপত্তা ও মান বিধিমালায় নির্ধারিত বি-৭-এর মাত্রা পূরণ হয়নি।

খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপন ও মোড়কের তথ্য নিয়ে ভারতে বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে বড় পরিসরে নজরদারির মধ্যে নেসলের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হল।

খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ অগাস্টে জানিয়েছিল, বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন, মিথ্যা দাবি এবং মোড়কের তথ্যে বিধি না মানার অভিযোগে গত কয়েক মাসে খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোকে দেড় শতাধিক নোটিস দেওয়া হয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে নেসলে ইন্ডিয়া, পেপসিকো ও কোকা-কোলা ইন্ডিয়াও ছিল।

জুনে ম্যাগি নিয়েও নোটিস পেয়েছিল নেসলে

সাম্প্রতিক পদক্ষেপের আগে জুনে ম্যাগি নুডলসের একটি প্যাকেটে পোকামাকড়ের লার্ভা থাকার অভিযোগে নেসলে ইন্ডিয়াকে নোটিস দিয়েছিল খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ।

ম্যাগিতে লার্ভা থাকার অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরুর পর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে নোটিসটি দেয়।

নেসলে অবশ্য অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেছিল। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে দেওয়া জবাবে তারা বলেছিল, অভিযোগটি একটি ‘যাচাই না করা অ্যাকাউন্ট’-এর ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার কাছ থেকে কোনো নমুনাও পাওয়া যায়নি।

নেসলে জানিয়েছিল, একই উৎপাদন-ব্যাচের একটি সংরক্ষিত নমুনা খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত এবং জাতীয় পরীক্ষাগার স্বীকৃতি সংস্থার স্বীকৃত একটি স্বাধীন পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়। ওই পরীক্ষায় নমুনায় কোনো পোকামাকড়ের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।