লিড পেতে এক-দুইটি বড় জুটির আশায় উইন্ডিজ
দারুণ শুরুর পর কিছুটা খেই হারিয়ে এখন বাকি ব্যাটসম্যানদের দিকে তাকিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বল হাতে দিনের শুরুটা দুর্দান্ত করার পর ব্যাটিংয়েও দাপুটে শুরু পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু বৃষ্টির বিরতিতে যেন তাদের ছন্দও ভেসে গেল। বিরতির পর দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে গেল তারা। তার পরও অবশ্য দুর্ভাবনার কিছু দেখছেন না ওপেনার জন ক্যাম্পবেল। লিড নিতে তৃতীয় দিনে গোটা দুয়েক বড় জুটির আশায় তারা।
মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন দাপট ছিল বাংলাদেশের। তবে পরদিনই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বৃহস্পতিবার মাত্র ৫৯ রানে তারা তুলে নেয় স্বাগতিকদের বাকি থাকা ৭ উইকেট। পরে জন ক্যাম্পবেলের ব্যাটে ইনিংসের শুরুটাও তারা করে আশা জাগানিয়া।
সেই স্বস্তি অবশ্য দিনের শেষে পুরোটা নেই। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্ত দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরান ফিফটি করা ক্যাম্পবেলকে। পরে দ্রুতই কাভেম হজ ও আমির জাঙ্গুর উইকেট নিয়ে সফরকারীদের চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশ।
দিনের শেষভাগে ৭৩ বলে ৩৭ রানের জুটি গড়ে ক্যারিবীয়দের লড়াইয়ে রেখেছেন তেজনারাইন চান্দারপল ও জাস্টিন গ্রেভস। বাংলাদেশের ২৭১ রানের জবাবে এখন আর ১৩৭ রানে পিছিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ম্যাচের এই অবস্থায় অবিচ্ছিন্ন জুটির কাছেই নতুন দিনে বড় চাওয়া ক্যাম্পবেলের। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বললেন, বাকি ব্যাটসম্যানদের ওপর ভরসা রাখছে দল।
“এই মুহূর্তে ম্যাচটি সমানে-সমান অবস্থায় আছে বলেই আমি মনে করি। আগামীকাল যদি আমরা আর এক-দুইটি বড় জুটি গড়তে পারি, তবে লিড নেওয়ার সুযোগ থাকবে। আগামীকাল আমাদের মূল লক্ষ্য এটাই।
“আমাদের এখনও বেশ কয়েকজন সামর্থ্যবান ব্যাটসম্যান রয়েছে। এখানে যদি একটা বড় জুটি আর পরে আরও কয়েকটি পঞ্চাশ রানের জুটি গড়ে তোলা যায়, তবে আমরা লিড নিতে পারব।”
ক্যাম্পবেল আসতে পারতেন সংবাদ সম্মেলনে অপরাজিত ব্যাটসম্যান হিসেবে। বাংলাদেশের ইনিংস গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর তার ব্যাটেই ভালো শুরু পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে উইকেটের চারপাশে শট খেলে ৬১ বলে তিনি করেন ফিফটি।
এরপর প্রথমে আলোকস্বল্পতা ও পরে বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। পুনরায় খেলা শুরু হলে আর টিকে থাকতে পারেননি ক্যাম্পবেল। মিরাজের বলে সামনের পায়ে খেলতে গিয়ে ধরা পড়ে যান স্লিপে থাকা শান্তর হাতে।
৬১ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় উইকেট জুটি। পাঁচ ওভার পর চার বলের মধ্যে হজ ও জাঙ্গুকে ফিরিয়ে দেন তাইজুল ইসলাম। একশর আগে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা।
ক্যাম্পবেল মনে করেন, বৃষ্টির পর পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুবিধা কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশ।
“(বিরতির পর) পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন ছিল। বৃষ্টির পর যখন আবার মাঠে নামলাম, তখন আলোর প্রভাব আগের চেয়ে একটু বেশি ছিল। বলটাও কিছুটা কালচে হয়ে গিয়েছিল। তাছাড়া বৃষ্টির আগে আমাদের একটা ভালো ছন্দ ছিল। কিন্তু ওই বিরতিতে ওরা নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং খেলা শুরুর পর আরও ভালো জায়গায় বল রেখেছে।”
বৃষ্টির আগে ও পরে বাংলাদেশের বোলিং পরিকল্পনায়ও দেখা যায় ভিন্নতা। নতুন বলে হাসান মাহমুদের ব্রেক থ্রুর পর স্পিনাররা শুরুতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। তাদের বিপক্ষে অনায়াসেই খেলতে থাকেন ক্যাম্পবেল।
তবে বিরতির পর ফিরে গতি বৈচিত্রে মনোযোগ দেন মিরাজ, তাইজুলরা। তাতেই মেলে সাফল্য। সেই কথা বললেন ক্যাম্পবেলও।
“শুরুর দিকে বাংলাদেশের স্পিনাররা কিছুটা ধীরে বল করছিল। তবে কয়েক ওভার পর তারা গতি বাড়ায়, কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল কম গতির বলে ব্যাটিং করা সহজ হচ্ছে। তাই আমার মনে হয়, এই উইকেটে বলের গতিটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
