সিলেটে বাংলাদেশের খেলা দেখে মিরপুরে ভালো করার ‘ব্লুপ্রিন্ট’ পেয়েছে নিউ জিল্যান্ড

সিলেটে বাংলাদেশের খেলা দেখে এই কন্ডিশনে ভালো করার উপায় পেয়েছেন বলে জানালেন নিউ জিল্যান্ডের লেগ স্পিনার ইস সোধি, সেই শিক্ষা তারা কাজে লাগাতে চান মিরপুরে।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Dec 2023, 11:26 AM
Updated : 4 Dec 2023, 11:26 AM

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এসে সুখ স্মৃতির একটু দোলা জাগতেই পারে ইশ সোধির মনে। এই তো, আড়াই মাস আগেই এই মাঠে রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে ৬ উইকেটের স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি। সেটি অবশ্য ছিল ওয়ানডে। এবার তারা এসেছেন টেস্ট খেলতে। প্রেক্ষাপটে বদল আছে আরও কিছু। ওই ওয়ানডে ম্যাচটি জিতে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল নিউ জিল্যান্ড। এবার তারা মিরপুরে টেস্ট খেলতে নামছেন সিরিজে পিছিয়ে থেকে।

সোধি অবশ্য দুটি থেকেই প্রেরণার উৎস খুঁজে নিচ্ছেন। ওয়ানডের সেই পারফরম্যান্স তাকে উজ্জীবিত করছে এই মাঠে টেস্টেও ভালো করতে। আর সিলেটে সদ্যসমাপ্ত টেস্ট ম্যাচে নিজেরা ভালো করতে না পারলেও তারা খুঁজে পেয়েছেন ভালো করার পথ। বাংলাদেশ যেভাবে খেলে ম্যাচ জেতার ভিত গড়েছে, কিউইরাও অনুসরণ করতে চায় সেই পথ।

সিলেট টেস্টে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে ছিল ৭ রানে। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটে-বলে পরিষ্কার ব্যবধান গড়েই শেষ পর্যন্ত ১৫০ রানে জিতে যায় স্বাগতিক দল।

মিরপুরে সোমবার অনুশীলনের ফাঁকে নিউ জিল্যান্ডের লেগ স্পিনার সোধি বললেন, এই কন্ডিশনে বাংলাদেশের খেলার ধরণকেই ধারন করতে চান তারা মিরপুরে।

“সিলেটে প্রথম টেস্টে হেরে যাওয়া দলে থাকাটা অবশ্যই বেশ কঠিন ছিল। তবে টেস্ট যতই এগিয়েছে, আমরা ততই ছন্দ খুঁজে পেয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে টেস্ট না খেলার পর এই কন্ডিশনে খেলাটা কঠিন হতোই এবং বাংলাদেশ যেভাবে খেলেছে, সত্যি বলতে আমাদেরকে উড়িয়ে দিয়েছে ওরা।”

“তবে পেছন ফিরে তাকিয়ে, এই ম্যাচই আমাদের একটা ‘ব্লুপ্রিন্ট’ দিয়েছে এই কন্ডিশনে সফল হওয়ার ব্যাপারে। আশা করি, আমরা সেসব পরের ম্যাচে মেলে ধরতে পারব।”

এই আঙিনায় তিনি নিজেকে মেলে ধরেছেন আগে। বিশ্বকাপের ঠিক আগে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে এখানে ৩৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বিধ্বস্ত করেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপ। এবার সংস্করণ ভিন্ন। তবে তার লক্ষ্য একই।

“যে কন্ডিশনে আগে সাফল্য পেয়েছি, সেখানে এরকম একটি ম্যাচ খেলতে নামার আগে অবশ্যই বাড়তি আত্মবিশ্বাস কাজ করে। এখানে ব্যাপারটি হলো নিজেদের মেলে ধরার, কন্ডিশন যতট সম্ভব বোঝার যে টার্ন করবে কি না। যদি না করে, আগ্রাসন আর রক্ষণের দিক থেকে কেমন করা যায়। দ্বিতীয় টেস্টের সম্ভাবনার দিকে তাই তাকিয়ে আছি। তার আগে দুই দিনের কঠোর অনুশীলন সেশন তো আছেই।”

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই নতুন চক্রে যে সিরিজগুলি থেকে নিউ জিল্যান্ড সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পয়েন্ট ধরে রেখেছিল, বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি সেখানে নিশ্চিতভাবেই থাকার কথা। সেখানেই একটি ম্যাচ হেরে বড় ধাক্কাই খাওয়ার কথা তাদের।

সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর কাজটি যে সহজ হবে না, সেটিও মানছেন সোধি। তবে তিনি ভরসা রাখছেন দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ওপর।

“গত এক দশকে এই দলের যে অসাধারণ সাফল্য, সেটির পেছনে বড় ভূমিকা ছিল জয় বা হার, দুটিকেই এক পাশে সরিয়ে রাখতে পারা। কোনো কিছুতেই নিশ্চিত ধরে না নেওয়া। ঘুরে দাঁড়ানোর কাজটি সবসময়ই কঠিন। তবে ম্যাচ হারলেও অভিজ্ঞ অনেকেই এই দলে আছে। আগেও আমরা এই অবস্থানে ছিলাম, এই কাজটা করেছি। আমরা জানি পরের ম্যাচে কীভাবে নিজেদেরকে মেলে ধরতে হবে এবং আশা করি, পরের ম্যাচে তা করতে পারব।”

মিরপুরে জিতে সিরিজ ড্র করার লক্ষ্য তো আছেই। এছাড়াও বাড়তি আরেকটি তাড়নাও আছে নিউ জিল্যান্ডের। এই টেস্ট দিয়েই শেষ হচ্ছে তাদের দীর্ঘ সফর পর্ব। সেই এপ্রিলের শুরুতে দেশের মাঠে সবশেষ খেলেছে তারা। নিজ দেশের মৌসুম শেষ হওয়ার পর গত কয়েক মাসে তারা সফর করেছে পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও বিশ্বকাপে ভারতে। যদিও সবাই সব সিরিজে খেলেননি। তার পরও বেশির ভাগ ক্রিকেটারকে লম্বা সময় থাকতে হয়েছে দেশের বাইরে।

মিরপুর টেস্টের পর তারা ফিরে যাবেন দেশে। শুরু হবে নিউ জিল্যান্ডের মৌসুম। শেষটায় জয়ের সুখস্মৃতিকে সঙ্গী করে দেশে ফিরতে চান সোধিরা।

“ভালোভাবে শেষ করতে পারাটা হবে দারুণ। অনেক অনেক লম্বা সময় ধরে আমরা বাইরে। দলের জন্য বেশ সফল ৬টি মাস কেটেছে। আবেগের অনেক চড়াই-উতরাই পেরোতে হয়েছে আমাদের, বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ওঠা. সেই ম্যাচ হেরে যাওয়া… যে পরিমাণ সময় পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকতে হয় আমাদের, শেষটায় এসে ওদের কন্ডিশনে জিতে দেশে ফিরতে পারাটা হবে দারুণ।”

“ছেলেরা সবাই দারুণ উজ্জীবিত। বাসে এখানে আসার পথে সবাই আলোচনা করছিল যে কীভাবে এই কন্ডিশনের মোকাবেলা করা যায় এবং এই কন্ডিশনে সত্যিই ভালো একটি দলের বিপক্ষে কীভাবে লড়াই করা যায়। ছেলেরা তাই দারুণ অনুপ্রাণিত। আশা করি, বিদায় নেওয়ার আগে আমরা নিজেদেরই কিছু উপহার দিতে পারব।”