নারাইন-রাসেলের তাণ্ডবে কলকাতার ২৭২

৫ রানের জন্য আইপিএলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড ছুঁতে পারল না দলটি।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 April 2024, 04:16 PM
Updated : 3 April 2024, 04:16 PM

খুনে ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেললেন সুনিল নারাইন। এরপর প্রতিপক্ষের বোলারদের তুলোধুনা করে আইপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা জাগালেন আঙ্কৃষ রাঘুবানশি, আন্দ্রে রাসেলরা। শেষ পর্যন্ত অল্পের জন্য তা না পারলেও, নিজেদের সর্বোচ্চ সংগ্রহের কীর্তি গড়ল কলকাতা নাইট রাইডার্স।

বিসাখাপাত্নামে বুধবার ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে দিল্লির বোলারদের ওপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দেন কলকাতার ব্যাটসম্যানরা। তাতে ৭ উইকেটে ২৭২ রান করে দলটি। 

গত ২৭ মার্চ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ২৭৭ রান করে আইপিএলে সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ড গড়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ৭ দিনের মাথায় সেই রেকর্ডকে হুমকির মুখে ফেলে দিল কলকাতা। যদিও ৫ রানের জন্য সেটি ছুঁতে পারেনি তারা।    

আইপিএল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় পুঁজির রেকর্ডটি এখন কলকাতার। এর আগে কখনো আড়াইশ পার করতে পারেনি দলটি। ২০১৮ সালে তখনকার কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে করা ২৪৫ রান তাদের আগের সেরা।

কলকাতার রান পাহাড় গড়ার ভিতটা গড়ে দেন নারাইন। প্রথম ৬ বলে এক রান করা ক্যারিবিয়ান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এরপর চালান তাণ্ডব। ইশান্তের ওভারে মারেন ৩ ছক্কা ও ২ চার। পরে রাশিখ সালামকে তিন চার ও এক ছক্কা মেরে ফিফটি স্পর্শ করেন স্রেফ ১৮ বলে।

নারাইনের ঝড়ে পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৮৮ রান করে কলকাতা। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে নামা রাঘুবানশিও হাঁটেন আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পথে। এই দুইজনের ব্যাটে ১০ ওভারে ১৩৫ রান তুলে ফেলে দলটি।

স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে নিজের আগে সেরা ৭৯ রান পেরিয়ে নারাইন সম্ভাবনা জাগান সেঞ্চুরির। কিন্তু তাকে ৮৫ রানে থামিয়ে দেন মিচেল মার্শ। ৭টি করে ছক্কা ও চারে গড়া নারাইনের ৩৯ বলের ইনিংসটি। ভাঙে রাঘুবানশির সঙ্গে তার ৪৮ বলে ১০৪ রানের বিধ্বংসী জুটি।

২৫ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটি করার পরপরই ফিরে যান রাঘুবানশি। ৩ ছক্কা ও ৫ চারে ২৭ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। রাসেলের ব্যাটে তখনও রেকর্ড গড়ার আশায় ছিল কলকাতা। কিন্তু শেষ ওভারের প্রথম বলে ফিরে যান ৩ ছক্কা ও ৪টি চারে ১৯ বলে ৪১ রান করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ তারকা।

এক বল পর আউট হন রামদিপ সিংও। রেকর্ড ভাঙতে শেষ ওভারে কলকাতার প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। কিন্তু দুর্দান্ত বোলিংয়ে স্রেফ ৮ রান দেন ইশান্ত।

রিঙ্কু সিংয়ে ৮ বলে ২৬ রানের ক্যামিও ইনিংসটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কলকাতার বিশাল সংগ্রহ গড়তে। নরকিয়ার এক ওভারে তিন ছক্কা ও এক চার মেরে আউট হন তিনি।

সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিলেও দিল্লির হয়ে সবচেয়ে বেশি ৫৯ রান দেন নরকিয়া। ৪৩ রান দিয়ে ২ শিকার ধরেন ইশান্ত।

পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই ব্যাটিং ধসে পড়ে দিল্লি। ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারানো দলের হয়ে টানা দ্বিতীয় ফিফটি করেন রিশাভ পান্ত। ৫ ছক্কা ও ৪টি চারে ২৫ বলে ৫৫ রান করেন দিল্লি অধিনায়ক। চারটি করে ছক্কা-চারে ৩২ বলে ৫৪ রান আসে ট্রিস্টান স্টাবসের ব্যাট থেকে। এই দুইজন গড়েন ৪৭ বলে ৯৩ রানের জুটি।

শেষ দিকে আরেকটি ব্যাটিং ধসে ১৬৬ রানে গুটিয়ে যায় দিল্লি। কলকাতা পায় ১০৬ রানের বড় জয়।