টানা ৩ ম্যাচে সেঞ্চুরি নাঈমের, ৪ ম্যাচে মাহফিজুলের তৃতীয়
দুইজনেই ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিতে চোখ রেখে ছুটছেন।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চলতি আসরে রানের স্রোত বইয়ে চলেছেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও মাহফিজুল ইসলাম। টানা তিন ম্যাচে সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন ঢাকা বিভাগের ওপেনার নাঈম। আর চার ম্যাচে তৃতীয় শতকের স্বাদ পেয়েছেন ময়মনসিংহের ওপেনার মাহফিজুল।
এনসিএলের চতুর্থ রাউন্ডের প্রথম দিন রাজশাহী বিভাগের বিপক্ষে ১৭১ রান করে অপরাজিত আছেন নাঈম। তার চারটি ছক্কা ও ১৪টি চারে সাজানো ২৪২ বলের ইনিংসের সৌজন্যে ৩ উইকেটে ২৯৩ রান নিয়ে শনিবার দিন শেষ করেছে ঢাকা।
আর চট্টগ্রামের বিপক্ষে একটি ছক্কা ও ১৭টি চারে ১৫৬ রানে খেলছেন মাহফিজুল। সঙ্গে মুনিম শাহরিয়ারের ফিফটিতে ৪ উইকেটে ২৯৯ রানে দিন শেষ করেছে ময়মনসিংহ।
রংপুরের বিপক্ষে গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ পেয়ে এবারের জাতীয় লিগ শুরু করেন নাঈম। সেই তিনি ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা তিন ম্যাচে পেলেন তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া। ময়মনসিংহের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ১৩৫ রান করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এর আগে সিলেটের বিপক্ষে খেলেন ১৩৭ রানের ইনিংস।
মাহফিজুলের গল্পটা ভিন্ন। সিলেটের বিপক্ষে ৭০ রানের ইনিংস দিয়ে এবারের জাতীয় লিগ শুরু করা ডানহাতি ব্যাটসম্যান পরের ইনিংসে করেন সেঞ্চুরি। এরপর ঢাকার বিপক্ষে খেলেন ১১৬ রানের ইনিংস।
নাঈম ও মাহফিজুল প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির পথে ছুটছেন। এই সংস্করণে নাঈমের সেরা ইনিংসটি ১৮০ রানের। আর ক্যারিয়ার সেরা ১২৭ রান পেরিয়ে গেছেন মাহফিজুল।
নাঈমের সপ্তম সেঞ্চুরি
রাজশাহীতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা আলো হয়নি ঢাকার। ইনিংসের দশম ওভারে সানজামুল ইসলামের স্পিনে কট বিহাইন্ড হয়ে যান আনিসুল ইসলাম।
থিতু হয়ে আসাদুজ্জামান পায়েলের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আশিকুর রহমান শিবলি। পরের বলেই আসাদুজ্জামান এলবিডব্লিউ করে দেন অভিজ্ঞ মার্শাল আইয়ুবকে।
৮৮ রানে ৩ উইকেটে হারানো ঢাকার হাল ধরেন নাঈম ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। চমৎকার ব্যাটিংয়ের দিনের বাকি সময় কাটিয়ে দেন তারা দুইজন। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটি ২০৫ রানের।
৮৮ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন নাঈম। পরে কিছুটা দ্রুত রান বাড়িয়ে ১৪৩ বলে কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরিতে পা রাখেন তিনি। প্রথম শ্রেণিতে এটি তার সপ্তম শতক। নাঈমের দেড়শ আসে ২১৬ বলে।
অন্য প্রান্তে নাঈমকে দারুণ সঙ্গ দেওয়া মাহিদুল পঞ্চাশে পা রাখেন ১২০ বলে। ষষ্ঠ প্রথম শ্রেণির সেঞ্চুরির দুয়ারে দাঁড়িয়ে তিনি। তিনটি ছক্কা ও আটটি চারে অপরাজিত আছেন ৮৪ রান করে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ঢাকা বিভাগ: ৮৪.১ ওভারে ২৯৩/৩ (নাঈম ১৭১*, আনিসুল ১৯, শিবলি ১৬, মার্শাল ০, মাহিদুল ৮৪*; শফিকুল ১২-০-৫৪-০, আসাদুজ্জামান ১৫.১-৩-৪১-২, সানজামুল ১৫-২-৬০-১, মেহেরব ২৫-৪-৭৩-০, ওয়াসি ৮-১-৩৩-০, রহিম ৯-২-২৯-০)
মাহফিজুলের ব্যাটে উড়ছে ময়মনসিংহ
বগুড়ায় টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ময়মনসিংকে ভালো শুরু এনে দেন মাহফিজুল ও খালিদ হাসান। ৩৬ রান করা খালিদকে বিদায় করে ৮৩ রানের জুটি ভাঙেন মাহমুদুল হাসান জয়।
এরপর আরেকটি বড় জুটি গড়েন মাহফিজুল ও মুনিম শাহরিয়ার। ৯৯ রানের এই যুগলবন্দি গড়ার পথে দুটি ছক্কা ও চারটি চারে ৫৬ রান করেন মুনিম। হাসান মুরাদের বলে কট বিহাইন্ড হন এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।
এরপর আব্দুল মজিদকে নিয়ে ৯৩ রানের জুটি গড়েন মাহফিজুল। ৭৭ বলে ফিফটি করা এই ব্যাটসম্যান প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরিতে পা রাখেন ১৫৬ বলে। মজিদকে এলবিডব্লিউ করে জুটি ভাঙেন মুরাদ। এই স্পিনার কয়েক ওভার পর বোল্ড করে দেন আল-আমিনকে।
২২৩ বলে দেড়শ ছোঁয়া মাহফিজুলের সঙ্গে ক্রিজে আছেন রিজান হোসেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ময়মনসিংহ বিভাগ: ৮৭ ওভারে ২৯৯/৪ (মাহফিজুল ১৫৬*, খালিদ ৩৬, মুনিম ৫৬, মজিদ ৩৪, আল-আমিন ৮, রিজান ৩*; সঞ্জিত ১৭-৩-৭৩-০, শরিফ ১২-১-৩৫-০, ইফরান ১৮-২-৭৪-০, পরান ৩-১-৬-০, মুরাদ ২৭-৬-৭৭-৩, জয় ৯-২-১৮-১, শাহাদাত ১-০-১২-০)
তিনশ ছাড়িয়ে রংপুর
সিলেটে বরিশালের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করতে পারেননি রংপুরের কেউ। তবে সম্মিলিত চেষ্টায় প্রথম দিন শেষে শক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে তারা। মিম মোসাদ্দেক ও আবদুল্লাহ আল মামুনের ফিফটিতে ৫ উইকেটে ৩২০ রান করেছে দলটি।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে অনিক শাহরিয়ার শান্তু ও মিমের ব্যাটে ভালো শুরু পায় রংপুরকে। একটি ছক্কা ও চারটি চারে ৪১ রান করা অনিককে ফিরিয়ে ৮৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মইনুল ইসলাম।
প্রথম সেশনের দ্বিতীয় ঘণ্টায় ৮৬ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন মিম। সম্ভাবনাময় ইনিংসটিকে পূর্ণতা দিতে পারেননি তিনি। ১১ চারে ৭৭ রানে করে বিদায় নেন রুয়েল মিয়ার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। ভাঙে ৬৪ রানের জুটি।
চারটি চারে ৪৮ রান করে কয়েক ওভার পর বিদায় নেন ইকবাল হোসেন। ভালো শুরু পেয়ে ফেরেন নবীন ইসলামও। দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি জাহিদ জাভেদ।
এরপর আর দলকে উইকেট হারাতে দেননি মামুন ও আলাউদ্দিন বাবু। তাদের ৭২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিনের খেলা শেষ করে রংপুর।
আটটি চারে ৬১ রানে অপরাজিত আছেন মামুন। ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিংয়ে তিনটি ছক্কা ও চারটি চারে ৪৬ রানে খেলছেন বাবু।
কক্সবাজারে বৃষ্টির কারণে সিলেট ও খুলনার ম্যাচে টস করাও সম্ভব হয়নি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রংপুর বিভাগ: ৮০ অয়ারে ৩২০/৫ (অনিক ৪১, মিম ৭৭, ইকবাল ৪৮, নবীন ৩২, মামুন ৬১*, জাহিদ ৮, আলাউদ্দিন ৪৬*; কামরুল ১৬-২-৬৩-১, রুয়েল ১৬-১-৬৫-১, মইন ১২-০-৬০-১, মইনুল ১৮-০-৭৩-১, ইফতি ৫-০-১৯-০, ইসলামুল ১৩-৩-৩৪-১)
