সমালোচনা সয়ে নতুন চ‍্যালেঞ্জের জন‍্য প্রস্তুত মিঠুন

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক জানালেন, বাইরের কিছু নিয়ে তিনি আর ভাবেন না, ভাবতে চানও না।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 July 2022, 12:18 PM
Updated : 28 July 2022, 12:18 PM

বাইরের সমালোচনা কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যমের ট্রল নিয়ে একদমই ভাবছেন না মোহাম্মদ মিঠুন। তার সব মনোযোগ এখন নিজের ব‍্যাটিং নিয়ে। নেতৃত্ব পাওয়ার পর মনোযোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের দিকেও। এর বাইরে কোথায় কী হচ্ছে, জানতেও চান না তিনি। ক‍্যারিবিয়ান সফরে সর্বোচ্চটা দিয়ে কেবল করে যেতে চান নিজের কাজটুকু।

মাঝে মধ‍্যে ঝলক দেখালেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি মিঠুন। তিন সংস্করণের কোনোটিতেই হতে পারেননি থিতু। গত বছর ধাপে ধাপে জায়গা হারান টেস্ট, টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে দলে।

শেষ দিকে এসে ছিলেন প্রবল সমালোচনার মুখে। প্রতিটি ব‍্যর্থতার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যমে চলতো ট্রল। বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে ৩১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার জানালেন, বাইরের কথা নয়, তার মনোযোগ মাঠের ক্রিকেটে।

“বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে অনেক বেশি মাতামাতি হয়। (ট্রল, সমালোচনা) এগুলো সামলানোর সামর্থ‍্য না থাকলে আমি ক্রিকেট খেলতে পারব না। এটা আমি অনুভব করি। সেটা সামলানোর মতো আমার মানসিক দৃঢ়তা থাকতে হবে, আমার একটা পথ জানা থাকতে হবে।”

“(যে সব সমালোচনা ও ট্রলের কথা বলছেন) সেসব অনেক পুরাতন কথা। এর মধ‍্যে নিজেকে কীভাবে ম‍্যানেজ করতে হবে, এর জন‍্য আমি যথেষ্ট সময় পেয়েছি। আমি আবার ক্রিকেটে ফিরেছি, ক্রিকেট খেলছি। অবশ‍্যই এখন আমাকে একটা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে কীভাবে সর্বোচ্চটা দিতে পারি, সেখানেই আমার পূর্ণ মনোযোগ। আর কোনদিকে কী হচ্ছে তা আমার ভাববার ব্যাপার না, ভাবিও না।”

দুটি চার দিনের ম‍্যাচ ও তিনটি ওয়ানডে খেলতে শুক্রবার সন্ধ‍্যায় ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সফরের আগে মিঠুন, সৌম‍্য সরকার, সাব্বির রহমানরা প্রস্তুতি নেন খুলনায়। মিঠুন জানান, সে সময়ই তারা ঠিক করেছিলেন, বড় দৈর্ঘ‍্যের ক্রিকেটে ভালো করার একটা পথ তাদের বের করতে হবে।

“লাল বলে সবসময় আমাদের একটা চ্যালেঞ্জ থাকে। লাল বলে (ঘরোয়া ক্রিকেটে) সেরকম চ্যালেঞ্জ আমরা কখনো মোকাবেলা করি না। জাতীয় দলে গিয়েই আমাদের সেটার মুখোমুখি হতে হয়। এই ব‍্যাপারটা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। এখান থেকে আমরা কীভাবে বের হতে পারি, কীভাবে উন্নতি করতে পারি, এ নিয়ে কোচ ও ম‍্যানেজমেন্ট অনেক কাজ করেছেন।”

“লাল বলে আমরা সব দিক থেকেই একটু সংগ্রাম করছি। দল হিসেবে আমরা কীভাবে উন্নতি করতে পারি সেটা ভাবছি। কীভাবে ওদের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি, ওদের চ‍্যালেঞ্জ দিতে পারি। চ‍্যালেঞ্জ দেওয়ার মূল উদ্দেশ‍্য জেতা। কীভাবে আমরা জেতার মতো জায়গায় যেতে পারব, এসব নিয়েই খুলনায় সব সময় কথা হতো। আমরা দল হিসেবে সেটা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি।”

এমনিতে ‘এ’ দলের সিরিজে দলের চেয়ে খেলোয়াড়দের পারফরম‍্যান্সই বেশি গুরুত্ব পায়। উঠতি খেলোয়াড়রা দেখাতে চান তারা প্রস্তুত। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া খেলোয়াড়দের চেষ্টা থাকে উন্নতির ছাপ রাখার। তবে মিঠুন জানালেন, এবার এই প্রবণতার বাইরে যেতে চান তারা।

“খুলনায় থাকতেই আমি জানি, আমি অধিনায়ক। এরপর আমরা যে কাজটা শুরু করেছি, ব‍্যক্তি পারফরম‍্যান্সের চেয়ে দলীয় পারফরম‍্যান্সের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছি। দল হয়ে কীভাবে খেলতে পারি। খুলনাতে আমরা খুব ভালো দলে আমরা খেলেছি। আমি মনে করি, এটা যদি আমরা পুরো সিরিজে ধরে রাখতে পারি তাহলে সফরে ভালো কিছু আশা করছি।”

“ঘরোয়া ক্রিকেটের চেয়ে ‘এ’ দলে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট হয়। আমরাও বাংলাদেশের ক্রিকেটকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের বিপক্ষে আগেও খেলেছি। ভবিষ্যতে জাতীয় দলে যারা খেলবে, ওদের ‘এ’ দলে তারাই খেলে। ‘এ’ দল হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনেক শক্তিশালী। আশা করি, অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট হবে। ওখানে ভালো করতে পারলে আন্তর্জাতিক মানের না হলেও কাছাকাছি কিছুটা ফ্লেভার পাওয়া যাবে।”

সফরে ম‍্যানেজার হিসেবে যাবেন জাতীয় দলের নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক। প্রধান কোচ হিসেবে থাকবেন মিজানুর রহমান। ক‍্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ভালো করার ব‍্যাপারে আশাবাদী সাবেক এই পেসার।

“আমাদের পক্ষে যতটুকু প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব ছিল, সেটা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। খুলনায় গিয়ে দুটি ওয়ানডে খেলেছি, চার দিনের ম‍্যাচ খেলেছি। প্রস্তুতির দিক থেকে বলব, আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি।”

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের বিপক্ষে প্রথম আনঅফিসিয়াল টেস্ট ৪ অগাস্ট থেকে, পরেরটি ১০ অগাস্ট থেকে। একদিনের ম্যাচের সিরিজের তিন ম্যাচ ১৬, ১৮ ও ২০ অগাস্ট। সবকটি ম্যাচই হবে সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামি স্টেডিয়ামে।

চার দিনের ম্যাচর স্কোয়াড: সাদমান ইসলাম, সাইফ হাসান, মাহমুদুল হাসান জয়, জাকির হাসান, মোহাম্মদ মিঠুন, ফজলে রাব্বি মাহমুদ, শাহাদত হোসেন দিপু, জাকের আলি অনিক, নাঈম হাসান, তানভির ইসলাম, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, রেজাউর রহমান রাজা, মুকিদুল ইসলাম, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি, এনামুল হক।

একদিনের ম্যাচের স্কোয়াড: সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদুল হাসান জয়, জাকির হাসান, শাহাদত হোসেন দিপু, জাকের আলি অনিক, সাব্বির রহমান, নাঈম হাসান, রকিবুল হাসান, রেজাউর রহমান রাজা, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, মুকিদুল ইসলাম, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক