Published : 23 Oct 2022, 04:08 PM
মেঘলা আকাশ। হালকা ঘাসের উইকেট থেকে মিলল সুইং-বাউন্স। সহায়ক কন্ডিশনে নিজেদের মেলে ধরলেন ভারতের পেসাররা। দুর্দান্ত বোলিং উপহার দিয়ে পাকিস্তানকে চেপে ধরলেন আর্শদিপ সিং, হার্দিক পান্ডিয়া। তাদের ছোবল সামলে দারুণ দুটি ইনিংস খেলে দলকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দিলেন শান মাসুদ ও ইফতিখার আহমেদ।
মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রোববার এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় এশিয়ার দুই পরাশক্তি। চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ১৫৯ রান করে পাকিস্তান।
১৫ রানে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে হারিয়ে বিপদে পড়া পাকিস্তানকে পথে ফেরান মাসুদ ও ইফতিখার। দুইজনে গড়েন ৭৬ রানের জুটি। ৪ ছক্কা ও ২ চারে ৩৪ বলে ৫১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে ফেরেন ইফতিখার। তিনে নেমে মাসুদ অপরাজিত থাকেন ৫ চারে ৪২ বলে ৫২ রান করে।
প্রথম স্পেলে ২ ওভারে ১০ রান দিয়ে বাবর ও রিজওয়ানের উইকেট নেওয়া আর্শদিপ বোলিং শেষ করেন ৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে। ৩০ রানে ৩ উইকেট প্রাপ্তি পান্ডিয়ারও।
দারুণ বোলিং করেন ভুবনেশ্বর কুমার ও মোহাম্মদ শামি। একটি করে উইকেট নেন তারা যথাক্রমে ২২ ও ২৫ রান দিয়ে।
ব্যাটিংয়ে নেমে ভুবনেশ্বরের করা প্রথম ওভার থেকে স্রেফ ১ রান পায় পাকিস্তান, তাও ওয়াইড থেকে। নিজের প্রথম বলেই বাবরকে এলবিডব্লিউ করে দেন আর্শদিপ। রিভিউ নিয়েও গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ থেকে বাঁচতে পারেননি পাকিস্তান অধিনায়ক। ওভারের শেষ বলে চার মারেন রিজওয়ান।
নিজের পরের ওভারে রিজওয়ানকেও ফিরিয়ে দেন আর্শদিপ। দারুণ কয়েকটি ডেলিভারিতে ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করার পর দেন বাউন্সার। ব্যাট চালিয়ে থার্ডম্যানে ধরা পড়েন পাকিস্তান কিপার-ব্যাটসম্যান (৪)।
১৫ রানে দলের দুই ব্যাটিং স্তম্ভকে হারিয়ে তখন কাঁপছে পাকিস্তান। দেখেশুনে খেলে তাদের এগিয়ে নেন মাসুদ ও ইফতিখার। পাওয়ার প্লেতে ৩২ রান করা দলটির রান ১০ ওভার শেষে ৬০।
বিরতির পর তাণ্ডব চালান ইফতিখার। রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে বিশাল এক ছক্কায় ওড়ান লং-অন দিয়ে। পরে আকসার প্যাটেলকে চার বলের মধ্যে মারেন তিন ছক্কা। ওভারের শেষ বলে তিন রান নিয়ে ৩২ বলে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ফিফটি।
ইফতিখারকে পরের ওভারেই থামিয়ে দেন মোহাম্মদ শামি। তার স্টাম্প সোজা বলের লাইন মিস করে হন এলবিডব্লিউ। পরের ওভারে শাদাব খান ও হায়দার আলির উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে চেপে ধরেন পান্ডিয়া।
এই পেসারকে তিন বলে দুই চার মারার পরের বলেই কট বিহাইন্ড হয়ে যান মোহাম্মদ নাওয়াজ। দ্বিতীয় স্পেলে আক্রমণে এসেও শিকার ধরেন আর্শদিপ। তার আকস্মিক বাউন্সারে কিপারের গ্লাভসে ধরে পড়েন আসিফ আলি।
সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে এগিয়ে নেন মাসুদ। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি ৪০ বলে। শেষ দিকে একটি করে ছক্কা-চারে ৮ বলে ১৬ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি।