দুঃসময়ের প্রহর পেরিয়ে ক্যারিয়ার সেরা ১৬৯ রানের ইনিংস খেলেছেন সৌম্য সরকার।
Published : 20 Dec 2023, 07:30 AM
একের পর এক ব্যর্থতার পরও দলের অগাধ আস্থা ছিল সৌম্য সরকারের উপর। প্রথম ওয়ানডেতে বিভীষিকাময় প্রত্যাবর্তনের পরও তাই টিকে যান একাদশে। সবশেষ দুই ম্যাচে রানের খাতা খুলতে না পারা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এবার উপহার দিলেন স্বপ্নময় ব্যাটিং। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে দিলেন আস্থার প্রতিদান।
কোথাও কিছু না করেই নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে ডাক পেয়েছিলেন সৌম্য সরকার। প্রথম ম্যাচের আগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছিলেন, সাকিব আল হাসানের অভাব তারা পূরণ করতে চান সৌম্যকে দিয়ে।
সেই ম্যাচে পুরোপুরি ব্যর্থ ছিলেন সৌম্য। খরুচে বোলিংয়ে ৬ ওভারে দিয়েছিলেন ৬৩ রান, ছেড়েছিলেন ক্যাচ। দলকে দিতে হয়েছিল এসবের চড়া মাশুল। পরে ফিরেছিলেন প্রথম ওভারেই, শূন্য রানে।
এর আগেও তার ব্যাটে ছিল না রান। সবশেষ ৬ ওয়ানডেতে কেবল একবার যেতে পেরেছিলেন দুই অঙ্কে, সেই ম্যাচে করেছিলেন ৩২। তিন ম্যাচে আউট হয়েছিলেন শূন্য রানে।
দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহে বলেন, সাকিবের অভাব সৌম্যকে দিয়ে পূরণ করাতে চান না তারা। তবে এই সিরিজে তাকে দেখতে চান অলরাউন্ডারের ভূমিকায়। সে কারণেই হয়তো একাদশে টিকে যান সৌম্য।
নেলসনে ম্যাচের প্রথমভাগে দারুণভাবে দলের চাওয়া কিছুটা পূরণ করেছেন তিনি। ১৫১ বলে দুই ছক্কা ও ২২ চারে খেলেছেন ১৬৯ রানের ইনিংস।
এদিন ভাগ্যও যেন ছিল তার পাশে। তিনবার বেঁচে গেছেন ক্যাচ দিয়ে। একবার টিকে গেছেন সফল রিভিউয়ে। তার সৌজন্যেই ২৯১ রানের পুঁজি গড়তে পেরেছে বাংলাদেশ।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একদমই ভালো ছিল না সফরকারীদের। দশম ওভারে ৪৪ রানের মধ্যে হারায় ৩ উইকেট। এনামুল হক, শান্ত ও লিটন দাসের কেউ যেতে পারেননি দুই অঙ্কে।
এক প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়লেও আরেক প্রান্তে সৌম্য ছিলেন অবিচল। শুরুর দিকেই দুটি বাউন্ডারি মারা বাঁহাতি ওপেনারকে সেভাবে স্পর্শ করেনি চাপ।
দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৫৮ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি, ওয়ানডেতে তিন বছরের মধ্যে প্রথম। ঠিক একই গতিতে এগিয়ে গিয়ে ১১৬ বলে যান তিন অঙ্কে। করেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি, ৫ বছরের মধ্যে এটাই প্রথম।
এরপর মন দেন রানের গতিতে দম দেওয়ার কাজে। উইকেটের চারপাশে শট খেলে ১৪৪ বলে স্পর্শ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম দেড়শ। তার তৃতীয় পঞ্চাশ আসে কেবল ২৮ বলে।
এই অংশেই বেশ কিছু অর্জন ধরা দেয় সৌম্যর হাতে। ছাড়িয়ে যান ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরে খেলা আগের সেরা অপরাজিত ১২৭ রান।
নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে ও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ছিল মাহমুদউল্লাহর। ২০১৫ বিশ্বকাপে হ্যামিল্টনে তিনি খেলেছিলেন অপরাজিত ১২৮ রানের দারুণ ইনিংস। সেটাও ছাড়িয়ে যান সৌম্য।
নিউ জিল্যান্ডে বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করা বাঁহাতি এই ওপেনারের সামনে হাতছানি দিচ্ছিল দারুণ এক রেকর্ড। কিন্তু থেমে যেতে হয় এর আগেই।
২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেটে লিটনের খেলা ১৭৬ রান এখনও বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ। সম্ভাবনা জাগিয়েও এর কাছাকাছি গিয়েই থামেন সৌম্য।
তবে আরেকটি রেকর্ড ঠিকই নিজের করে নিয়েছেন সৌম্য। বাংলাদেশের পরিপূর্ণ ইনিংসে সবচেয়ে বেশি শতাংশ রান তার। ৫৮.০৭ শতাংশ রান করে পেছনে ফেলেছেন মুশফিকুর রহিমকে। ২০১৮ সালে দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনি করেছিলেন ৫৫.১৭ শতাংশ রান।
এই ইনিংস খেলার পথে মুশফিকের সঙ্গে ১০৮ বলে গড়েন ৯১ রানের জুটি। মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে উপহার দেন ৫৩ বলে ৬১ রানের জুটি। পরে তানজিম হাসানের সঙ্গে ২৪ বলে গড়েন ৪০ রানের বিস্ফোরক জুটি। সব জুটিতেই অগ্রণী ছিলেন সৌম্য।
ব্যাটিংয়ে নিজের কাজ ঠিকঠাক মতো সারার পর এবার তার সামনে বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে অবদান রাখার চ্যালেঞ্জ।