তামিমের এখন মনে হচ্ছে, বাঁহাতি স্পিনার থাকলে ভালো হতো

পরের ম্যাচে বাঁহাতি স্পিনার খেলানোর ইঙ্গিত দিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 August 2022, 07:08 AM
Updated : 6 August 2022, 07:08 AM

বাংলাদেশ একাদশ ঘোষণার পরই প্রশ্নটা টুকটাক উঠতে শুরু করে। বোলিং বিভীষিকার ম্যাচ শেষে সেই প্রশ্নই সবচেয়ে বেশি উচ্চকিত। একাদশে কেন নেই কোনো বাঁহাতি স্পিনার? ম্যাচ শেষে অধিনায়ক তামিম ইকবালও বললেন, তিনি অভাব বোধ করেছেন একজন বাঁহাতি স্পিনারের।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শনিবার চার বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। তিন পেসারের সঙ্গে একমাত্র বিশেষজ্ঞ স্পিনার ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

পঞ্চম বোলার হিসেবে মূল দায়িত্ব ছিল যার, সেই মোসাদ্দেক হোসেনও মিরাজের মতোই অফ স্পিনার। স্পিনে অন্য যারা বিকল্প, মাহমুদউল্লাহ ও আফিফ হোসেন, তারাও অফ স্পিনার। স্পিন বিভাগে তাই বৈচিত্রের অভাব ছিল স্পষ্ট।

এমনিতে বাংলাদেশকে বরাবরই মনে করা হয় বাঁহাতি স্পিনারের দেশ। তিন বাঁহাতি স্পিনার নিয়েও অনেক ম্যাচ খেলেছে দল। বাঁহাতি স্পিন ও বাংলাদেশের জয় হাত ধরাধরি করেই ছুটেছে সবসময়। বাংলাদেশের দীর্ঘ ওয়ানডে ইতিহাসে কেবল একটি জয়ের ম্যাচেই ছিল না কোনো বাঁহাতি স্পিনার, ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

ইতিহাসকে এক পাশে রাখলে, স্রেফ এই ম্যাচের প্রেক্ষাপটেও একজন বাঁহাতি স্পিনার নেওয়ার যৌক্তিকতা ছিল যথেষ্টই। জিম্বাবুয়ে বরাবরই বাঁহাতি স্পিনে নড়বড়ে। তাদের ব্যাটিংয়ের বড় দুই ভরসা, দুই বাঁহাতি ক্রেইগ আরভিন ও শন উইলিয়ামস এই সিরিজে নেই। প্রথম ম্যাচে তাদের ব্যাটিং অর্ডারের শুরুর ৬ জনের সবাই ছিলেন ডানহাতি। ‘ম্যাচ আপ’-এর জন্য হলেও তাই একজন বাঁহাতি স্পিনার অনায়াসেই থাকতে পারতেন একাদশে।

বাংলাদেশের স্কোয়াডে বিশেষজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার আছেন দুইজন-তাইজুল ইসলাম ও নাসুম আহমেদ। গত মাসেই বাংলাদেশের সবশেষ ওয়ানডেতে সিরিজে অভিষেকে দারুণ বোলিং করেছেন নাসুম। সেই সিরিজের শেষ ম্যাচে তাইজুল নিয়েছেন ৫ উইকেট।

৫ উইকেট নেওয়ার পরের ম্যাচেই একাদশের বাইরে থাকার ঘটনা বাংলাদেশে তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটে বিরল।

জিম্বাবুয়ের কাছে ৩০৩ রানের পুঁজি নিয়ে ৫ উইকেটে হারার পর সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক তামিম স্বীকার করে নিলেন, একজন বাঁহাতি স্পিনার প্রয়োজন ছিল এ দিন।

“এখন চিন্তা করলে, অবশ্যই মনে হচ্ছে… (বাঁহাতি স্পিনার থাকলে ভালো হতো)। তবে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এটাকে ভুল বলব না। আজকে আগে বোলিং করলে হয়তো ভিন্ন চিত্র হতো। তবে অবশ্যই এটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে যে, পরের ম্যাচের কম্বিনেশন কী হতে পারে।”

তবে বাঁহাতি স্পিনার থাকলেই বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবে ম্যাচ জিতে যেত, সেটাও মানতে নারাজ অধিনায়ক। ১০৯ বলে ১৩৫ রান করা সিকান্দার রাজা ৪৩ রানে সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান। আরেক সেঞ্চুরিয়ান ইনোসেন্ট কাইয়া জীবন পান ৬৮ ও ৭৪ রানে। ক্যাচ পড়েছে এ দিন আরও দুটি। তামিম ইঙ্গিত দিলেন সেদিকেও।

“দিনশেষে যতই বলি না কেন যে ওটা করতে পারতাম, ওটা করতে পারতাম, কিন্তু আমাদের তো সুযোগ এসেছিল। সুযোগগুলো নিতে পারলে… হারার পর নানা যদি, কিন্তু আসবেই। কিন্তু আমরাই সুযোগ হাতছাড়া করেছি।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক