মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে টানা বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়ে গেল বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ডের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।
Published : 29 Dec 2023, 10:31 AM
নিউ জিল্যান্ড: ১১ ওভারে ৭২/২
ঘরের মাঠে সহায়ক উইকেট বানিয়ে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের নজির আছে বাংলাদেশের। তবে কিউইদের বিপক্ষে তাদের দেশে আগে কখনও এই সুযোগও তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
এবার সেই সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দল। নেপিয়ারে সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে এগিয়ে গেছে তারা। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে বাকি দুই ম্যাচের একটি জিতলেই সিরিজ নিজেদের করে নেবে সফরকারীরা।
সেই অভিযানে প্রথম ম্যাচে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। নেপিয়ারে সবশেষ দুই ম্যাচে একটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি জয়ের সুখস্মৃতি তাদের সঙ্গী। এছাড়া মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে গত বছর টেস্ট জয়ের অভিজ্ঞতাও আছে বাংলাদেশের।
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি থেকে ছিটকে গেলেন লিটন কুমার দাস। নেপিয়ারে প্রথম ম্যাচে ৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পথে চোট পান কিপার-ব্যাটসম্যান। শেষ দিকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে রান নিতে দেখা যায় তাকে।
ম্যাচ শেষে স্ক্যান করা হলে তার ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে সমস্যা ধরা পড়ে। আপাতত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে তার।
একই ম্যাচে ফিল্ডিংয়ের সময় ক্যাচ নিতে গিয়ে আঙুলে ব্যথা পান সৌম্য সরকার। তবে এক্স-রে রিপোর্টে কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি।
নিউ জিল্যান্ড সফরে আরও একবার কয়েনভাগ্য এলো নাজমুল হোসেন শান্তর পক্ষে। প্রথম টি-টোয়েন্টির মতো এবারও টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
লিটন কুমার দাসের চোটে একাদশে জায়গা পেলেন শামীম হোসেন। বাংলাদেশ দলে পরিবর্তন এই একটিই। লিটন না থাকায় এই ম্যাচে উইকেট কিপিংয়ের দায়িত্ব সামলাবেন রনি তালুকদার। এই সংস্করণে বাংলাদেশের অষ্টম কিপার তিনি।
বাংলাদেশ একাদশ: সৌম্য সরকার, রনি তালুকদার, নাজমুল হোসেন শান্ত, শামীম হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, আফিফ হোসেন, শেখ মেহেদি হাসান, তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান।
নেপিয়ারে সিরিজের প্রথম ম্যাচ হারের পর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির একাদশে কোনো পরিবর্তন আনেনি নিউ জিল্যান্ড। একই কম্বিনেশন নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর অভিযানে নামছে তারা।
নিউ জিল্যান্ড একাদশ: ফিন অ্যালেন, টিম সাইফার্ট, ড্যারিল মিচেল, গ্লেন ফিলিপস, মার্ক চ্যাপম্যান, জিমি নিশাম, মিচেল স্যান্টঞ্চার, অ্যাডাম মিল্ন, টিম সাউদি, ইশ সোধি, বেন সিয়ার্স।
আরও একবার শুরুতে দলকে সাফল্য এনে দিলেন শরিফুল ইসলাম। দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসে দ্বিতীয় বলেই তিনি ফেরালেন ফিন অ্যালেনকে।
অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বল দূর থেকে ড্রাইভ করেন অ্যালেন। জোরের সঙ্গে যাওয়া বল এক্সট্রা কভারে দারুণ ক্যাচ নেন রিশাদ হোসেন।
৫ বলে ২ রান করেছেন অ্যালেন। তিন নম্বরে নেমেছেন ড্যারিল মিচেল।
শুরুর ধাক্কা সামলে পাওয়ার প্লেতে পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলেছে নিউ জিল্যান্ড। ছয় ওভারে স্রেফ ১ উইকেট হারিয়ে তারা করেছে ৫৪ রান।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ফিন অ্যালেনকে ফিরিয়ে দারুণ শুরু করেন শরিফুল ইসলাম। ওই ওভারেই আরেক ওপেনার টিম সাইফার্টকে রান আউটের সুযোগ পান তিনি।
ড্যারিল মিচেলের সজোরে ড্রাইভ করা বল নন স্ট্রাইক প্রান্তে আঘাত করে সাইফার্টের হেলমেটে। বল চলে যায় শরিফুলের হাতে। ততক্ষণে পপিং ক্রিজের বাইরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সাইফার্ট।
তখন স্টাম্প ভাঙলেই রান আউট হতে পারতেন কিপার-ব্যাটসম্যান। তবে সে পথে হাঁটেননি শরিফুল।
এরপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন সাইফার্ট। পাওয়ার প্লে পর্যন্ত ৬ চার ও ১ ছক্কায় ১৯ বলে ৪২ রান করেছেন তিনি। মিচেল খেলছেন ১২ বলে ১০ রানে।
বিপজ্জনক হয়ে ওঠা টিম সাইফার্টকে ড্রেসিং রুমের পথ দেখালেন তানজিম হাসান। অফ স্টাম্পের বাইরে স্লোয়ার ডেলিভারি অন সাইডে বড় শটের চেষ্টায় হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন সাইফার্ট।
মিড অফ থেকে বাম দিকে অনেকটা পথ দৌড়ে নিরাপদে ক্যাচ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ২৩ বলে ৪৩ রান করে ফিরলেন সাইফার্ট।
৮ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৬১ রান। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান গ্লেন ফিলিপস। ড্যারিল মিচেল অপরাজিত ১৮ বলে ১৪ রানে।
পাওয়ার প্লে শেষে রানের গতিতে বাধ দিতে পেরেছে বাংলাদেশ। চার ওভারে স্রেফ ১৩ রান করতে পেরেছে নিউ জিল্যান্ড। দশ ওভার শেষে ইনিংসের মাঝ পথে তাদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৬৭ রান।
উইকেটের ঘরে সংখ্যাটি বাড়তে পারত আরও। দশম ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ওঠে দুটি ক্যাচ। কিন্তু একটিও নিতে পারেনি বাংলাদেশের ফিল্ডাররা।
ওভারের প্রথম বলে ডিপ কভার পয়েন্টে হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন ড্যারিল মিচেল। অনেকটা পথ দৌড়ে এসেও ঠিক নাগাল পাননি আফিফ হোসেন। বল পড়ে তার সামনে।
পরে পঞ্চম বলে লং অনে ক্যাচ দেন মিচেল। এবার সামনে ঝাঁপিয়ে বলের নাগালে পৌঁছালেও হাতে রাখতে পারেননি তানজিম হাসান। তখন ১৬ রানে ছিলেন মিচেল।
খেলা শুরুর পর থেকেই পড় ছিল গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। তবে মাত্রা খুব কম থাকায় খেলা চালিয়ে নিচ্ছিলেন দুই আম্পায়ার। শেষ পর্যন্ত আর পারলেন না তারা। বৃষ্টির মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বন্ধ করা হয়েছে খেলা। এরই মধ্যে চট দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে উইকেট।
খেলা থামার আগে ১১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে নিউ জিল্যান্ড করেছে ৭২ রান। ড্যারিল মিচেল ২৪ বলে ১৮, গ্লেন ফিলিপস ১৪ বলে ৯ অপরাজিত আছেন।
বৃষ্টি থামার কোনো আভাস নেই মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে। মাত্রা খুব বেশি নয়। তবে টানা বৃষ্টির কারণে খেলা শুরুতে বাড়ছে বিলম্ব।
ফল আনার জন্য ন্যুনতম ৫ ওভারের ম্যাচ শুরুর শেষ সময় বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ২৮ মিনিট। এর মধ্যে খেলা শুরু না করা গেলে পরিত্যক্ত হবে ম্যাচ।
বৃষ্টির কারণে যদি ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে আসে, তাহলে বাংলাদেশের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে ৫ ওভারে ৪৬ কিংবা ১০ ওভারে ৮৫ রান।
টানা বৃষ্টি পড়ছে মাঠে। মাঝে বৃষ্টির বেগ কিছুটা বাড়লেও এখন কমেছে অনেকটাই। তবে থামার কোনো আভাস নেই মাঠে। ব্রডকাস্ট ক্যামেরায় ছাতা মাথায় মাঠকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে চতুর্থ আম্পায়ারকে।
ম্যাচ শুরুর শেষ সময় বিকেল ৩টা ২৮ মিনিট। অর্থাৎ আর পৌনে এক ঘণ্টাও বাকি নেই। তাই খেলা শুরু নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত জয় হলো প্রকৃতির। টানা বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়ে গেল দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। যার ফলে শেষ ম্যাচ হেরে গেলেও সিরিজ হারতে হবে না বাংলাদেশকে।
বৃষ্টিতে খেলা পরিত্যক্ত হওয়ার আগে নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনেছিল বাংলাদেশ। ১১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে নিউ জিল্যান্ড করতে পেরেছিল ৭২ রান।
টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে শুরুতেই ফিন অ্যালেনের উইকেট নেয় বাংলাদেশ। এরপর টিম সাইফার্টের ঝড়ে পাওয়ার প্লেতে ৫৪ রান করে ফেলে নিউ জিল্যান্ড।
সেখান থেকে আবার রাশ টেনে ধরে সফরকারীরা। পরে ৫ ওভারে আরও ১ উইকেট হারিয়ে কিউইরা করতে পারে স্রেফ ১৮ রান।
মাউন্ট মঙ্গানুইয়েই রোববার সিরিজে শেষ ম্যাচ। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ১১ ওভারে ৭২/২ (অ্যালেন ২, সাইফার্ট ৪৩, মিচেল ১৮*, ফিলিপস ৯*; মেহেদি ২-০-১৫-০, শরিফুল ২-০-১৬-১, তানজিম ২-০-১৫-১, মুস্তাফিজ ২-০-১৬-০, রিশাদ ৩-০-১০-০)
ফল: ম্যাচ পরিত্যক্ত